বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ০৪:৫৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
সিংড়ায় নাতি জন্মের আনন্দে নানার ব্যতিক্রমী আয়োজন বাড়িয়ার ইউপি চেয়ারম্যান হাবিবসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা: হয়রানীমূলক বলছেন এলাকাবাসী টাইমস হায়ার এডুকেশন ইমপ্যাক্ট র‌্যাঙ্কিংয়ে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষে গাকৃবি টাইমস হায়ার এডুকেশন ইমপ্যাক্ট র ্যাংকিংয়ে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষে গাকৃবি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি : বৈশ্বিক কূটনীতির সর্বোচ্চ মঞ্চে বাংলাদেশ ব্যাংক খাতের সংস্কারে ৪৫ কোটি ডলার ঋণ অনুমোদন বিশ্বব্যাংকের বিশ্বকাপ ২০২৬: প্রাপ্তির আনন্দ আর উন্মাদনার সাথে হারানোর মাতম ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের প্ল্যানারি সেশনে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শ্রীপুরের রাজাবাড়ীতে আওয়ামী লীগের অপতৎপরতার বিরুদ্ধে বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল কালীগঞ্জে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ছেলের পরীক্ষায় নাম্বার কম দেওয়ায় শিক্ষিকাকে নির্যাতন

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি : বৈশ্বিক কূটনীতির সর্বোচ্চ মঞ্চে বাংলাদেশ

  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬
  • ৪৯ ভিজিটর

নূর আহমেদ:  দীর্ঘ ৪০ বছরের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বাংলাদেশ জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ (UNGA)-এর ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে জয়লাভ করেছে। বিশ্বদরবারে দেশের এই গৌরবময় ও ঐতিহাসিক অর্জনের মুহূর্তে আমি অন্তরের অন্তস্তল থেকে গভীর কৃতজ্ঞতা ও আন্তরিক অভিনন্দন জানাচ্ছি আমাদের বর্তমান সফল পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে। তাঁর দূরদর্শী কূটনীতি এবং অন্তর্বর্তী সময় থেকে শুরু করে বর্তমান সময় পর্যন্ত নিরলস প্রচেষ্টার ফলেই বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের এই অভাবনীয় সাফল্য সম্ভব হয়েছে।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হওয়া বাংলাদেশের জন্য এটিই প্রথম নয়। এর আগে ১৯৮৬ সালে সংস্থাটির ৪১তম সাধারণ অধিবেশনে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন বাংলাদেশের কিংবদন্তি কূটনীতিক ও রাজনীতিবিদ হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী। তিনি ছিলেন এই গৌরব অর্জনকারী প্রথম বাংলাদেশি। কাকতালীয় এবং চমৎকার বিষয় হলো, দীর্ঘ ৪০ বছর পর আজ যিনি বাংলাদেশকে এই অনন্য গৌরব এনে দিলেন, সেই ড. খলিলুর রহমান স্বয়ং ১৯৮৬ সালের সেই ঐতিহাসিক ৪১তম অধিবেশনে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর সহকারী হিসেবে কাজ করেছিলেন। ইতিহাসের কী অপূর্ব পুনরাবৃত্তি! ৪১তম অধিবেশনে যে চারাগাছ রোপিত হয়েছিল, ৮১তম অধিবেশনে এসে তারই পূর্ণতা দিলেন ড. রহমান।

