গাজীপুর প্রতিনিধি: গাজীপুর সদর উপজেলায় একটি ৫০ শয্যাবিশিষ্ট ‘উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স’ নির্মাণের দাবিতে বিশাল মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ শুক্রবার (২৬ জুন) বিকেলে উপজেলার হোতাপাড়া বাসস্ট্যান্ডে ‘সচেতন নাগরিক সমাজ’-এর ব্যানারে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। ঘণ্টাব্যাপী চলা এই মানববন্ধনে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে দাঁড়িয়ে বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার হাজারো মানুষ অংশ নেন।
গাজীপুর জেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও ভাওয়াল গ্রীণ স্যোসাল ফাউন্ডেশনের সভাপতি শহিদুল ইসলাম শহিদের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, গাজীপুর জেলা বিএনপির সদস্য জয়না আবেদীন রিজভী, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সদস্য এমদাদুল হক মুসুল্লী, উপজেলা যুবদল নেতা জাহাঙ্গীর শিকদার, জেলা ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সোহাগ হোসেন, জামায়াত নেতা হারুন অর রশিদ সহ স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
এছাড়াও স্থানীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা মানববন্ধনে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন।
১৩ বছর ধরে চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত বিশাল জনগোষ্ঠী
মানববন্ধনে বক্তারা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ২০১৩ সালে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন গঠনের পর ভাওয়ালগড়, পিরুজালী, মির্জাপুর ও বাড়িয়া—এই ৪টি ইউনিয়ন নিয়ে গাজীপুর সদর উপজেলা পুনর্গঠন করা হয়। দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও ঘনবসতিপূর্ণ এই উপজেলা গঠনের এক যুগেরও বেশি সময় পার হলেও এখানে কোনো সরকারি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স গড়ে ওঠেনি।
বক্তারা বলেন, দেশের একটি সদর উপজেলায় কোনো সরকারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নেই—এটি ভাবাই যায় না। সামান্য প্রাথমিক চিকিৎসার জন্যও আমাদের শহরের দিকে ছুটতে হয়।
পথেই প্রাণ হারাচ্ছেন রোগীরা
বক্তারা আরও জানান, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স না থাকায় সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে নিম্নআয়ের পোশাক শ্রমিক ও গ্রামীণ জনগোষ্ঠী ন্যূনতম প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। জরুরি প্রয়োজনে রোগীদের প্রায় ৩০ মাইল পথ পাড়ি দিয়ে গাজীপুর মহানগরে অবস্থিত শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যেতে হয়। দীর্ঘ পথের দূরত্ব এবং ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের তীব্র যানজটের কারণে অনেক সময় পথেই রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক হয়ে পড়ে এবং সময়মতো চিকিৎসা না পেয়ে পথেই অনেকের মৃত্যু ঘটে।
কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি
সমাবেশ থেকে সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের প্রতি অবিলম্বে গাজীপুর সদর উপজেলায় ৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল নির্মাণের দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়ার জোর দাবি জানানো হয়। অন্যথায়, আগামীতে মহাসড়ক অবরোধসহ আরও কঠোর ও বাধ্যতামূলক কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে আলটিমেটাম দেন আন্দোলনকারীরা।