রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬, ০২:৩৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
আখেরী মোনাজাতের মাধ্যমে শেষ হয়েছে ৬২ তম বার্ষিক ৩দিন ব্যাপী ওরছ শরীফ আমি আপনাদের সহযোগিতা কামনা করি – সিটি প্রশাসক শওকত হোসেন সরকার কালীগঞ্জে জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে ১৫ জন প্রতিবন্ধীকে হুইলচেয়ার প্রদান বাংলাদেশ দূতাবাস আবুধাবি ও বাংলাদেশ কনসুলেট দুবাইয়ে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস-২০২৬ উদযাপন আবুধাবীর বিদা জায়েদে জয়নাব বিল্ডিং মেটেরিয়ালস এর যাত্রা শুরু জ্বালানি তেল মজুত প্রতিরোধ ও নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিতে বিজিবি মোতায়েন সাতক্ষীরা তালায় সরকারি রাস্তা কেটে ঘের সম্প্রসারণের অভিযোগ নদী, খাল ও সমুদ্র উপকূল রক্ষায় আইনে যুগান্তকারী পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে সরকার মাভাবিপ্রবিতে গুচ্ছভুক্ত ‘সি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত সিংড়ায় আওয়ামী লীগ নেতা হান্নান আহমেদ হাসান গ্রেপ্তার

নদী, খাল ও সমুদ্র উপকূল রক্ষায় আইনে যুগান্তকারী পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে সরকার

  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২৬
  • ৩৭ ভিজিটর
নদী। সংগৃহীত ছবি

স্টাফ রিপোর্টার :নদী, খাল ও সমুদ্র উপকূল রক্ষায় আইনে যুগান্তকারী পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে সরকার। এ পরিবর্তনে আগামীতে অবৈধভাবে নদীর জায়গা দখল করলে এবং এ দখল উদ্ধারে সরকারি কাজে বাধা দিলে তা ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। আর এ অপরাধে অপরাধীর শাস্তি হবে দ্বিগুণ।

অনুরূপভাবে অবৈধভাবে বালু, পাথর বা মাটি উত্তোলন এবং অবৈধ দখল, দূষণ ও নাব্য বিনষ্ট করলে শাস্তি দেওয়া যাবে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড এবং ১৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড। এছাড়া দেশের সব নদীকে আইনি ব্যক্তি, আইনি সত্তা ও জীবন্ত সত্তা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।

জাতীয় নদীরক্ষা কমিশন (সংশোধন) আইন, ২০২৬-এর খসড়ায় এসব বিধান যুক্ত করা হয়েছে। খসড়া আইনের ওপর আগামী ১৬ এপ্রিলের মধ্যে সংশ্লিষ্টদের মতামত দেওয়ার জন্য নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় থেকে আহ্বান করা হয়েছে। পরে তা চূড়ান্ত করে মন্ত্রিপরিষদের অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে।

প্রস্তাবিত আইনের খসড়াটি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, নতুন আইনে জাতীয় নদীরক্ষা কমিশনকে একটি স্বাধীন ও সংবিধিবদ্ধ সংস্থা হিসেবে কার্যকর করার প্রস্তাব করা হয়েছে। অনুরূপভাবে কমিশন চাইলে সরকারি-বেসরকারি যেকোনো প্রতিষ্ঠানের নদীদখল ও দূষণসংক্রান্ত অনিয়মের বিরুদ্ধে সরাসরি তদন্ত, অনুসন্ধান ও পরিদর্শন করতে পারবে। এছাড়া অবৈধ দখল উচ্ছেদে ব্যবস্থা নিতে পারবে। এমনকি মামলা দায়ের ও তদারক করতে পারবে। তাছাড়া খসড়া আইনে কমিশনকে নদী, খাল ও উপকূলের আইনগত অভিভাবক হিসেবে ঘোষণা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

খসড়া প্রস্তাবে আরো বলা হয়েছে, নদী ভরাট বা দখল, শিল্পবর্জ্য ফেলা, অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ, বালু বা মাটি উত্তোলন, নদীর প্রবাহ পরিবর্তনÑএসব কর্মকাণ্ডকে সরাসরি ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে। পুনরায় একই অপরাধ করলে শাস্তি হবে দ্বিগুণ।

আইনটি কার্যকর হলে আগামীতে নদী বা খালসংলগ্ন যেকোনো উন্নয়ন প্রকল্প নেওয়ার আগে কমিশনের অনাপত্তি (এনওসি) নিতে হবে। এমনকি পূর্বানুমোদিত প্রকল্প সংশোধন বা সম্প্রসারণের ক্ষেত্রেও এ অনুমোদন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। আইনে নতুনভাবে ‘সংকটাপন্ন নদী ও খাল এলাকা’ ঘোষণা করার বিধান রাখা হয়েছে। কোনো নদী বা খাল দখল, দূষণ বা নাব্য হ্রাসের কারণে ঝুঁকিতে পড়লে কমিশন তা ঘোষণা করতে পারবে এবং সংশ্লিষ্টদের জন্য বাধ্যতামূলক নির্দেশনা দিতে পারবে।

কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কারণে নদী বা পরিবেশের ক্ষতি হলে কমিশন ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করতে পারবে বা ক্ষতিপূরণ দিতে নির্দেশ দিতে পারবে। এমনকি কমিশন প্রয়োজনে আদালতে মামলা করতে পারবে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণ আদায়ে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে পারবে ।

আইনে বিশেষ নদী আদালত গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে আদালত স্থাপন না হওয়া পর্যন্ত প্রচলিত আদালতেই এসব অপরাধের বিচার করা যাবেÑএমন বিধান যুক্ত করা হয়েছে।

খসড়া আইনের বিষয়ে পরিবেশ বিশেষজ্ঞ এবং পরিবেশবিষয়ক সংস্থা ওয়াটারকিপারের নির্বাহী পরিষদের সদস্য শরীফ জামিল বলেন, নদীরক্ষা এবং দখল-দূষণ রোধে সরকারের উদ্যোগটি ইতিবাচক। প্রস্তাবিত আইনের খসড়ায় নদীকে আইনি সত্তা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া বাংলাদেশের পরিবেশ আইনে একটি বড় পরিবর্তন।

তিনি আরো বলেন, এর মাধ্যমে আগামীতে নদীর পক্ষে মামলা করা যাবে এবং সুরক্ষা নিশ্চিত করা সহজ হবে।

এই বিশেষজ্ঞ সতর্ক করে আরো বলেন, কমিশনের প্রকৃত স্বাধীনতা ও মাঠপর্যায়ের বাস্তবায়ন নিশ্চিত না হলে আইনটির কার্যকারিতা প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে। তাই এসব বিষয়ে নদীরক্ষা কমিশনকে শক্ত অবস্থানে থাকতে হবে।

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

Comments are closed.

এই বিভাগের আরও খবর