ড. খলিলুর রহমানের বর্ণাঢ্য অতীত ড. খলিলুর রহমানের এই বিশাল সাফল্যে আনন্দিত হয়ে নিজের অজান্তেই মনের ভেতরে পুরোনো স্মৃতিগুলো হাতড়াচ্ছিলাম। হুট করেই গতকাল মনে পড়ে গেল এক সোনালী অতীতের কথা। ১৯৯১ সালে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে য়খন বিএনপি সরকার গঠিত হয়, ঠিক সেই সময়ে ড. খলিলুর রহমান জেনেভায় জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থা (UNCTAD)-এ ‘স্পেশাল অ্যাডভাইজার’ বা বিশেষ উপদেষ্টা হিসেবে যোগ দেন। এটি ছিল তাঁর আন্তর্জাতিক সিভিল সার্ভিসে যোগদানের সূচনা। পরবর্তীতে তিনি সেখানে ট্রেড অ্যানালাইসিস ব্রাঞ্চের প্রধান এবং এলডিসি (LDC) প্রোগ্রামের চিফ হিসেবে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯১ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত টানা ২৫ বছর তিনি নিউইয়র্ক ও জেনেভায় জাতিসংঘ সচিবালয়ে জ্যেষ্ঠ নেতৃত্বের পদে আসীন থেকে দেশের নাম উজ্জ্বল করেছেন।

মেধার স্বাক্ষর ও দেশীয় কূটনীতিতে অবদান জাতিসংঘে যাওয়ার বহু আগে থেকেই ড. খলিল ছিলেন মেধার এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। স্বাধীনতার পর অনুষ্ঠিত দেশের প্রথম নিয়মিত বিসিএস (BCS) পরীক্ষায় প্রথম স্থান অর্জন করে তিনি সরকারি সেবায় এক দুর্দান্ত ও ঐতিহাসিক সূচনা করেছিলেন। ১৯৭৯ সালে বাংলাদেশ ফরেন সার্ভিসে (পররাষ্ট্র ক্যাডারে) যোগ দিয়ে তিনি অর্থনৈতিক কূটনীতি, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য আলোচনা এবং দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতা কাঠামোতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
১৯৮৬ থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত নিউইয়র্কে জাতিসংঘের স্থায়ী মিশনে ফার্স্ট সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালেই তিনি বিশ্বকূটনীতির মূল ধারায় প্রবেশ করেন। সে সময় তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অর্থনৈতিক ও আর্থিক কমিটিতে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন এবং স্বল্পোন্নত দেশগুলোর (LDCs) পক্ষে প্রধান মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করে বিশ্বনেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলেন।

সংকট উত্তরণে ও নতুন বাংলাদেশ উন্মেষে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারে ড. খলিলুর রহমান পুনরায় উচ্চপর্যায়ের জাতীয় দায়িত্বে প্রত্যাবর্তন করেন। রাষ্ট্র সংস্কারের সেই জটিল সময়ে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস তাঁর ওপর আস্থা রাখেন। ২০২৪ সালে রোহিঙ্গা সংকটের কূটনৈতিক ও মানবিক কৌশল তদারকির জন্য তাঁকে বিশেষ দায়িত্ব প্রদান করা হয়। এরপর ২০২৫ সালে তিনি দেশের জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক দায়িত্বের সফল নেতৃত্ব গ্রহণ করেন।

নতুন সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে বিশ্বজয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সফল সমাপ্তির পর অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) বিপুল ব্যবধানে জয়লাভ করে দেশের শাসনভার গ্রহণ করে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত এই নতুন ও গতিশীল সরকারে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব লাভ করেন ড. খলিলুর রহমান।

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের অল্প কিছুদিনের মধ্যেই তাঁর বলিষ্ঠ নেতৃত্ব, সুদীর্ঘ অভিজ্ঞতা এবং আন্তর্জাতিক মহলে গ্রহণযোগ্যতার প্রমাণ মিলল জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদ জয়ের মধ্য দিয়ে। এই বিজয় কেবল ড. খলিলুর রহমানের ব্যক্তিগত বিজয় নয়, এটি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের নতুন কূটনৈতিক দর্শনের এবং সামগ্রিকভাবে চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী ‘নতুন বাংলাদেশে’র এক বিশাল আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। ৮১তম সাধারণ অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে তিনি বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষা করবেন এবং দেশের ভাবমূর্তিকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবেন, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

 

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

Comments are closed.

এই বিভাগের আরও খবর