সোমবার, ০৪ মে ২০২৬, ০১:২১ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
জনবান্ধব রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য : প্রধানমন্ত্রী আবুধাবীতে বিএনপির উদ্যোগে শোক সভা ও দোয়া মাহফিল দেশে পর্যাপ্ত কোরবানির পশু আছে, আমদানির প্রয়োজন নেই : প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী সিংড়ায় ধান-চাল সংগ্রহ অভিযান উদ্বোধন প্রান্তিক পর্যায়ে স্বাস্থ্য সেবা পৌঁছে দিতে ৫০ শয্যা হাসপাতাল ১০০ শয্যায় উন্নীত করা হবে : ফজলুল হক মিলন চলনবিলে টানা বৃষ্টি ও ঢলের পানি: সিংড়ায় ফসল বাঁচাতে কৃষকের আপ্রাণ লড়াই হুনাইনের জাদুতে ফাইনালে কিংসমেন হরমুজের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরো জোরদার করছে ইরান কালিগঞ্জ ইসলামী ব্যাংকের শাখা প্রধান হাবিবুর রহমানকে বিদায়ী সম্বর্ধনা প্রদান সাতক্ষীরায় আম ক্যালেন্ডার ঘোষণা

জনবান্ধব রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য : প্রধানমন্ত্রী

  • আপডেট টাইম : সোমবার, ৪ মে, ২০২৬
  • ৭ ভিজিটর
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ফাইল ছবি

স্টাফ রিপোর্টার : জনগণকে দেওয়া ওয়াদা পূরণে জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একটি দুর্নীতিমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠায় জনবান্ধব প্রশাসন গড়ার কথাও বলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একটি শক্তিশালী জবাবদিহিমূলক আইনসম্মত এবং জনবান্ধব রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।’

রোববার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে চারদিনব্যাপী জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলন-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের ওপর একটি ভিডিওচিত্র প্রদর্শন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডিসি ও বিভাগীয় কমিশনার ছাড়াও মন্ত্রিসভার সদস্য, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা এবং সচিবসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ডিসিদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি পরিষ্কার করে আপনাদের সামনে তুলে ধরতে চাই, নির্বাচনি ইশতেহার এবং জনগণের সামনে স্বাক্ষরিত জুলাই সনদের প্রতিটি দফা, প্রতিটি অঙ্গীকার পর্যায়ক্রমে আমরা বাস্তবায়ন করতে চাই। আমরা এ ব্যাপারে বদ্ধপরিকর। আমি আশা করব, আপনারা আপনাদের মেধা ও যোগ্যতা দিয়ে জনগণের কাছে দেওয়া সরকারের প্রতিটি প্রতিশ্রুতি দক্ষতার সঙ্গে বাস্তবায়নে ইনশাল্লাহ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবেন।’

মাঠ প্রশাসকদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা রাষ্ট্র পরিচালনায় সর্বোচ্চ প্রশাসনিক স্তরে অবস্থান করছেন। একটি শক্তিশালী জবাবদিহিমূলক আইনসম্মত এবং জনবান্ধব রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে আপনারাই সরকারের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। সুশাসন বর্তমান সরকারের রাষ্ট্র পরিচালনার মূল ভিত্তি। সুশাসনের জন্য প্রয়োজন দক্ষ ব্যবস্থাপনা, যোগ্য নেতৃত্ব এবং অবশ্যই জবাবদিহি। দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার। সেটি হচ্ছে, আমরা দুর্নীতির সঙ্গে কম্প্রোমাইজ করতে চাই না।’

নির্দেশনামূলক বক্তব্যে সরকারপ্রধান বলেন, ‘নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত জরুরি। ব্যয়ের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা বজায় রাখা অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। কাজের গুণগতমান নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। একই সঙ্গে প্রয়োজনের অতিরিক্ত আইনকানুন ও জটিতলতাকে অজুহাত হিসেবে আমরা ব্যবহার না করে বরং বাস্তবসম্মত কার্যকর ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্ত গ্রহণের মানসিকতা প্রশাসনের সব পর্যায়ে গড়ে তোলার চেষ্টা করি, যাতে জনগণ সময়মতো সরকারের প্রতিটি কর্মসূচির প্রত্যাশিত যে সুফল, সেটি লাভ করতে পারে।’

