বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬, ১২:১২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
ভারতবর্ষের আদি অন্ত ও অখন্ড ভারতের দ্বিবাস্বপ্ন ভারত সীমান্তের স্পর্শকাতর স্থানে কাঁটাতারের বেড়া দেবে বাংলাদেশ: সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাউজানে ফটিকছড়ির যুবকের রহস্যজনক মৃত্যু, পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ পরিবারের আবুধাবিতে হিজরি ১৪৪৮ নববর্ষকে স্বাগত জানিয়ে নাতে মোস্তফা মাহফিল চট্রগ্ৰাম ফটিকছড়ি হালদা বিপন্ন করে নির্মাণ হচ্ছে তীররক্ষা বাঁধ কালিগঞ্জে ভুয়া চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অভিযান, কারাদণ্ড দিল ভ্রাম্যমাণ আদালত বোরকা নিয়ে সংসদে সরকারি দলের এমপির আপত্তিকর বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ বিরোধী দলের বহিরাগত প্রো-ভিসি নিয়োগ প্রত্যাখ্যান: গাকৃবিতে শিক্ষক সমিতির মানববন্ধন, প্রশাসনিক ভবন অবরুদ্ধ বিদ্যুৎস্পৃষ্টে কালিগঞ্জের মহসিন আলীর মৃত্যু, এলাকায় শোক মাভাবিপ্রবিতে ‘টেক্সটাইল ও ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা’ বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত

ভারতবর্ষের আদি অন্ত ও অখন্ড ভারতের দ্বিবাস্বপ্ন

  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬
  • ১০ ভিজিটর
হাফিজ সিদ্দিকী : প্রায় ৩৫০০ বছরে ভারতবর্ষের মানব বসতির সূচনা। রাশিয়ার উড়াল পর্বতমালার অসমতল ভূমি থেকে একদল যাযাবর ভারতীয় ভূখণ্ডে আগমন করে। সমতল ও উর্বর ভূমিতে তারা বসতিস্থাপন করে। বসবাসের জন্য মানব সভ্যতার সূচনা তারাই শুরু করে। সেই থেকে আজকের সময়কে প্রধানতম ৫টি স্তরে ভাগ করা যায়।(১) সিন্ধূসভ্যতা (২) আর্যদের বৈদিক যুগ (৩) মধ্যযুগ বা ইসলামী শাসন (মোগল) (৪) বৃটিশ আগ্রাসন যুগ (৫) ১৯৪৭ সালের পরের ঘটনাবলী।
১২০০ সালের সিন্ধূসভ্যতা হয়ে ভারতের মুল ভূখণ্ড মোহাম্মদ বিন কাসিম নানা ঘাত প্রতিঘাত অতিক্রম করে এই এলাকা আরব্য মহাজনদের আস্তানা গড়ে তুলতে সেন পাল নৃগোষ্ঠী অশোকের বৌদ্ধদের ও হিন্দুদের আঞ্চলিক দাপটের অবসান ঘটিয়ে এখানে ইসলামের দাওয়াতের সূচনা করেন। উচ্চবর্ণ নিম্নবর্ণের জাত অজাতের সীমারেখা মুছে ফেলে জনগনকে ইসলামের সাম্যের পতাকা তলে সামিল করে। সেই থেকে মোগল সাম্রাজ্যের অপ্রতিরোধ্য ধারা ও মুসলিম শাসনের ৮৫০ বছরের পর নবাব আলিবর্দী খানের উত্তরসূরী নবাব সিরাজউদ্দৌলা পর্যন্ত ভারতে শাষন গড়ন ও অবকাঠামো নির্মাণ করে এই অঞ্চলকে এক উচ্চতায় নিয়ে গেছে। আজো মুসলিম শাষকদের ঐতিহাসিক স্থাপনা বিশ্বের কোটি ভ্রমন পিপাসুদের দৃষ্টি শীতল করে। দেওয়ানে আম, দেওয়ানে খাস, মতিমহল, আগ্রার তাজমহল, দিল্লির ঐতিহাসিক গেইট সহ নানা কারুকার্য পৃথিবীর অন্যতম আশ্চর্য।
পারিবারিক অহমিকা, বৃটিশদের সুক্ষ্ম ষড়যন্ত্র ও কুটিল হিন্দুদের সহযোগিতায় কলকাতার কাশিম বাজার অন্ধকার কুঠিরের সলা পরামর্শে এই জঘন্যতম মীরজাফর ঘষেটিদের সহযোগিতায় ১৭৫৭ সালে পলাশীর আম্রকাননে ইসলামী শাসনের জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়। সেই হারানো ক্ষমতা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে ১৯০ বছর অতিবাহিত হয়েছে। বালাকোট থেকে বেরলবি, তিতুমির, হাজী শরীয়তুল্লাহ, ক্ষুদিরাম হয়ে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত ভারতবর্ষ বিদেশী আগ্রাসন থেকে মুক্তি পেলেও ধর্মিয় উম্মাদনা মাথাচাড়া দিয়ে পুরো ভারতের মাটিতে বার বার রক্তে রঞ্জিত হয়।
বিশেষকরে বৃটিশের মোসাহেবি চাটুকার হিন্দুরা ভুমি বন্দোবস্ত নিয়ে সামন্তবাদি প্রথার আড়ালে হিন্দু মুসলিম বিভাজন দাংগা হাংগামার ফলশ্রুতিই ১৫ কোটি মুসলিম জনগোষ্ঠী কংগ্রেসের উপর থেকে আস্থা হারিয়ে ফেলে। ফলে ১৯০৫ সালে নবাব স্যার সলিমুল্লাহ মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠা করেন। অন্যান্যের মতো কায়েদে আজম মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ১৯৩০ এর দশকে মুসলিম লীগে যোগদান করেও আইন পেশার জন্য লন্ডনে ফিরে যান। এই দিকে নেহেরু গান্ধীর আসকারায় হিন্দুবাদীত্বের বাড়াবাড়ির ফলে বিভিন্ন স্থানে ধর্মীয় দাংগা ছড়িয়ে পড়ে। এদিকে মিঃ জিন্নাহ ফিরে এসে মুসলিম লীগে যোগদান করেন। শহীদ সোহরাওয়ার্দী, এ কে ফজলুল হক, বগুড়ার মোহাম্মদ আলী, কবি ইকবাল, লেয়াকত আলী খান প্রমুখ বুঝতে শুরু করলেন ভারতবাসি কখনো এক জাতি হতে পারেনা।
