গাজীপুর প্রতিনিধি: শারদীয় দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে উদ্যাপন নিশ্চিত করতে গাজীপুর সদর উপজেলার ২৮টি পূজামণ্ডপে বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। মণ্ডপগুলোতে পুলিশ, আনসার ও গ্রাম পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। সার্বিক নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণে থাকবে সিসিটিভি ক্যামেরা। এ ছাড়া যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রাখা হবে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট।
সোমবার (১২ অক্টোবর) গাজীপুর সদর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত শারদীয় দুর্গাপূজা উদ্যাপনবিষয়ক প্রস্তুতিমূলক সভা ও উপজেলা সামাজিক সম্প্রীতি কমিটির সভায় এসব নিরাপত্তাব্যবস্থার কথা জানানো হয়। সভায় সভাপতিত্ব ও প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাজ্জাদ হোসেন।
সভায় পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ধর্মীয় অনুষ্ঠান সম্পন্ন করা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা, নারী ও শিশুদের নির্বিঘ্ন চলাচল এবং মণ্ডপে অতিরিক্ত ভিড় নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকার বিষয়ে আলোচনা হয়।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার চারটি ইউনিয়নে এবার মোট ২৮টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা উদ্যাপিত হবে। প্রতিটি মণ্ডপের পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে নিরাপত্তাব্যবস্থা কার্যকর করা হবে। সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি সাদা পোশাকে পুলিশ ও গোয়েন্দা সদস্যরা মাঠপর্যায়ে নজরদারি করবেন। কোনো সন্দেহজনক তৎপরতা বা অপ্রীতিকর ঘটনার আশঙ্কা দেখা দিলে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অগ্নিকাণ্ডসহ যেকোনো দুর্ঘটনায় দ্রুত উদ্ধারকাজ পরিচালনা ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা দিতে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট প্রস্তুত থাকবে। উৎসব চলাকালে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়াতে প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও পূজা উদ্যাপন কমিটির মধ্যে সমন্বয়ের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সভায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জিয়াউল হাসান সৌরভ, উপজেলা প্রকৌশলী আবদুল্লাহ আল রাশেদী, উপজেলার চারটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং পূজা উদ্যাপন কমিটির নেতারা। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু তাহের মুসল্লী ও সদস্যসচিব আবু বকর সিদ্দিক।
সংশ্লিষ্টদের সমন্বিত উদ্যোগে শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন করার প্রত্যাশা জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।