স্টাফ রিপোর্টার: রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পু আগামীকাল শুক্রবারই পদত্যাগ করতে পারেন বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে চুপ্পু সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানা যায়।
চলতি মাসের মধ্যেই তিনি বঙ্গভবন ছাড়তে পারেন। উন্নত চিকিৎসার জন্য তার সিঙ্গাপুর যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এর আগে একই দেশে তিনি বাইপাস সার্জারিসহ হৃদরোগের চিকিৎসা নিয়েছিলেন।
রাষ্ট্রপতি তার এই ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত ও চিকিৎসার পরিকল্পনার বিষয়টি বঙ্গভবনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং ঘনিষ্ঠজনদের অবহিত করেছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। বঙ্গভবন সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
এদিকে রাষ্ট্রপতির মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের খবরে সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। চিকিৎসার জন্য বর্তমানে থাইল্যান্ড সফরে থাকা স্পিকার শুক্রবার দেশে ফিরছেন। পূর্ব নির্ধারিত সময় অনুযায়ী তার আগামী ২৬ জুলাই রোববার দেশে ফেরার কথা ছিলো। সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতিকে স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিতে হবে।
চিকিৎসার জন্য গত ১৯ জুলাই ব্যাংকক সফরে যান স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। সফরসূচি অনুযায়ী, আগামী ২৬ জুলাইয়ের জন্য ফিরতি টিকিট কাটা ছিল। কিন্তু সফরসূচি সংক্ষিপ্ত করে শুক্রবার দেশে ফিরতে স্পিকারকে সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে অনুরোধ করা হয়েছে বলে সংসদ সচিবালয়ের একাধিক সূত্রে জানা গেছে।
বাংলাদেশের সংবিধানের ৫০ (৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, স্পিকারের স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে পদত্যাগ করতে পারবেন রাষ্ট্রপতি। সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে বা তিনি দায়িত্ব পালনে অক্ষম হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। সে ক্ষেত্রে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়া পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
স্পিকার সাময়িকভাবে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করলেও, সংবিধানের ১২৩ (১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদের সদস্যদের ভোটে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে।
বাংলাদেশে সর্বশেষ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ছিলেন অষ্টম জাতীয় সংসদের স্পিকার প্রয়াত জমির উদ্দিন সরকার। বিএনপি-জামায়াত নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের সময়ে ২০০২ সালে সাবেক রাষ্ট্রপতি এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর পদত্যাগের পর ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পান। তিনি ২১ জুন ২০০২ থেকে ৬ সেপ্টেম্বর ২০০২ পর্যন্ত এই পদে ৭৮ দিন দায়িত্ব পালন করেন।