প্রধানমন্ত্রী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন পরিচালনায় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের পেশাদারির ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, এটি প্রমাণ হয়েছে যে, জনপ্রশাসন চাইলে একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দিতে পারে।

দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে ভঙ্গুর অর্থনীতি এবং ৩০ লাখ কোটি টাকার ঋণের বোঝা নিয়ে যাত্রা শুরু করেছি। ফ্যাসিবাদী শাসনামলের দুর্নীতি প্রতিটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে অকার্যকর করে দিয়েছিল।’ তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ‘জুলাই সনদ’-এর প্রতিটি অঙ্গীকার পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করতে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর।

এবারের সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী ‘অ্যাকশন প্ল্যান’ হিসেবে ডিসিদের প্রতি কিছু নির্দেশনার কথা তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে বাজার সিন্ডিকেট দমন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোনো ধরনের কৃত্রিম সংকট বা মজুতদারি সহ্য করা হবে না। নিয়মিত বাজার তদারকির মাধ্যমে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।

খাল খনন ও কৃষি বিপ্লবের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রযুক্তির ওপর নির্ভর না করে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন কর্মসূচিতে জনগণকে সরাসরি সম্পৃক্ত করা হবে। এটি কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি গ্রামীণ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে।

ডিজিটাল ও স্মার্ট প্রশাসনের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের প্রযুক্তি ব্যবহার করে সরকারি সেবাকে আরো দ্রুত ও হয়রানিমুক্ত করা এবং কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড ও স্পোর্টস কার্ডের সঠিক বণ্টন ও ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানী ভাতা কার্যক্রম স্বচ্ছতার সঙ্গে বাস্তবায়ন করতে হবে।

মোবাইল কোর্টের কার্যকারিতার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, খাদ্যে ভেজাল, বাল্যবিবাহ এবং নারী ও শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্টকে আরো নিয়মিত ও দৃশ্যমান করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সততা, মেধা এবং দক্ষতাই হবে জনপ্রশাসনের নিয়োগ, বদলি কিংবা প্রমোশনের মূলনীতি। স্বচ্ছতা এবং দ্রুততার সঙ্গে শূন্যপদে জনবল নিয়োগ, শক্তিশালী পাবলিক সার্ভিস কমিশন গঠন, বেসরকারি সার্ভিস রুল প্রণয়নসহ সর্বত্র প্রশাসনিক কাঠামোর কার্যকারিতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘জাতীয় ঐক্যই হচ্ছে আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। আমাদের মধ্যে মতভেদ থাকতেই পারে কিন্তু দেশের স্বার্থে ব্যক্তিগতভাবে একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে আমি বিশ্বাস করি, সবার আগে বাংলাদেশ।’

এবারের সম্মেলনে ৫৬টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং নীতিনির্ধারকরা উপস্থিত থাকছেন। চার দিনে ৩৪টি অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে, যার মধ্যে ৩০টিই হলো সরাসরি কার্যঅধিবেশন। মাঠ প্রশাসন থেকে এবার এক হাজার ৭২৯টি প্রস্তাব পাওয়া গেছে, যার মধ্যে বাছাই করা ৪৯৮ প্রস্তাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। সবচেয়ে বেশি প্রস্তাব এসেছে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ-সম্পর্কিত।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গণির সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আবদুস সাত্তার, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মো. জিয়াউদ্দীন, পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী এবং নাটোরের জেলা প্রশাসক আসমা শাহীন বক্তব্য দেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন বিভাগীয় কমিশনার ও ডিসিরা।

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

Comments are closed.

এই বিভাগের আরও খবর