স্টাফ রিপোর্টার : গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার রাউতকোনা গ্রামে এক ভয়াবহ ও বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। পারিবারিক কলহের জেরে নিজ স্ত্রী, তিন শিশু কন্যা এবং শ্যালককে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করে পালিয়েছেন ফোরকান মিয়া (৩৮) নামে এক ব্যক্তি। শুক্রবার (৮ মে) দিবাগত রাতে প্রবাসী মনির হোসেনের ভাড়া বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— ঘাতক ফোরকানের স্ত্রী শারমিন, তাদের তিন কন্যা সন্তান এবং শারমিনের ভাই (শ্যালক) রসুল।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘাতক ফোরকান মিয়া গোপালগঞ্জ জেলার বাসিন্দা। তিনি কাপাসিয়ার রাউতকোনা গ্রামের প্রবাসী মনির হোসেনের বাড়িতে প্রায় এক বছর যাবৎ ভাড়া থেকে পার্শ্ববর্তী একটি চায়না ব্যাটারি কোম্পানিতে ড্রাইভার হিসেবে কাজ করতেন।
জানা যায়, তাদের মধ্যে প্রায়ই পারিবারিক কলহ লেগে থাকত।
ভুক্তভোগী পরিবারের স্বজনরা জানান, শুক্রবার বিকেলে শ্যালক রসুলকে সাড়ে ১৯ হাজার টাকা বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে নিজের বাসায় ডেকে আনেন ফোরকান। এরপর রাত থেকেই শারমিন ও রসুলের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। শনিবার ভোরে স্বজনরা বাসায় গিয়ে পাঁচজনের রক্তাক্ত ও গলাকাটা মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন।
ঘটনাস্থলে একটি মদের বোতল ও একটি কোকের বোতল পড়ে থাকতে দেখা গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, নেশাগ্রস্থ হয়ে বা ভুক্তভোগীদের অচেতন করে এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে।
কাপাসিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ শাহিনুর আলম জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পারিবারিক কলহের জেরে ফোরকান মিয়া তার স্ত্রী, তিন সন্তান ও শ্যালককে জবাই করে হত্যা করেছেন। হত্যাকাণ্ডের পর অভিযুক্ত ফোরকান মিয়া নিজেই তার আত্মীয়স্বজনকে ফোন করে এই খুনের ঘটনা জানান। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত ফোরকান পলাতক রয়েছেন। এ বিষয়ে অনুসন্ধান ও অভিযুক্ত ফোরকানকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।