বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ০৩:৪৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
সিংড়ায় নাতি জন্মের আনন্দে নানার ব্যতিক্রমী আয়োজন বাড়িয়ার ইউপি চেয়ারম্যান হাবিবসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা: হয়রানীমূলক বলছেন এলাকাবাসী টাইমস হায়ার এডুকেশন ইমপ্যাক্ট র‌্যাঙ্কিংয়ে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষে গাকৃবি টাইমস হায়ার এডুকেশন ইমপ্যাক্ট র ্যাংকিংয়ে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষে গাকৃবি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি : বৈশ্বিক কূটনীতির সর্বোচ্চ মঞ্চে বাংলাদেশ ব্যাংক খাতের সংস্কারে ৪৫ কোটি ডলার ঋণ অনুমোদন বিশ্বব্যাংকের বিশ্বকাপ ২০২৬: প্রাপ্তির আনন্দ আর উন্মাদনার সাথে হারানোর মাতম ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের প্ল্যানারি সেশনে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শ্রীপুরের রাজাবাড়ীতে আওয়ামী লীগের অপতৎপরতার বিরুদ্ধে বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল কালীগঞ্জে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ছেলের পরীক্ষায় নাম্বার কম দেওয়ায় শিক্ষিকাকে নির্যাতন

বাড়িয়ার ইউপি চেয়ারম্যান হাবিবসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা: হয়রানীমূলক বলছেন এলাকাবাসী

