শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৫০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
ইয়েমেনে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে হুথিদের হামলা : নিহত ৫, আহত ১৬ স্বপ্ন বাস্তবায়নে লক্ষ্য নির্ধারণ ও কঠোর পরিশ্রম জরুরি: হাবিবুর রশিদ বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে কাদের গনি চৌধুরীর সৌজন্য সাক্ষাৎ কালীগঞ্জে দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় আনসার-ভিডিপিকে এমপি মিলনের দিকনির্দেশনা নরনিংদীতে বাবার হাতে ছেলে খুন নেপথ্যে মাদক পলিথিন ও প্লাস্টিকের বিস্তার ঠেকাতে অভিযান জোরদার ফ্যাসিবাদী শাসনে সবকিছু ধ্বংস হয়ে গেছে: রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ব্যাংককে জি-২০ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রীদের বৈঠক শুরু আজ মসজিদে অনৈতিক কাজের দায়ে মক্কায় দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর কালীগঞ্জে মাদকবিরোধী মিনি ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত

বিয়ের আগে নিভে গেল ঘরেরআলো: দুধ আনতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে প্রাণ গেল মায়ের

  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ, ২০২৬
  • ৫৩ ভিজিটর

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি: সন্তানদেরমুখে দুধ তুলে দিতে প্রতিদিনের মতোই সকালে গোয়ালঘরে ঢুকেছিলেন তিনি। ঘরভর্তি ছিলবিয়ের প্রস্তুতির ব্যস্ততা, মেয়ের গায়ে হলুদের রঙিন স্বপ্ন। কিন্তু সেই ঘরেই হঠাৎ লিকেজবিদ্যুতের স্পর্শে থেমে গেল এক মায়ের জীবন। বিয়ের আগের দিন আর কন্যাকে পাত্রস্থ করাহলো না।

হৃদয়বিদারক এই ঘটনাটি ঘটেছে সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার খাজরা ইউনিয়নেরঘুঘুমারি গ্রামে।

স্থানীয়সমাজকর্মী কৃষ্ণ ব্যানার্জী জানান, ঘুঘুমারি গ্রামের সর্বজনপ্রিয় কৃষক দেবাশীষ সানার স্ত্রীদীপিকা সানা (৩৫) ছিলেন সৎ, পরিশ্রমী ও মমতাময়ী একজন গৃহিণী। মঙ্গলবার সকালে গরুর দুধআহরণের জন্য গোয়ালঘর পরিষ্কার করতে গিয়ে অসাবধানতাবশত লিকেজ বিদ্যুতের তারে স্পৃষ্ট হন তিনি। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।

পরিবারসূত্রে জানা যায়, দীপিকা-দেবাশীষ দম্পতির দ্বিতীয় সন্তান অর্পিতা সানার (১৮) বিয়ে ঠিকহয়েছিল। বাড়িতে চলছিল শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। নিজের হাতে ঘরদোর গুছিয়েছিলেন দীপিকা, মেয়ের নতুন জীবনের স্বপ্নে বিভোর ছিলেন তিনি। কিন্তু নির্মম নিয়তি সেই আনন্দকে রূপ দিলশোকে। মুহূর্তেই বিয়ের বাড়ি হয়ে উঠল শোকের বাড়ি।

খাজরাইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম বাচ্চু বলেন, এটি অত্যন্ত মর্মান্তিক ঘটনা। দীপিকার মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দীপিকা-দেবাশীষদম্পতির তিন সন্তান অভীক সানা (১৯), অর্পিতা সানা (১৮) ও অর্ণব সানা (৯)। সন্তানদেরলেখাপড়া ও ভবিষ্যতের স্বপ্ন পূরণে দুজনেই কঠোর পরিশ্রম করতেন।
গ্রামের মানুষ জানায়, সংসারের প্রতিটি খুঁটিনাটি নিজ হাতে সামলে সন্তানদের মানুষ করার স্বপ্নই ছিল দীপিকারএকমাত্র লক্ষ্য।

আশাশুনি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শামীম আহমেদ খান জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সাতক্ষীরাসদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বিকেল ৫টা পর্যন্ত ময়নাতদন্ত শেষে লাশ ফেরেনি। মরদেহ ফিরলে পরিবার সৎকার কার্যক্রম সম্পন্ন করবে।

একটি পরিবারের হাসি-আনন্দের প্রস্তুতি যেখানে বিয়ের সানাই বাজানোর কথা ছিল, সেখানে আজনিঃশব্দ কান্না। সন্তানের মুখে দুধ তুলে দিতে গিয়ে নিজের জীবন উৎসর্গ করা এই মায়েরমৃত্যু যেন আবারও মনে করিয়ে দেয় অবহেলিত বৈদ্যুতিক সংযোগ কতটা ভয়ংকর হয়ে উঠতে পারে গ্রামবাংলার সাধারণ জীবনে।

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

Comments are closed.

এই বিভাগের আরও খবর