রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ১১:১২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
পর্যটন খাতে জিডিপির অবদান ৭ শতাংশে নিতে চায় সরকার : আফরোজা খানম সড়ক দুর্ঘটনায় আহত সাংবাদিক শেখ রাজিব হাসানের মৃত্যু বিদ্যুৎ খাতকে অস্থির করতে একটি চক্র বেশ সক্রিয় : প্রধানমন্ত্রী গাজীপুরে রোটারি ক্লাব অব ভাওয়ালের ১৪তম অভিষেক অনুষ্ঠিত ১৪ দেশের প্রতিরক্ষা জোটের প্রধান কমান্ডার নিয়োগ সেই গণভবনই এখন ‘জুলাই জাদুঘর’ কালীগঞ্জ  পৌরসভার প্রশিক্ষণার্থীদের মাঝে যাতায়াত ভাতা ও সনদপত্র বিতরণ গ্রেপ্তার এড়াতে কার্নিশ থেকে পড়ে গাজীপুর সিটির সাবেক কর্মকর্তার মৃত্যু ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নেপথ্য যোগাযোগে কাজ করছে পাকিস্তান মাভাবিপ্রবিতে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে শোভাযাত্রা ও সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা

বিশ্বকাপ ২০২৬: প্রাপ্তির আনন্দ আর উন্মাদনার সাথে হারানোর মাতম

  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬
  • ১৩৭ ভিজিটর

নূর আহমেদ : বিশ্বকাপ ফুটবল নিয়ে উন্মাদনা পুরো বিশ্ব জুড়ে। বাংলাদেশে বোধকরি একটু বেশী। আমরা যারা “ফুটবলের রাজা পেলে” গল্প পড়ে বড় হয়েছি তাদের অধিকাংশই ব্রাজিলের সমর্থক। ৮০ দশকে মেরাডোনার যাদুতে আর্জেন্টিনার জনপ্রিয়তা আকাশ ছুঁয়ে যায়। আমি আর্জেন্টিনার খেলাও দেখি। ভালো লাগে। মনে পড়ে ৮৬’র বিশ্বকাপ জয়ের পর আর্জেন্টিনা ৯০ সালের বিশ্বকাপে ফাইনালে ওঠে এবং আর্জেন্টিনা রানার্স-আপ হয়। আমার এবং অনেকের মতে ফাইনালে আর্জেন্টিনা হেরেছে শুধুমাত্র রেফারির বিতর্কিত সিদ্ধান্তের কারনে। আমার মনে পড়ে মেক্সিকান রেফারি এদগার্দো কোডেসালের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে নিয়ে তখন দেয়াল পত্রিকায় প্রকাশিত কবিতায় কোডেসালের গায়ের ছাল তুলতে লিখেছিলাম।

যাই হোক এবারে চলতি বিশ্বকাপে ফিরে আসি। সিডিউল না মেলায় ইচ্ছা থাকার পরও নিয়মিত খেলা দেখা যাচ্ছে না। সময় সুযোগে খেলার কিছু অংশ দেখা হয়। ফ্রান্স, আর্জেন্টিনা, জার্মানী অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। ব্রাজিল, স্পেনসহ আরো কয়েকটি দেশ ভালো করছে। গতকাল ২৩/০৬/২০২৬ তারিখ রাত ১১ টায় ক্রিষ্টিয়ানো রোনাল্ডো’র পর্তুগালের সাথে উজবেকিস্তানের খেলা ছিল। আমাদের ১২ বছরের ছেলে সাদ রোনাল্ডো’র ফ্যান, তাই তার প্রিয় দল পর্তুগাল। আবার দেশ হিসেবে জার্মান ফুটবলও দল তার প্রিয়। গতরাতে তার সাথে খেলা দেখতে গিয়ে আমি ঘুমিয়ে পড়ি। বার বার তার চিৎকারে আমার ঘুম ভাঙ্গে জেগে দেখি পর্তুগাল একের পর এক গোল দিয়েই যাচ্ছে। সকালে উঠে দেখলাম কঙ্গো’র বিরুদ্ধে কলম্বিয়ার ছন্দময় খেলা। শত ব্যাস্ততায়ও বিশ্বকাপ কেবল টানছে। অফিসে যেতে যেতে বিশ্বকাপ নিয়ে কিছু ভাবনা মাথায় এলো।

