শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:১১ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
ইয়েমেনে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে হুথিদের হামলা : নিহত ৫, আহত ১৬ স্বপ্ন বাস্তবায়নে লক্ষ্য নির্ধারণ ও কঠোর পরিশ্রম জরুরি: হাবিবুর রশিদ বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে কাদের গনি চৌধুরীর সৌজন্য সাক্ষাৎ কালীগঞ্জে দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় আনসার-ভিডিপিকে এমপি মিলনের দিকনির্দেশনা নরনিংদীতে বাবার হাতে ছেলে খুন নেপথ্যে মাদক পলিথিন ও প্লাস্টিকের বিস্তার ঠেকাতে অভিযান জোরদার ফ্যাসিবাদী শাসনে সবকিছু ধ্বংস হয়ে গেছে: রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ব্যাংককে জি-২০ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রীদের বৈঠক শুরু আজ মসজিদে অনৈতিক কাজের দায়ে মক্কায় দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর কালীগঞ্জে মাদকবিরোধী মিনি ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত

টঙ্গীতে সুড়ঙ্গ-সংযুক্ত ‘মাদক আস্তানা’ উন্মোচন, আটক ৮১

  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৬ মে, ২০২৬
  • ৩৮ ভিজিটর

টঙ্গী (গাজীপুর) প্রতিনিধি: গাজীপুরের টঙ্গীতে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে চাঞ্চল্যকর তথ্য উন্মোচন করেছে পুলিশ। হাজী মাজার বস্তি ও আশপাশের এলাকায় পরিচালিত অভিযানে একাধিক গোপন সুড়ঙ্গপথের সঙ্গে সংযুক্ত বিলাসবহুল শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (এসি) কক্ষের সন্ধান পাওয়া গেছে, যা দীর্ঘদিন ধরে মাদক সেবন ও বাণিজ্যের নিরাপদ আস্তানা হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল।

টঙ্গী পশ্চিম থানা পুলিশের নেতৃত্বে টানা দুই দিনের ‘ম্যারাথন অভিযান’-এ মোট ৮১ জনকে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে সোমবার (৪ মে) রাতে ৩১ জন এবং মঙ্গলবার (৫ মে) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত আরও ৫০ জনকে আটক করা হয়।

পুলিশ সূত্র জানায়, হাজী মাজার বস্তি, কেরানীর টেকসহ আশপাশের এলাকাকে কেন্দ্র করে একটি সংঘবদ্ধ মাদকচক্র দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় ছিল। অভিযানের সময় বিভিন্ন মাদক বিক্রয় কেন্দ্র চিহ্নিত করে তাৎক্ষণিকভাবে সিলগালা করা হয়। বস্তির ভেতরে আবিষ্কৃত একাধিক বিলাসবহুল এসি কক্ষ বাইরে থেকে তালাবদ্ধ থাকলেও ভেতরে মাদক সেবনের সকল উপকরণ পাওয়া যায়।

সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো—এসব কক্ষের সঙ্গে গোপন সুড়ঙ্গপথ সংযুক্ত ছিল, যা ব্যবহার করে সংশ্লিষ্টরা সহজেই যাতায়াত ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে পালিয়ে যেতে পারতো। এ থেকে ধারণা করা হচ্ছে, পরিকল্পিতভাবে একটি সুরক্ষিত মাদক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হয়েছিল।

অভিযানে আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে প্রায় দুই কেজি গাঁজা, হেরোইনসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

টঙ্গী পশ্চিম থানা পুলিশ জানিয়েছে, মাদক নির্মূলে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং জড়িতদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।

তবে সচেতন মহলের মতে, শুধুমাত্র মাদকসেবীদের আটক করে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। বরং যারা নেপথ্যে থেকে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করছে, অর্থায়ন করছে এবং এই চক্রকে প্রভাবিত করছে—তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা জরুরি। এ ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলে তারা মনে করছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং কঠোর নজরদারির মাধ্যমে মাদকের বিস্তার রোধ করা সম্ভব। টঙ্গীর সাম্প্রতিক এই অভিযান সেই বৃহৎ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে।

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

Comments are closed.

এই বিভাগের আরও খবর