এই সব ঘটনার প্রেক্ষিতে দ্বিজাতিতত্ত্বের উদ্ভাবন শুরু হয়। কংগ্রেস ও মুসলিম লীগ দ্বিধাবিভক্ত হয়ে দ্বিজাতিতত্ত্বের মূল ভিত্তিতে কাজ শুরু করেন। এই পরিস্থিতিতে কবি ইকবালের স্বপ্ন পাকিস্তানের মুসলিম ভূখন্ডের দাবী জোরালো হতে থাকে। সেই থেকে পান্জাব কাস্মির বাংলা আসামের মুসলিম জনগনের শ্লোগান ছিলোঃ নারায়ে তাকরির আল্লাহ আকবর, পাকিস্তানের উৎস কি লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ লড়কে লেংগে পাকিস্তান ইত্যাদি।
জনসংখ্যা হারে ভারতবর্ষে মুসলমানদের সংখ্যা ছিলো এক তৃতীয়াংশ। এবং ভারতের ভূখণ্ড ভাগ হবে জনসংখ্যার ভিত্তিতে। পাকিস্তান, বাংলাদেশ, মিলিয়ে পেলো প্রায় ৮ লক্ষ বর্গমাইল, পক্ষান্তরে ভারত পেলো প্রায় ৩৩ লক্ষ বর্গমাইল। ১৯৪৭ সালের ১৪/১৫ আগষ্ট আমরা আলাদা ভুমি পেলেও বাংলাকে করা হলো দ্বিখণ্ডিত অনুরূপ কাস্মিরের অবস্থা তাই। এমনকি বৃটিশ আমলের স্বমরাস্ত্র পুরো পাকিস্তান পেলো ১৩‰ শতাংশ। দূর্ভাগ্য জনক ভাবে মুসলিম জাতি হয়েও পাকিস্তান পুর্ব অঞ্চলে বৈষম্যের কারনে ১৯৭১ সালে অধিকার আদায়ে আমাদেরকে আরেকটি যুদ্ধে লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবন দিয়ে স্বাধীনতা লাভ করতে হয়েছে। ভারত এই যুদ্ধে সহযোগিতা করে স্বাধীনতার ঊষালগ্নে থেকে লুটপাট শোষন পানি আগ্রাসন সীমান্ত হত্যা আমাদের অভ্যন্তরীণ ও পররাষ্ট্র বিষয়ে স্বাধীনতা হরন করে রেখেছিলো বিগত ৫৫ বছর। স্বাধীন হয়েও আমরা একটি পরাধীন রাজ্যে খবরদারিতে চলতে হয়েছিলো। যারা বংগভংগের বিরোধী সেই রবি ঠাকুরের ষড়যন্ত্র বাস্তবায়ন আর হবেনা।
২০২৪ সালে জুলাই বিপ্লবের জন্য আমি শেখ হাসিনা বা আওয়ামী লীগকে একক দায়ী করতে পারিনা। আমাদের ৫৫ বছরে ভারতের দাদাগিরির ফলে কোনো সরকার স্বাধীন সরকার ছিলোনা। প্রকারন্তরে আমরা শিয়াল থেকে মুক্তি পেতে বাঘের খাঁচায় বন্দী হয়েছিলাম। আমাদের তরুন প্রজন্ম ও জনগন আওয়ামী লীগকে ক্ষমতাচ্যুত করেনি বরং একটি আধিপত্যবাদ মুক্ত হয়েছিলো। যদিও আমাদের সরকার ও স্বাধীনতার বিরুদ্ধে এখনো ষড়যন্ত্র চলমান রয়েছে। ইতিমধ্যে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর অখন্ড ভারতের শ্লোগান যেমন আমাদেরকে আতংকিত করেছে।
গত সপ্তাহে ভারতের নবনিযুক্ত হাই কমিশনার সাংবাদিকদের স্পষ্ট করে দিয়েছেন ১৪০ কোটি জনগনের সাথে ২০ কোটি জনগনকে এক করতে পারলে ভারত হবে বিশ্বের পরাশক্তি। আর আমাদের জনগন মনে করে আরব বিশ্বের সাথে যেমন একটি ক্যান্সার দেশ রয়েছে অনুরুপ আমাদের উপমহাদেশের ও একটি ক্যান্সার পরাশক্তি বিষাক্ত ছোবল মারার জন্য পরিকল্পনা করছে। আমরা ১৮/২০ কোটি জনগন কাউকে পরাশক্তি করার ঠিকাদারি নেইনি। সূতরাং নিচের ছবির মহান নেতাদের তীক্ষ্ম দূরদর্শিতায় আমরা এখন যেমন আছি তেমনি থাকতে চাই। যারা আমাদের দেশ নিয়ে আবারও দালালি করে উচ্ছিষ্ট খাবার স্বপ্নে বিভোর তাদের প্রতিহত করবে এই স্বাধীন জনতা, ইনশাআল্লাহ।
(হাফিজ ছিদ্দিকী : মুক্তিযোদ্ধা, সাংবাদিক, কলামিস্ট এবং উপ-সম্পাদক, ঢাকা গ্যাজেট )

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

Comments are closed.

এই বিভাগের আরও খবর