  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬
  • ১৪২ ভিজিটর

স্টাফ রিপোর্টার : গাজীপুর সদর উপজেলার বাড়িয়া ইউনিয়নের কুমুন সরাফত খান প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান হাবিবসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন একই এলাকার ওমর আলী নামে এক ব্যক্তি । গত ২০ জুন জয়দেবপুর সদর থানায় দায়ের করা ওই মামলায় অজ্ঞাতনামা আরো ১০ থেকে ১২ জনকে আসামী করা হয়েছে। মামলায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে কটুক্তি করায় বাদী সংক্ষুব্দ হয়েছে মর্মে উল্লেখ করেছেন। তবে এলাকার লোকজন বলছেন, চেয়ারম্যানকে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করা ও হয়রানী করার উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রীর কটুক্তির বিষয়টিকে সামনে আনা হয়েছে । বিষয়টি নিয়ে এলাকায় কয়েকদিন যাবত দু-পক্ষের মধ্যে বেশ উত্তেজনা বিরাজ করছে।
মঙ্গলবার সরেজমিনে এলাকার লোকজনের সাথে কথা বলে জানা গেছে, কুমুন সরাফত খান প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কমিটির মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে সরকারী প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী নতুন কমিটি গঠনকল্পে গত শনিবার স্কুলে অভিভাবক ও এলাকার লোকজন একটি সভায় মিলিত হন। সভায় বাড়িয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও স্কুল কমিটির সাবেক সভাপতি হাবিবুর রহমান হাবিবকে উপস্থিত থাকার অনুরোধ করে এলাকাবাসী। লোকজনের অনুরোধে তিনি ওই সভায় যোগ দেন। সভায় অভিভাবকগন ছাড়াও এলাকার গন্যমান্য প্রায় ২শ থেকে ৩শ লোক উপস্থিত ছিল। এসময় কারা কারা সভাপতি হতে আগ্রহী এ ধরনের লোকদের আগ্রহের জন্য বলা হলে ৫ জন তাদের আগ্রহের কথা জানান। এদের মধ্যে রয়েছে, মাসুদ খান, মাসুম সরকার, মোবারক হোসেন ভুইয়া, মোঃ গুলজার ব্যাপারী ও মহসিন ব্যাপারী। একাধিক ব্যাক্তি সভাপতি হবার আগ্রহ প্রকাশ করলে তাদের মধ্যে ভোটাভোটি হয় এবং তিনজন সমান সংখ্যক ভোট পায়। পরে স্কুলের সাবেক শিক্ষক ও সভাপতি প্রার্থী মাসুম সরকারের পিতা ওমর আলী মাস্টারকে সভাপতি নির্বাচনের দায়িত্ব দিলে তিনি তার ছেলে মাসুম সরকারের নাম প্রস্তাব করেন। কিন্ত মাসুম সরকারের স্ত্রী স্কুলের শিক্ষক হবার কারনে এবং তার শিক্ষাগত যোগ্যতা কম থাকায় উপস্থিত অনেকেই চরম আপত্তি জানান। উপস্থিত বেশীরভাগ লোকজন মাসুদ খানকে সভাপতি নির্বাচন করার পক্ষে মতামত দিলে এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কথাকাটাকাটি ও হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। এমতবস্থায় ওই দিনের সভা স্থগিত করে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও প্রশাসনের সাথে কথা বলে বিষয়টি সুরাহা করার পক্ষে মত দিয়ে আগামী শনিবার আবার সভার তারিখ ঘোষনা দেন হাবিব চেয়ারম্যান। এসময় মাসুম সরকারের পক্ষের লোকজন হট্টগোল সৃষ্টি করে উচ্ছৃংখল আচরন শুরু করে । এতে সভা পন্ড হয়ে যায়। পরে কুমুন এলাকার ওমর আলী নামে এক ব্যাক্তি এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাবিব চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীকে কটুক্তি করার অভিযোগ আনেন। তিনি হাবিব চেয়ারম্যানসহ আরো ৫ জনের নামে ও অজ্ঞাতনামা আরো ১০-১২ জনকে আসামী করে জয়দেবপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এ নিয়ে এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। দুপক্ষের লোকজন মারমুখি অবস্থানে চলে আসে।
জানা যায়, হাবিব চেয়ারম্যানকে রাজনৈতিকভাবে ও সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করা ও হয়রানী করার উদ্দেশ্যে তাকে জড়িয়ে প্রতিপক্ষ মিথ্যা প্রপাগান্ডা ছড়ায়। সেদিনের সভায় উপস্থিত লোকজন জানান, ঘটনাটিকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার উদ্দেশ্যেই একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। তারা প্রশাসনের নিরপেক্ষ তদন্ত দাবী করেন।
সভায় উপস্থিত মাসুম খান নামে একজন জানান, সেদিনের সভায় প্রধানমন্ত্রীকে কটুক্তি করার কোন ঘটনাই ঘটেনি। মাসুম সরকারকে সভাপতি না করতে পারায় তার অনুসারীগন মিথ্যা মামলার আশ্রয় নিয়ে এলাকায় ঘোলা পরিবেশ সৃষ্টি করছেন। তিনি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটন উন্মোচনের দাবী জানান।
ওই দিনের সভায় উপস্থিত একজন সভাপতি প্রার্থী ও ৫নং ওয়ার্ড বিএনপির সহ-সাধারন সম্পাদক মোঃ গোলজার ব্যাপারীসহ এলাকার একাধিক লোক এ প্রতিনিধিকে জানান, হাবিব চেয়ারম্যান ওই দিনের সভায় এ ধরনের কোন বক্তব্য দেননি। তাকে মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে তার বিরুদ্ধে হয়রানীমূলক মামলা দায়ের করেছেন ওমর আলী, যিনি আগে আওয়ামী রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। গোলজার ব্যাপারী বলেন, ওমর আলী আওয়ামী লীগের মিটিং মিছিল করেছে নিয়মিত। হ্যান্ডমাইক দিয়ে ম্লোগান দেওয়ার ছবিও আছে। বর্তমানে তিনি এ ঘটনাটিকে রাজনৈতিকভাবে রং দেওয়ার চেষ্টা করছেন। এলাকার লোকজনের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টির পায়তারা করছেন। হাবিব চেয়ারম্যানকে সামাজিকভাবে হেয় করার জন্য তার বিরুদ্ধে ও অন্যান্য লোকজনকে জড়িয়ে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন। এ জন্য ওমর আলীর শাস্তি হওয়া উচিত বলে মনে করছেন তিনি। গোলজার ব্যাপারীসহ এলাকার আরো অনেকেই ঘটনাটির নিরপেক্ষ তদন্ত দাবী করছেন।
বিষয়টি নিয়ে বাড়িয়ে ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান খানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে কটুক্তি করার প্রশ্নই আসে না। স্কুল কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে পছন্দের প্রার্থীকে সভাপতি নির্বাচিত করতে না পেরে ওমর আলী মিথ্যা মামলা দায়ের করে আমাকে সামাজিকভাবে হয়রানী করার চেষ্টা করছেন। আমি এর তীব্র নিন্দা জানাই এবং ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবী করছি।

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

Comments are closed.

এই বিভাগের আরও খবর