বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬, ১১:১৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
কালীগঞ্জে তিনদিন ব্যাপী ‘ভূমিসেবা মেলার’ পুরস্কার বিতরণী ও সমাপনী অনুষ্ঠিত অতি শীঘ্রই দখলবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে: এমপি রবিউল বাশার সংসদের লাইব্রেরীর জন্য গুম সংক্রান্ত বই কেনার সুপারিশ শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও গলা কেটে হত্যা: দায় স্বীকার আসামি সোহেলের এবার অত্যাধুনিক অস্ত্র প্রস্তুতের কথা জানাল ইরান ঈদ যাত্রার ট্রেনের ফিরতি টিকিট বিক্রি শুরু নরসিংদীতে “ইত্যাদি শুটিং স্পটে”বিশৃঙ্খলা:আহত অন্তত ২০,দুই সাংবাদিকের মোবাইলসহ চুরির হিড়িক প্রকাশিত সংবাদের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ইস্তানবুল হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট কর্তৃপক্ষ সিংড়ায় সড়ক আইনে ভ্রাম্যমাণ আদালত, হেলমেটবিহীন দুই চালককে জরিমানা সিংড়ায় চৌগ্রাম ও তাজপুর ইউনিয়ন পরিষদের উন্মুক্ত বাজেট ঘোষণা

ভাওয়াল রেঞ্জে নাকের ডগায় সেগুন গাছ উজাড়ের মহোৎসব! অভিযোগের পরও বন বিভাগ রহস্যজনক নীরব

  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬
  • ২১ ভিজিটর

স্টাফ রিপোর্টার :গাজীপুরের ঐতিহাসিক ভাওয়াল বনাঞ্চলে আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে গাছ চোর ও বন খেকোদের দৌরাত্ম্য। এবার গাজীপুর সদর উপজেলার ভবানীপুর মৌজাস্থ ভবানীপুর ফরিদ মার্কেট সংলগ্ন এলাকায় প্রকাশ্যেই কেটে নেওয়া হচ্ছে মূল্যবান সেগুন গাছ। স্থানীয়দের অভিযোগ, বন বিভাগের গেজেটভুক্ত জমির বিশাল বিশাল সেগুন গাছ রাতের আঁধারে কেটে সাবাড় করছে একটি প্রভাবশালী চক্র। বিষয়টি একাধিকবার বন বিভাগকে জানানোর পরও তাদের ভূমিকা নিয়ে তৈরি হয়েছে রহস্য ও চরম ক্ষোভ।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ভবানীপুর ফরিদ মার্কেট সংলগ্ন নজরুল মাস্টারের বাড়ির পাশে সিএস দাগ নং ১১৯৪ ও ১১৯৫ এবং এসএ ১০৮০ ও আরএস ৬৩৯৫ দাগভুক্ত বন বিভাগের গেজেটভুক্ত এলাকায় গত কয়েকদিন ধরে ধারাবাহিকভাবে গাছ কাটা হচ্ছে। ওই এলাকায় থাকা প্রায় ১৮ থেকে ২০টি মূল্যবান সেগুন গাছের মধ্যে ইতোমধ্যে ১০ থেকে ১২টি গাছ কেটে নিয়ে গেছে চক্রটি।

স্থানীয় সচেতন মহল একাধিকবার বিষয়টি সিংড়াতলী ফরেস্ট অফিস ও ভাওয়াল রেঞ্জ কর্মকর্তাদের অবগত করলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এলাকাবাসীর দাবি, প্রথমদিকে বন বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে গাছ জব্দ করে অফিসে নেওয়ার আশ্বাস দিলেও বাস্তবে কোনো গাছ জব্দ করা হয়নি। বরং গত এক সপ্তাহ ধরে ধাপে ধাপে গাছ কেটে ট্রাকযোগে নির্দ্বিধায় সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, “আমরা ব্যবসায়ীদের কাছ থেকেই জানতে পেরেছি, পুরো বাগানটি প্রায় দুই লাখ টাকায় বিক্রি করা হয়েছে। বন বিভাগ সব জেনেও অদ্ভুতভাবে নিশ্চুপ ভূমিকা পালন করছে। বারবার ফোন দিলেও ভাওয়াল রেঞ্জ কর্মকর্তা ফোন ধরেননি।”

পরিবেশবিদদের মতে, ভাওয়াল বনাঞ্চল শুধু গাজীপুর নয়, পুরো মধ্যাঞ্চলের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় ফুসফুস হিসেবে কাজ করে। নির্বিচারে এভাবে বন উজাড়ের ফলে জীববৈচিত্র্য ধ্বংস, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নেমে যাওয়া, তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং পরিবেশ বিপর্যয়ের ঝুঁকি আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে।
স্থানীয় পরিবেশকর্মী ও সচেতন নাগরিকদের অভিযোগ, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভাওয়াল বনাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে প্রভাবশালী মহলের দখল, অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ ও গাছ কাটার ঘটনা বাড়লেও অনেক ক্ষেত্রে বন বিভাগের ভূমিকা ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। দায়সারা অভিযান ও রহস্যজনক নিষ্ক্রিয়তার সুযোগে কাঠখেকো সিন্ডিকেট দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।

পরিবেশ সচেতন মহলের অভিমত, একটি পূর্ণবয়স্ক সেগুন গাছ তৈরি হতে কয়েক দশক সময় লাগে। অথচ কিছু অসাধু ব্যক্তি আর প্রশাসনিক উদাসীনতার কারণে অল্প সময়েই ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে মূল্যবান বনসম্পদ। এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সবুজ পরিবেশ বলে কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না।

বাংলাদেশ বন আইন, ১৯২৭ অনুযায়ী সংরক্ষিত বনাঞ্চল বা গেজেটভুক্ত জমির গাছ অবৈধভাবে কর্তন, পরিবহন ও বিক্রি দণ্ডনীয় অপরাধ। এছাড়া পরিবেশ সংরক্ষণ আইনেও এ ধরনের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে জেল-জরিমানা ও ফৌজদারি মামলার বিধান রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে আইনের কার্যকর প্রয়োগ না থাকায় বন ধ্বংসকারীরা দিন দিন আরও সংগঠিত ও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।

গাছ কাটার বিষয়ে জানতে চাইলে সিংড়াতলী বিট কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, “এ গাছগুলো বাহিরের লোকজন বিক্রি করেছে। আমরা (বন বিভাগ) গিয়ে বাঁধা দিয়ে এসেছি। তারা আর কাটবে না বলে জানিয়েছে।”

তবে গাছগুলো কার মাধ্যমে বিক্রি করা হয়েছে কিংবা কারা কিনেছে— এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সদুত্তর দিতে পারেননি। তিনি বলেন, “কারা বিক্রি করছে আর কারা কাটছে তার কিছুই আমরা জানি না। ঘটনাস্থলে কয়েকজন শ্রমিককে পেয়েছিলাম, তাদেরকে কাটতে নিষেধ করা হয়েছে।”

বন বিভাগের নাকের ডগায় কীভাবে গেজেটভুক্ত জমির এত মূল্যবান সেগুন গাছ উজাড় হয়ে যায়— এখন সেই প্রশ্নই তুলছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এর পেছনে কোনো অদৃশ্য প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের শনাক্ত করে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা। একই সাথে অবশিষ্ট গাছগুলো রক্ষায় জরুরি অভিযান পরিচালনা এবং বন বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অবহেলার ভূমিকা খতিয়ে দেখার জোর দাবি জানানো হয়েছে।

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

Comments are closed.

এই বিভাগের আরও খবর