শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:২১ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
নরসিংদীতে সিএনজি-কাভার্ডভ্যানের সংঘর্ষ, নি*হত ২ সৌদী আরবে সহকর্মীকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ গেল কালীগঞ্জের আব্দুল্লাহর জাতিসংঘে দূরদর্শী ভাষণ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের, রাষ্ট্রপতির অভিনন্দন বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ কোনো ধরনের অরাজকতা, সহিংসতা ও নাশকতা চায় না-এমপি ফজলুল হক মিলন গাজীপুরে অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন অভিযান, ১ লাখ ৬৫ হাজার টাকা জরিমানা গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা ও টেক্সটাইল খাতে অতিরিক্ত ৫% প্রণোদনার দাবি স্পিনিং শ্রমিক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের গাজীপুরে ট্রাক-ইজিবাইক সংঘর্ষে নিহত ৩ নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে এগোচ্ছেন এমপি ফজলুল হক মিলন কমেছে হজের বিমানভাড়া ঢাকা গ্যাজেট ও যুগান্তরে সংবাদ প্রকাশ : স্কুলের জমি লিজের টাকা ফেরত দিলেন দুই বিএনপি নেতা

সৌদী আরবে সহকর্মীকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ গেল কালীগঞ্জের আব্দুল্লাহর

  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৪ ভিজিটর

কালীগঞ্জ (গাজীপুর) প্রতিনিধি: পরিবারের স্বপ্নপূরণ ও স্বচ্ছলতার আশায় সাত বছর ধরে সৌদি আরবে প্রবাসজীবন কাটাচ্ছিলেন মো. আব্দুল্লাহ (৩০)। দেশে থাকা অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী, আড়াই বছরের কন্যাসন্তান এবং বৃদ্ধ মা-বাবাকে ঘিরেই ছিল তাঁর ভবিষ্যতের সব পরিকল্পনা। কিন্তু কর্মস্থলে সহকর্মীর জীবন বাঁচাতে গিয়ে বিষাক্ত কেমিক্যালের সংস্পর্শে প্রাণ হারিয়ে সেই স্বপ্নের ইতি ঘটেছে তাঁর।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে কর্মস্থলে কেমিক্যাল দূষণের ঘটনায় আব্দুল্লাহসহ চারজন বিদেশি নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে বলে তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। নিহত আব্দুল্লাহ গাজীপুরের কালীগঞ্জ পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের দুর্বাটি গ্রামের সাবেক সেনাসদস্য মো. ইসমাঈল হোসেনের তৃতীয় ছেলে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় সাত বছর ধরে রিয়াদের ‘আব্দুল লতিফ কোম্পানি’তে কর্মরত ছিলেন আব্দুল্লাহ। এ সময়ের মধ্যে তিনি দুইবার ছুটিতে দেশে এসেছিলেন। সর্বশেষ প্রায় এক মাস আগে ছুটি কাটিয়ে আবার সৌদি আরবে কর্মস্থলে ফিরে যান তিনি।

নিহতের বড় ভাই মো. আসাদুজ্জামান জানান, বৃহস্পতিবার কর্মস্থলে কাজ করার সময় হঠাৎ একটি কেমিক্যাল গ্যাস ছড়িয়ে পড়ে। এতে এক সহকর্মী গুরুতরভাবে আক্রান্ত হলে আব্দুল্লাহ কোনো কিছু না ভেবে তাঁকে উদ্ধারে এগিয়ে যান। এ সময় তিনি নিজেও বিষাক্ত কেমিক্যালের সংস্পর্শে আক্রান্ত হন। পরে ঘটনাস্থলেই আব্দুল্লাহসহ আরও তিনজন বিদেশি নাগরিকের মৃত্যু হয় বলে পরিবারের কাছে খবর আসে। কান্নাজড়িত কণ্ঠে আসাদুজ্জামান বলেন, ‘আমার ভাই সব সময় খুব পরোপকারী ছিল। নিজের কথা না ভেবে বিপদে পড়া সহকর্মীকে বাঁচাতে এগিয়ে গিয়েছিল। কিন্তু সেই চেষ্টাই শেষ পর্যন্ত তার প্রাণ কেড়ে নিল।’ আব্দুল্লাহর মৃত্যুর খবর বাড়িতে পৌঁছানোর পর থেকেই শোকের মাতম চলছে। বৃদ্ধ মা-বাবার আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে দুর্বাটি গ্রামের বাড়ির পরিবেশ। স্বজন ও প্রতিবেশীদের মধ্যেও নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

নিহতের পারিবারিক সূত্র জানায়, স্ত্রী-সন্তান ও মা-বাবার ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে প্রবাসে কঠোর পরিশ্রম করছিলেন আব্দুল্লাহ। পরিবারের আর্থিক স্বচ্ছলতার স্বপ্ন নিয়ে বিদেশে পাড়ি দেওয়া এই যুবকের আকস্মিক মৃত্যুতে তাঁর পরিবারের ভবিষ্যৎ নিয়েও দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। আব্দুল্লাহর স্ত্রী বর্তমানে অন্তঃসত্ত্বা। তাঁদের আড়াই বছরের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। বাবার মৃত্যুর অর্থ বোঝার বয়সও হয়নি ছোট্ট মেয়েটির। অন্যদিকে অনাগত সন্তানটিও পৃথিবীর আলো দেখার আগেই বাবাকে হারিয়েছে।

এদিকে সহকর্মীকে বাঁচাতে গিয়ে আব্দুল্লাহর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর রিয়াদে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। শোকার্ত পরিবার আব্দুল্লাহর মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি তাঁর অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়াতে সরকারের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা কামনা করেছে।

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

Comments are closed.

এই বিভাগের আরও খবর