রবিবার, ১৭ মে ২০২৬, ০১:১৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
মাভাবিপ্রবিতে নতুন ভিসি হিসেবে যোগদান করেছেন ঢাবি অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলাম গাজীপুর জেলা পেশাজীবী সাংবাদিক পরিষদের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠিত সিংড়ায় গভীর রাতে বাড়িতে ডাকাতি, অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুট দেশের স্বার্থ বিনষ্ট করে কোনো চুক্তি করবে না সরকার: মির্জা ফখরুল কাপাসিয়ায় বিএনপি নেতার জামায়াতে যোগদান হাম রোগীদের আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঐতিহাসিক লংমার্চ ছিল পানির অধিকার প্রতিষ্ঠার সাহসী পদক্ষেপ : গোলাম পরওয়ার জ্বালানি সহযোগিতায় বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর সোসাইটি অব জাতীয় গণমাধ্যম কমিশনের নতুন কমিটি গঠন গাজীপুর জেলা সাংবাদিক ঐক্য পরিষদের কার্য নির্বাহী সদস্য ও গাছা প্রেসক্লাবের সভাপতি আব্দুল হামিদের ইন্তেকাল

মাভাবিপ্রবিতে নতুন ভিসি হিসেবে যোগদান করেছেন ঢাবি অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলাম

  • আপডেট টাইম : রবিবার, ১৭ মে, ২০২৬
  • ৫ ভিজিটর

মাভাবিপ্রবি (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি: মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ভাইস-চ্যান্সেলর হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে কর্মক্ষেত্রে যোগদান করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের জ্যেষ্ঠ অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলাম।

১৬ মে ২০২৬ তারিখ সকাল ১১ টায় তিনি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এসে পৌঁছেন। প্রথমে ক্যাম্পাসস্থ মাওলানা ভাসানীর মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করার মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং মাজার জিয়ারত করে পরিদর্শন বইতে মাওলানা ভাসানী সম্পর্কে অনুভূতি লিখেন ও স্বাক্ষর করেন। এরপর ভাইস-চ্যান্সেলরের কার্যালয়ে বিদায়ী ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মোঃ আনোয়ারুল আজীম আখন্দ নতুন ভাইস-চ্যান্সেলরের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব হস্তান্তর করেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর নতুন ভাইস-চ্যান্সেলর বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন, রেজিস্ট্রার, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, প্রভোস্ট ও সকল অফিস প্রধানদের সাথে শুভেচ্ছা ও মতবিনিময় করেন ।

উল্লেখ্য, ১৪ মে ২০২৬ তারিখে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের মহামান্য রাস্ট্রপতি ও চ্যান্সেলর এ বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ভাইস-চ্যান্সেলর হিসেবে তাঁকে চার বছরের জন্য নিয়োগ প্রদান করেন। তিনি একই দিন ভাইস-চ্যান্সেলর হিসেবে যোগদান করেন।

দীর্ঘ ৪০ বছরের শিক্ষকতা, বহুমাত্রিক গবেষণা এবং বর্ণাঢ্য প্রশাসনিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এই শিক্ষাবিদকে উপাচার্য হিসেবে পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারে নতুন উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়েছে। মেধাবী শিক্ষাজীবন ও টাঙ্গাইলের সাথে আত্মিক সম্পর্ক: অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলামের শিক্ষাজীবন অত্যন্ত কৃতিত্বপূর্ণ। তিনি টাঙ্গাইলের কৃতি সন্তান। সরকারি মাওলানা মোহাম্মদ আলী কলেজ থেকে কৃতিত্বের সাথে এইচএসসিতে ঢাকা বোর্ডে ৪র্থ স্থান অধিকার করেন। ফলে টাঙ্গাইলের এই সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠের দায়িত্ব নেয়াকে স্থানীয়রা বেশ ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন।

পরবর্তীতে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মার্কেটিংয়ে প্রথম শ্রেণিতে বি.কম (সম্মান) এবং এম.কম ডিগ্রি অর্জন করেন। একজন মর্যাদাপূর্ণ ‘কমনওয়েলথ স্কলার’ হিসেবে তিনি যুক্তরাজ্যের গ্লাসগোর স্ট্র্যাথক্লাইড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম.ফিল এবং পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।

দীর্ঘ ৪০ বছরের শিক্ষকতা ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা: ১৯৮৬ সালের জুলাই মাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগে প্রভাষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন তিনি। দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে তিনি উচ্চশিক্ষায় নিরলস অবদান রেখে চলেছেন।

মাভাবিপ্রবিতে ভাইস-চ্যান্সেলর হিসেবে যোগদানের পূর্ব পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ব্যুরো অব বিজনেস রিসার্চ
(BBR)’-এর পরিচালক এবং ‘সেন্টার ফর ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড পলিসি রিসার্চ’-এর চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। ভাইস-চ্যান্সেলর হিসেবে এটি তাঁর দ্বিতীয় মেয়াদ। এর আগে তিনি ২০০৬ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত
সিলেটের ‘লিডিং ইউনিভার্সিটি’-এর উপাচার্য হিসেবে অত্যন্ত সফলতার সাথে দায়িত্ব
পালন করেছেন। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য (১৯৯০-১৯৯২), ফিন্যান্স কমিটির সদস্য, ইউজিসি ফিন্যান্স কমিটির সদস্য, ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব ট্রাস্টিজ-এর চেয়ারম্যান (২০১০) ও ভাইস-চেয়ারম্যানসহ (২০১৫) বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদে তিনি সফলতার স্বাক্ষর রেখেছেন।

গবেষণা ও প্রকাশনায় অনবদ্য অবদান: একাডেমিক ও গবেষণায় ড. শহিদুল ইসলাম দেশ-বিদেশে ব্যাপক সমাদৃত। তিনি দেশের মার্কেটিং শিক্ষার অন্যতম পথিকৃৎ এবং ‘মার্কেটিং প্রমোশন’, ‘মার্কেটিং’ সহ একাধিক পাঠ্যপুস্তক ও গবেষণাধর্মী গ্রন্থের রচয়িতা। তাঁর অধীনে অসংখ্য শিক্ষার্থী পিএইচডি ও এম.ফিল ডিগ্রি অর্জন করেছেন। এছাড়া তিনি
বিশ্বব্যাংক, ইউজিসি, বিআইডব্লিউটিএ, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা প্রকল্পে প্রধান পরামর্শক হিসেবে কাজ করেছেন। দেশি-বিদেশি শীর্ষস্থানীয় জার্নালে তাঁর অসংখ্য গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে।

মাভাবিপ্রবির নতুন ভিসি হিসেবে যোগদানের পর এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়ন, গবেষণার মান বৃদ্ধি এবং সেশনজটমুক্ত আধুনিক শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সকলের সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করেন।

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

Comments are closed.

এই বিভাগের আরও খবর