শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ০১:২১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
নরনিংদীতে বাবার হাতে ছেলে খুন নেপথ্যে মাদক পলিথিন ও প্লাস্টিকের বিস্তার ঠেকাতে অভিযান জোরদার ফ্যাসিবাদী শাসনে সবকিছু ধ্বংস হয়ে গেছে: রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ব্যাংককে জি-২০ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রীদের বৈঠক শুরু আজ মসজিদে অনৈতিক কাজের দায়ে মক্কায় দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর কালীগঞ্জে মাদকবিরোধী মিনি ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত গাজীপুরে অবৈধ গ্যাস ব্যবহারের দায়ে ৩ লাখ টাকা জরিমানা টঙ্গীতে ওষুধ কারখানায় আগুন : ২১ ইউনিটের চেষ্টায় প্রায় ৩ ঘন্টা পর নিয়ন্ত্রণে গাজীপুরে অবৈধ গ্যাস ব্যবহারের দায়ে দুইজনকে ৩ লাখ টাকা জরিমানা গাজীপুরে বিএসটিআই এর উদ্যোগে বিশ্ব মান দিবস পালন

মাভাবিপ্রবিতে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান ২০২৬’ উপলক্ষে দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত

  • আপডেট টাইম : সোমবার, ৩ আগস্ট, ২০২৬
  • ১১৭ ভিজিটর

মাভাবিপ্রবি (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি: ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান ২০২৬’ উদযাপন উপলক্ষে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (মাভাবিপ্রবি) দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে আয়োজিত এসব কর্মসূচিতে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং আশপাশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।

দিনব্যাপী কর্মসূচির মধ্যে ছিল জুলাই ম্যারাথন, জুলাই রচনা প্রতিযোগিতা, জুলাই কুইজ প্রতিযোগিতা, শিশু-কিশোর চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, জুলাই বিষয়ক বিতর্ক প্রতিযোগিতা, ফটোফ্রেম প্রদর্শনী এবং বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ।

সকাল ৭টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে থেকে জুলাই ম্যারাথনের মাধ্যমে কর্মসূচির সূচনা হয়। সকাল ৯টায় আইসিটি বিভাগে অনুষ্ঠিত জুলাই রচনা প্রতিযোগিতায় শিক্ষার্থীরা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস, গণতন্ত্র, নাগরিক অধিকার এবং নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে তরুণদের ভূমিকা নিয়ে প্রবন্ধ রচনা করেন।

একই সময়ে বিজিই বিভাগে জুলাই কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। দেশের ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধ, জুলাই গণঅভ্যুত্থান, সংবিধান এবং সমসাময়িক নানা বিষয়ের ওপর প্রতিযোগীরা অংশগ্রহণ করেন।

সাইবার সেন্টারে শিশু-কিশোর চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও ফটোফ্রেম প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। কোমলমতি শিক্ষার্থীরা তাদের তুলির আঁচড়ে দেশপ্রেম, স্বাধীনতার চেতনা, শহীদদের আত্মত্যাগ এবং নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন ফুটিয়ে তোলে। একই স্থানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানভিত্তিক বিভিন্ন আলোকচিত্রের প্রদর্শনী দর্শনার্থীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

পরবর্তীতে সাইবার সেন্টারে জুলাই বিষয়ক বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা যুক্তি, তথ্য ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের তাৎপর্য, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং নাগরিক দায়িত্ব সম্পর্কে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন।

এ ছাড়া, ২ আগস্ট সন্ধ্যায় জুলাই শহীদদের স্মরণে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মোমবাতি প্রজ্বলন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

সবশেষে সাইবার সেন্টারে অনুষ্ঠিত পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার ও সনদ তুলে দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রো-ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক মো. আনিছুর রহমান। এ সময় আরও বক্তব্য দেন জুলাই উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. মোস্তফা কামাল নাসির, কমিটির সদস্য-সচিব ও শিক্ষার্থী কল্যাণ ও পরামর্শদান কেন্দ্রের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. ফজলুল করিম এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মনির মোর্শেদ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন উদযাপন উপকমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. জিয়াউর রহমান। স্বাগত বক্তব্য দেন উপকমিটির সদস্য-সচিব ড. মোঃ রাশেদুজ্জামান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাননীয় ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলাম বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থান আমাদের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা, ন্যায়বিচার এবং বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। নতুন প্রজন্মকে এই ইতিহাস জানতে হবে এবং এর চেতনা ধারণ করে দেশ ও জাতির কল্যাণে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যারা অংশগ্রহণ করেছেন, তাদের সঙ্গে আমরা কোনো দিন বেইমানি করব না। শিক্ষা, গবেষণা, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধের সমন্বয়ে দক্ষ, দায়িত্বশীল ও দেশপ্রেমিক নাগরিক তৈরির মাধ্যমে মাভাবিপ্রবি জাতীয় উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।”

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রো-ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক মো. আনিছুর রহমান বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা শুধু একটি স্মৃতিচারণ নয়; এটি দায়িত্ববোধ, ঐক্য, গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি এবং ইতিবাচক পরিবর্তনের অনুপ্রেরণা। শিক্ষার্থীদের জ্ঞানচর্চার পাশাপাশি দেশপ্রেম, সহনশীলতা ও নেতৃত্বের গুণাবলি অর্জনের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ বিনির্মাণে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে।”

বক্তারা বলেন, এ ধরনের আয়োজন তরুণ প্রজন্মের মধ্যে দেশপ্রেম, ইতিহাসচেতনা, সৃজনশীলতা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

দিনব্যাপী বিভিন্ন প্রতিযোগিতা ও প্রদর্শনীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী, শিক্ষার্থী এবং আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ উপস্থিত থেকে প্রতিযোগীদের উৎসাহিত করেন। আনন্দঘন পরিবেশে কর্মসূচির সফল সমাপ্তি ঘটে।

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

Comments are closed.

এই বিভাগের আরও খবর