বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৪৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
পলিথিন ও প্লাস্টিকের বিস্তার ঠেকাতে অভিযান জোরদার ফ্যাসিবাদী শাসনে সবকিছু ধ্বংস হয়ে গেছে: রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ব্যাংককে জি-২০ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রীদের বৈঠক শুরু আজ মসজিদে অনৈতিক কাজের দায়ে মক্কায় দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর কালীগঞ্জে মাদকবিরোধী মিনি ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত গাজীপুরে অবৈধ গ্যাস ব্যবহারের দায়ে ৩ লাখ টাকা জরিমানা টঙ্গীতে ওষুধ কারখানায় আগুন : ২১ ইউনিটের চেষ্টায় প্রায় ৩ ঘন্টা পর নিয়ন্ত্রণে গাজীপুরে অবৈধ গ্যাস ব্যবহারের দায়ে দুইজনকে ৩ লাখ টাকা জরিমানা গাজীপুরে বিএসটিআই এর উদ্যোগে বিশ্ব মান দিবস পালন জ্বালানির মান নিশ্চিত করতে সার্টিফিকেশনের ওপর গুরুত্বারোপ

১ মে থেকে ডিম-মুরগি উৎপাদনকারী সব খামার বন্ধ ঘোষণা

  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৫
  • ২১৫ ভিজিটর

স্টাফ রিপোর্টার :  সারা দেশে আগামী ১ মে থেকে ডিম ও মুরগি উৎপাদনকারী সব খামার বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে প্রান্তিক খামারিদের সংগঠন বাংলাদেশ পোল্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন (বিপিএ)। আজ বৃহস্পতিবার (১৭ এপ্রিল) সকাল ১১টায় গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে সংগঠনটি।

সংগঠনটির সভাপতি মো. সুমন হাওলাদার স্বাক্ষর করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, রমজান ও ঈদ মৌসুমেও ভয়াবহ লোকসান দিয়ে প্রান্তিক খামারিরা প্রতিদিন ২০ লাখ কেজি মুরগি উৎপাদন করেছেন। প্রতি কেজিতে ৩০ টাকা লোকসানে, এক মাসে লোকসান হয়েছে প্রায় ৯০০ কোটি টাকা।

এছাড়া দৈনিক ৪ কোটি ডিমের মধ্যে প্রান্তিক খামারিরা উৎপাদন করেন ৩ কোটি ডিম। প্রতি ডিমে ২ টাকা করে লোকসানে, দুই মাসে ডিমে লোকসান হয়েছে ৩৬০ কোটি টাকা। মোট দুই মাসে ডিম ও মুরগির খাতে লোকসান দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২৬০ কোটি টাকা।

কিন্তু এমন অবস্থায় সরকার ও নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর নীরবতায় কিছু করপোরেট কোম্পানি পুরো পোল্ট্রি শিল্প দখলের ষড়যন্ত্রে নেমেছে। তারা শুধু ফিড, বাচ্চা ও ওষুধ নয়—ডিম ও মুরগির বাজারও নিয়ন্ত্রণ করছে। কৃত্রিম সংকট তৈরি করে প্রান্তিক খামারিদের ঠেলে দিচ্ছে ‘কন্ট্রাক্ট ফার্মিং’ এর দাসত্বে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ঈদের আগে ২৮–৩০ টাকায় উৎপাদিত বাচ্চা কর্পোরেট কোম্পানিগুলো ৭০–৮০ টাকায় বিক্রি করে। এখন সেই বাচ্চাই ৩০–৩৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি ব্রয়লারের উৎপাদন খরচ ১৬০–১৭০ টাকা, অথচ কর্পোরেটরা বাজারে বিক্রি করছে ১২০–১২৫ টাকায়। ফলে লোকসানে খামারিরা। আবার ডিমের উৎপাদন খরচ ১০–১০ দশমিক ৫০ টাকা, অথচ বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৮–৮ দশমিক ৫০ টাকায়। বাজার মূলত কর্পোরেটের হাতে। তারা দাম নির্ধারণ করে। আর খামারিদের বাধ্য করা হয় মানতে।

বাংলাদেশ পোল্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে ১০ দফা দাবি জানানো হয়। সেগুলো হচ্ছে—

১. পোল্ট্রি পণ্যের জন্য জাতীয় মূল্যনিয়ন্ত্রণ নীতিমালা ও নির্ধারণ কমিটি গঠন।

২. কন্ট্রাক্ট ফার্মিং নিয়ন্ত্রণে কঠোর আইন

৩. পোল্ট্রি বাজার রেগুলেটরি অথরিটি গঠন

৪. ক্ষতিগ্রস্ত খামারিদের জন্য পুনর্বাসন প্যাকেজ

৫. খামারিদের রেজিস্ট্রেশন ও আইডি কার্ড

৬. কোম্পানিকে কেবল কাঁচামাল উৎপাদনে সীমাবদ্ধ রাখা

৭. কন্ট্রাক্ট ফার্মিং ও কোম্পানির খামার নিষিদ্ধ করা

৮. কেজি ভিত্তিক ডিম ও মুরগি বিক্রির নীতিমালা প্রণয়ন

৯. ডিম-মুরগির রপ্তানির সুযোগ বৃদ্ধি

১০. পূর্ণাঙ্গ ‘পোল্ট্রি উন্নয়ন বোর্ড’ গঠন

এসব দাবি না মানা হলে কঠোর কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

Comments are closed.

এই বিভাগের আরও খবর