সাতক্ষীরা প্রতিনিধি : বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলা ও ইউনিয়ন শাখার আয়োজনে পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে আলোচনা সভা, দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। সাবেক সংসদ সদস্য কাজী আলাউদ্দীন-এর সার্বিক সহযোগিতায় রবিবার (১ মার্চ) ২০২৬ইং ১১ রমজান ১৪৪৭ হিজরি) বিকাল ৫টায় কালিগঞ্জ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এ আয়োজন করা হয়।
কালিগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও জেলা সদস্য শেখ এবাদুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সাবেক সদস্য সচিব ডা. শফিকুল ইসলাম বাবু’র সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কাজী আলাউদ্দীন। প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক এইচ. এম. রহমাতুল্লাহ পলাশ।
প্রধান বক্তার বক্তব্য রহমাতুল্লাহ পলাশ বলেন, দলের বিরুদ্ধে যারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন এবং ফাইনাল খেলায় দলকে হারানোর চেষ্টা করেছেন, তাদের পুনরায় দলে জায়গা দেওয়া হবে না। আমি যতদিন জেলা বিএনপির দায়িত্বে আছি, ততদিন দলের বিরোধিতাকারীদের কোনো ঠাঁই হবে না, মৃত্যুর আগ পর্যন্তও নয়।
তিনি আরও বলেন, দুঃসময়ে পদ-পদবি না পেয়েও আমি দল ছাড়িনি। কিন্তু সুদিনে এসে কেউ দলের বিরুদ্ধে অবস্থান নিলে তা কখনো মেনে নেওয়া হবে না।
এ সময় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আবু জাহিদ ডাবলুসহ অন্যান্য বক্তারা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর সমালোচনা করে বলেন, একটি দল ধর্মের কথা বলে মানুষের আবেগকে ব্যবহার করে মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোট নিয়েছে। তারা দাবি করেন, বিভ্রান্তির কারণে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী কাজী আলাউদ্দীনকে বিজয়ী করা সম্ভব হয়নি এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ভুল না করার আহ্বান জানান।
বক্তারা আরও বলেন, সাতক্ষীরার চারটি আসন জামায়াতের দখলে যাওয়ায় বিএনপি সমর্থকদের মধ্যে দুঃখ রয়েছে এবং ভবিষ্যতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে কাজী আলাউদ্দীন বলেন, আমি বিজয়ী হতে পারিনি, এতে আমার কোনো দুঃখ নেই। কিন্তু দলের মধ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবেন না। ঐক্যবদ্ধ হয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর হাতকে শক্তিশালী করতে হবে। তিনি বলেন, আগামীতে দল যাকে মনোনয়ন দেবে, তার পক্ষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে এবং দলের বাইরে গিয়ে বিভাজন সৃষ্টি না করার আহ্বান জানান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল হাসান হাদী, জেলা সদস্য ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের বিভাগীয় সমন্বয়ক ইঞ্জিনিয়ার আইয়ুব হোসেন (মুকুল), জেলা সদস্য ও আশাশুনি উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক স. ম. হেদায়েতুল ইসলাম এবং জেলা সদস্য শেখ নুরুজ্জামান।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক জুলফিকার আলী সাঁপুই, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ লুৎফর রহমান, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হাফিজুর রহমান শিমুল, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম, জিএম রবিউল্লাহ বাহার, কাজী আলাউদ্দীনের জ্যেষ্ঠপুত্র কাজী সাজিদুর রহমান সাজু, উপজেলা কৃষকদলের আহ্বায়ক রোকনুজ্জামান, উপজেলা ওলামাদলের সভাপতি হাফেজ আব্দুল মজিদ, উপজেলা তাঁতিদলের সভাপতি শরীফ আব্দুর রাজ্জাক, জাসাসের সভাপতি মুরশীদ আলী গাজী, মেম্বার ফারুক হোসেন, উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শফিউল ইসলাম মিলন, কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি তাসকিন মেহেদী তাজসহ উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক ও তৃণমূল পর্যায়ের শতশত নেতাকর্মী।
দোয়া মাহফিলে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া-এর রুহের মাগফিরাত কামনা করা হয়। পাশাপাশি তারেক রহমানের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনায় বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠান শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন হাফেজ আব্দুল মজিদ এবং মোনাজাত পরিচালনা করেন আলহাজ্ব কাজী আলাউদ্দীন।
অনুষ্ঠান শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও মঙ্গল কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।