সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:১৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
অবৈধ গ্যাস ব্যবহারে দায়ে শ্রীপুরে ১ লাখ টাকা জরিমানা, সংযোগ বিচ্ছিন্ন উচ্চশিক্ষিত তরুণদের কর্মসংস্থান ও গবেষণায় গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার: আইইউটিতে শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলন কালীগঞ্জে ব্যবসায়ীদের উদ্যোগে ফুটবল ফাইনাল, ৪-২ গোলে চ্যাম্পিয়ন লাল দল জগজিৎ সিংয়ের স্মরণে ঢাকায় গজল সন্ধ্যা ঘরের মাঠে বার্সার জয় সেনাপ্রধানকে জড়িয়ে ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর তথ্য : আইএসপিআর শহীদদের স্মরণে নির্ভীক জুলাই মনুমেন্ট করায় ঢাবি প্রশাসন আমাদের শোকজ করেছে : ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম ৬৬তম আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় প্রথম হয়েছেন হাফেজ ইহতেশামুল হক হিরা অশুভ ইচ্ছার কাছে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানকে স্থবির হতে দেওয়া যাবে না: বাংলাদেশ ব্লেড ফ্যাক্টরির বাণিজ্যিক কার্যক্রম উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রিজভী বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে দিল্লিতে নজিরবিহীন নিরাপত্তাব্যবস্থা

অশুভ ইচ্ছার কাছে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানকে স্থবির হতে দেওয়া যাবে না: বাংলাদেশ ব্লেড ফ্যাক্টরির বাণিজ্যিক কার্যক্রম উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রিজভী

  • আপডেট টাইম : শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬
  • ১০৬ ভিজিটর

স্টাফ রিপোর্টার :  রাষ্ট্রায়ত্ত কোনো প্রতিষ্ঠান যেন কোনো অশুভ ইচ্ছার কারণে স্থবির হয়ে না পড়ে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও শিল্প মন্ত্রনালয়ের উপদেষ্টা  রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, শুধু নিয়ম মেনে অফিসে আসা-যাওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে কোনো প্রতিষ্ঠান টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়। প্রতিষ্ঠানকে লাভজনক করতে কর্মকর্তা, প্রকৌশলী ও ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত সবাইকে উদ্যোগী ভূমিকা পালন করতে হবে।

আজ শনিবার (১০ অক্টোবর) গাজীপুরের টঙ্গী শিল্প এলাকায় বাংলাদেশ ইস্পাত ও প্রকৌশল করপোরেশনের (বিএসইসি) অধীন বাংলাদেশ ব্লেড ফ্যাক্টরী লিমিটেডের আধুনিকায়িত কারখানার বাণিজ্যিক কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়, অর্থনীতিতে প্রাণচাঞ্চল্য আসে এবং দেশের অর্থনীতি এগিয়ে যায়। এ ব্লেড কারখানা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। যুক্তরাজ্যের একটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে প্রযুক্তি নিয়ে কারখানাটি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ ছিল দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যেই নেওয়া একটি মহতী উদ্যোগ।

তিনি বলেন, কোনো প্রতিষ্ঠান যদি দেশের মানুষের চাহিদার সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত থাকে, তাহলে সেটির সফল হওয়ার সুযোগ রয়েছে। বাংলাদেশ ব্লেড ফ্যাক্টরিও তার একটি উদাহরণ। সময় ও আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রতিষ্ঠানটিকে আরও সমৃদ্ধ ও উন্নত করার উদ্যোগ নিতে হবে। কারখানার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও কর্মকর্তাদের এ বিষয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।

রিজভী বলেন, “রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের সঙ্গে সঙ্গে এখানে যারা কর্মরত রয়েছেন, তাদের অন্তর্নিহিত তাগিদও বৃদ্ধি করতে হবে। আমরা যদি গতানুগতিকভাবে কাজ করে যাই, তাহলে কোনো প্রতিষ্ঠানই টিকবে না।”

প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনার সঙ্গে যুক্তদের দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, চেয়ারম্যান, সচিব কিংবা অন্য কোনো কর্মকর্তা শুধু অফিসে আসা-যাওয়া বা নিজের কর্তৃত্ব দেখানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে প্রতিষ্ঠান ধরে রাখা যাবে না। বরং এটিকে মুনাফা অর্জনকারী ও অন্যদের জন্য দৃষ্টান্তমূলক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে হবে।

রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান মানেই লোকসান—এমন ধারণা থেকেও বেরিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। রিজভী বলেন, পৃথিবীর অনেক দেশেই বেসরকারি ও সরকারি প্রতিষ্ঠান সমানভাবে পরিচালিত হচ্ছে। সুতরাং রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানও লাভজনক হতে পারে।

বাংলাদেশ ইস্পাত ও প্রকৌশল করপোরেশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান আব্দুল খালেকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. রাশিদুল ইসলাম।

বছরে ৯ কোটি পিস উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা

কারখানাটির আধুনিকায়ন ও নতুন পণ্য উৎপাদনের মাধ্যমে দেশীয় বাজারে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করার পরিকল্পনা নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। প্রতিষ্ঠানটির সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানানো হয়, আধুনিক প্রযুক্তনির্ভর  প্রকল্পের আওতায় ঐতিহ্যবাহী ‘সোর্ড ডাবল এজ রেজর ব্লেড’-এর গুণগত মান উন্নত করা হয়েছে। পাশাপাশি  সোর্ড প্রিমিয়াম,  সোর্ড স্মার্ট -১ ও সোর্ড স্মার্ট -২ নামে তিন ধরনের ডিসপোজেবল রেজর উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ শুরু হয়েছে।

কারখানাটিতে বছরে আট কোটি পিস ডাবল এজ রেজর ব্লেড এবং এক কোটি পিস ডিসপোজেবল রেজর উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এ উৎপাদন সক্ষমতা দেশের মোট চাহিদার প্রায় ৫ থেকে ৬ শতাংশ পূরণ করতে পারবে। বাজারে চাহিদা বাড়লে শিফটিং পদ্ধতিতে উৎপাদন সক্ষমতা আরও বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র আরো জানায়, ভবিষ্যতে বিভিন্ন ধরনের ডিসপোজেবল রেজর উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির। পাশাপাশি সোর্ড ব্র্যান্ডের বাজার সম্প্রসারণে বিজ্ঞাপন প্রচার, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা এবং জেলা পর্যায়ে ডিলার নিয়োগের মাধ্যমে বিপণন কার্যক্রম জোরদার করা হবে। ইতোমধ্যে দেশের ১৭টি জেলায় ডিলার নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে। ভবিষ্যতে ব্লেড ও রেজর বিদেশে রপ্তানিরও পরিকল্পনা রয়েছে।

কর্তৃপক্ষের প্রত্যাশা, কারখানাটির পূর্ণ উৎপাদন সক্ষমতা কাজে লাগানো গেলে আমদানিনির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি দেশীয় বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়বে। এতে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় এবং দেশের শিল্প খাতে অবদান রাখার সুযোগ তৈরি হবে।

৫২ কোটি টাকার বেশি ব্যয়ে আধুনিকায়ন

বিএসইসির অধীন বাংলাদেশ ব্লেড ফ্যাক্টরী লিমিটেড প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয় ১৯৭৯ সালে। কারখানা সংশ্লিষ্টদের  তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যের ঐতিহ্যবাহী উইলকিনসন সোর্ড কোম্পানির সঙ্গে বিএসইসির চুক্তির মাধ্যমে টঙ্গীর ০.৮৯ একর জমিতে কারখানাটি প্রতিষ্ঠার কার্যক্রম শুরু হয়। ১৯৮৫ সালে এর বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হয় এবং ১৯৮৬ সালে প্রতিষ্ঠানটি পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়।

দীর্ঘদিন পর ২০১৮ সালে কারখানার পুরোনো যন্ত্রপাতি সংস্কার ও আধুনিকায়ন এবং নতুন পণ্য হিসেবে ডিসপোজেবল রেজর উৎপাদনের লক্ষ্যে একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছিল ৫২ কোটি ২০ লাখ টাকা। পরবর্তী সময়ে ৫২ কোটি ১৩ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয় বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

আধুনিক কারখানার বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরুর মধ্য দিয়ে উৎপাদন ও বাজার সম্প্রসারণের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছে কর্তৃপক্ষ। তবে নির্ধারিত উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন, বাজারে দেশি-বিদেশি ব্র্যান্ডের সঙ্গে প্রতিযোগিতা এবং প্রতিষ্ঠানটিকে লাভজনক অবস্থানে নেওয়ার ক্ষেত্রে বিপণন কৌশল, উৎপাদন দক্ষতা ও ব্যবস্থাপনাগত উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ হবে।

###

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

Comments are closed.

এই বিভাগের আরও খবর