মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬, ১২:৩৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
গাজীপুরে উদ্বোধনের আগেই সড়ক ধ্বস: জিসিসির দুই প্রকৌশলী  সাময়িক বরখাস্ত প্রাথমিক তদন্তে অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রমাণ মিলেছে সামনে কঠিন সময়, তেল ও জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যাবে : এলজিআরডি মন্ত্রী ঈদের ছুটি শেষে ব্যাংক খুললে পে-অর্ডারের পর তেল সরবরাহ স্বাভাবিক হবে লেবাননে প্রতি পাঁচজনের একজনকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করেছে ইসরাইল পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের বিজ্ঞপ্তি : জ্বালানির ঘাটতিতে সারা দেশে বন্ধ হতে পারে পেট্রোল পাম্প কুমিল্লায় বাস-ট্রেন সংঘর্ষের ঘটনায় কমিটি গঠন ও নিহত পরিবারকে আর্থিক সহায়তা প্রদান একুয়া ম্যাক্স সি ফুড লিমিটেড এর উদ্যোগে বিধবা ও অসহায় পরিবারে মাঝে সেলাই মেশিন বিতরণ জাতীয় ঈদগাহে পবিত্র ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে যুদ্ধের মধ্যে উন্মুক্ত ময়দানে ঈদের নামাজ পড়ল ইরানিরা দেশবাসীকে প্রধানমন্ত্রীর ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা

গাজীপুরে উদ্বোধনের আগেই সড়ক ধ্বস: জিসিসির দুই প্রকৌশলী  সাময়িক বরখাস্ত প্রাথমিক তদন্তে অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রমাণ মিলেছে

  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২৩ মার্চ, ২০২৬
  • ১৪ ভিজিটর

স্টাফ রিপোর্টার :  গাজীপুরে উদ্বোধনের আগেই একটি সড়ক ধ্বসে পড়ার ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মহানগরীর কাশিমপুরের ধনঞ্জয়খালী এলাকায় নির্মাণাধীন ওই সড়কটি ধ্বসে পড়ার বিষয়টি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে তা সরকারের উচ্চপর্যায়ের নজরে আসে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সোমবার তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থল পরিদর্শণ করেন স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। এ সময় সড়ক নির্মাণে অনিয়ম ও গাফিলতির প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ায় প্রকল্পের দুই কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেন তিনি। ঘটনা তদন্তে ৭ সদস্য বিশিষ্ট উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠণ করা হয়েছে

জানা গেছে, প্রায় ২২ কোটি টাকা ব্যায়ে গাজীপুর মহানগরীর কাশিমপুরের ধনঞ্জয়খালী এলাকায় নামাবাজার হতে একটি সড়ক নির্মাণ কাজ প্রায় সম্পন্ন। গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন এ সড়কটির বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠাণ।কিন্তু সড়কটি উদ্বোধনের আগেই বিশাল এলাকা জুড়ে ধ্বসে পড়ে। এতে এলাকাবাসির মাঝে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বহীনতা এবং কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠে স্থানীয়দের মধ্যে। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে তা সরকারের উচ্চপর্যায়ের নজরে আসে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম সোমবার তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থল পরিদর্শণ করেন। এ সময় তিনি সড়ক নির্মাণে অনিয়ম ও গাফিলতির প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ায় প্রকল্পের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হারুন অর রশিদ এবং প্রকৌশলী শামসুর রহমানকে সাময়িক বরখাস্ত করেন। পরিদর্শন শেষে প্রতিমন্ত্রী গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোঃ শওকত হোসেন সরকারের নিকট বরখাস্ত সংক্রান্ত চিঠি হস্তান্তর করেন। এসময় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ও বিভাগের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, উদ্বোধনের আগেই একটি সড়ক ধসে পড়া অত্যন্ত দুঃখজনক ও অগ্রহণযোগ্য। নির্মাণ কাজে কোনো ধরনের অনিয়ম বা গাফিলতির সুযোগ নেই। প্রাথমিকভাবে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেছে। তাই সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এরমধ্যে প্রকল্পের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হারুন অর রশিদ এবং প্রকৌশলী শামসুর রহমানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়াও পূর্ণাঙ্গ তদন্তে যারা দায়ী প্রমাণিত হবে, তাদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় পূর্বে গঠিত সকল তদন্ত কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। এর পরিবর্তে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিবকে প্রধান করে ৭ সদস্য বিশিষ্ট একটি উচ্চপর্যায়ের নতুন তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটিকে আগামী ১৫ দিনের (ছুটির দিনসহ) মধ্যে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়াও ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠাণের বিরুদ্ধে কালো তালিকাভুক্তির জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে আমরা বদ্ধপরিকর। অতীতে তদন্ত কমিটিগুলোর প্রতিবেদন আলোর মুখ না দেখলেও এবার এ কমিটি তদন্ত রিপোর্ট আলোর মুখ দেখবে। তিনি বলেন, জনগণের অর্থে নির্মিত কোনো প্রকল্পে নিম্নমান বা দুর্নীতি বরদাশত করা হবে না। ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

অপরদিকে তবে অভিযুক্ত প্রকৌশলীদের পক্ষ থেকেও নিজেদের অবস্থান তুলে ধরে প্রকল্পের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হারুন অর রশিদ বলেন, ‘প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত মান বজায় রেখেই বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হয়েছে। তবে প্রাকৃতিক কারণ ও স্থানীয় ভূ-প্রকৃতির প্রভাবও এ ধরনের ঘটনায় ভূমিকা রাখতে পারে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে, আশা করছি বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত কারণ উদঘাটিত হবে।’

এদিকে সচেতন এলাকাবাসি এ ঘটনার জন্য প্রকৌশলগত ত্রুটিকেই দায়ী করছেন। তাদের মতে, সড়কটি নির্মাণের শুরু থেকেই কাজের মান নিয়ে সন্দেহ ছিল। সড়কের যে অংশে ধস নেমেছে, সেখানে মাটির গঠন ছিল দুর্বল এবং ওই স্থানে আরও বেশি পাইলিং ও শক্ত ভিত্তি নির্মাণ করা প্রয়োজন ছিল। এ ছাড়াও সটিকভাবে তদারকি ও ব্যবস্থা গ্রহণ না হওয়ায় এমন ঘটনা ঘটেছে। তারা দ্রুত মানসম্মতভাবে সড়কটি নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন। একইসঙ্গে এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কঠোর পদক্ষেপ এবং স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

Comments are closed.

এই বিভাগের আরও খবর