নিশ্চিতভাবেই, বিশ্বকাপ ২০২৬ ফুটবল ইতিহাসের পূর্ববর্তী সব আসরকে ছাড়িয়ে গেছে এবং বেশ কিছু ইনোভেটিভ পরিবর্তনের কারণে এটি অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি ব্যতিক্রমী। যেমন- ইতিহাসে প্রথমবারের মত ৩টি দেশের যৌথ আয়োজন, দলের সংখ্যা ৪৮ এ বৃদ্ধি, প্রযুক্তির চমক চার্জিং ফুটবল, বাধ্যতামূলক হাইড্রেশন বিরতি এবং সর্বোপরি ডায়াসফোরার বিশ্বকাপ। অর্থাৎ জন্ম একদেশে পূর্বপুরুষ অন্যদেশে। অংশগ্রহণকারী ৪৮টি দলের মধ্যে মাত্র কয়েকটি দল বাদে প্রায় প্রতিটি দলেই এমন খেলোয়াড় আছেন যাদের জন্ম এক দেশে কিন্তু খেলছেন পূর্বপুরুষের দেশের হয়ে। ফ্রান্সে জন্ম নেওয়া ৯৮ জন খেলোয়াড়ের মধ্যে ৭৬ জনই অন্য দেশের হয়ে খেলছেন। আবার প্রথমবারের মতো সুযোগ পাওয়া কুরাসাও দলের প্রায় সব খেলোয়াড়ের জন্মই নেদারল্যান্ডসে।

ম্যারাডোনার পর বিগত তিন দশকে অনেক ফুটবল আইকনের জন্ম হয়েছে তার মধ্যে মেসি এবং রোনালদো অন্যতম। বয়স এবং ক্যারিয়ারের শেষ প্রান্তে থাকার কারণে ২০২৬ বিশ্বকাপ মঞ্চকে চিরতরে বিদায় নিবেন এ দুইজনসহ বেশ কয়েকজন আইকন বা কিংবদন্তি খেলোয়াড়। যেমন: মোহাম্মদ সালাহ (মিশর), লুকা মদ্রিচ (ক্রোয়েশিয়া), মেনুয়েল নয়ার (জার্মানি), গুইলার্মো ওচোয়া (মেক্সিকো), নাগাতোমো (জাপান), সন হিউং মি (দক্ষিণ কোরিয়া) এবং যার কথা না বললেই নয় ব্রাজিলের নিভে যাওয়া অসংখ্য উজ্বল নক্ষত্রের মাঝে শেষ আশার পিদিম নেইমার জুনিয়র। ফিফা এই টুর্নামেন্টে মেসি, রোনালদো, মদ্রিচ, নয়ার এবং নাগাতোমোর মতো কিংবদন্তিদের দীর্ঘ ফুটবল ক্যারিয়ার ও ৫ বা তার বেশি বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার কীর্তিকে সম্মান জানাতে তাদের জার্সিতে বিশেষ “FIFA World Cup Legacy” ব্যাজ ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে। আমরা ও আমাদের বাচ্চারা নিশ্চিতভাবেই আন্তর্জাতিক ফুটবলের এক বিশাল পরিবর্তনের সাক্ষী হতে যাচ্ছি। প্রাপ্তির আনন্দ আর উন্মাদনার সাথে হারানোর মাতমও থাকবে একসাথে। বিশ্বকাপ কে পাবে জানিনা। ফ্রান্স, আর্জেন্টিনা, জার্মানী, ইংল্যান্ড, স্পেন, ব্রাজিল বা অন্য যে দেশই জিতুক শেষাবধি জয় হোক ফুটবলের।

 

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

Comments are closed.

এই বিভাগের আরও খবর