বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ০৩:৫৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
মাভাবিপ্রবির ২০২৫–২০২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত শ্রীপুরে স্ত্রী হত্যার ঘটনায় স্বামী গ্রেপ্তার, আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি গাজীপুর সিটিতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার টেন্ডার নিয়ে বিতর্ক: তদন্ত ও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি ভাওয়াল গড় ইউনিয়নের মানুষের সার্বিক উন্নয়নে কাজ করাই আমার একমাত্র লক্ষ্য : আলহাজ্ব মোঃ জয়নাল আবেদীন রিজভী গাজীপুরে তিতাস গ্যাসের মোবাইল কোর্ট পরিচালনা : ১ বছর কারাদণ্ড ও ২ লাখ টাকা জরিমানা সামান্য বৃষ্টিতেই ডুবে যায় গাজীপুর নগরী, এক যুগেও মিলেনি জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান স্টার্টআপের নতুন নতুন ধারণা নিয়ে কাজ করবে সরকার : প্রধানমন্ত্রী কালীগঞ্জে নগর মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন প্রকল্পের পরামর্শকরণ সভা অনুষ্ঠিত ফটিকছড়িতে গাছ কাটার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে জামাল নামে কাঠুরিয়ার মৃত্যু গাজীপুরে লাইসেন্স ও সনদ ছাড়াই ফিড বিক্রির অভিযোগে দুই প্রতিষ্ঠানকে ৮ লাখ টাকা জরিমানা

মুহাম্মদ মনির হোসেনের ‘পার্বত্য অঞ্চলের নদী’ গ্রন্থের প্রকাশনা উৎসব অনুষ্ঠিত

  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২৩ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ১৮১ ভিজিটর

স্টাফ রিপোর্টার: বাংলাদেশ রিভার ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও নদীপ্রেমী লেখক মুহাম্মদ মনির হোসেনের নতুন গ্রন্থ ‘পার্বত্য অঞ্চলের নদী’-এর মোড়ক উন্মোচন ও প্রকাশনা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ সোমবার বিকেল সাড়ে ৪টায় ঢাকায় চ্যানেল আই-এর মুস্তফা মনোয়ার স্টুডিও–৪ এ আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে নদী, পরিবেশ, গবেষণা ও গণমাধ্যম অঙ্গনের বিশিষ্টজনদের উপস্থিতিতে গ্রন্থটির মোড়ক উন্মোচন করা হয়। পুরো আয়োজনে সভাপতিত্ব করেন প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান প্রকৃতিবন্ধু মুকিত মজুমদার বাবু।

স্বভাবসুলভ নদীপ্রাণ শুভেচ্ছা দিয়ে ‘পার্বত্য অঞ্চলের নদী’ বইটির লেখক মুহাম্মদ মনির হোসেন জানান, বাংলাদেশের নদীগুলোর আলোচনায় মূলত গঙ্গা-মেঘনা-ব্রহ্মপুত্র বেসিনের সমতলের নদীগুলো নিয়ে কথা হয়।

অথচ পাহাড়ি নদী শঙ্খ, কাসালং, মাইনি, মাতামুহুরি, নাফ এসব নদীগুলোর জন্ম ও প্রবাহ সম্পূর্ণ স্বকীয় বৈশিষ্ট্যপূর্ণ। তাই নদীগুলো নিয়ে বিস্তর গবেষণার শুরুটা এই বইয়ের মাধ্যমে হলো।

মনির বলেন, ‘বেসিন ভিত্তিক নদী নিয়ে গবেষণা, রক্ষার চিন্তা হলেও এই বেসিনের বাইরে আমাদের পাহাড়ি নদীগুলো বাঁচাতে হলে দরকার বিস্তারিত গবেষণা, এসবকে সংযোজন করে আলোচনা করা। পাহাড়ি নদীগুলো নিয়ে আলাদাভাবে চিন্তা করতে হবে, এসব নদীর বৈশিষ্ট্য, সৌন্দর্য্য এবং এদের ঘিরে বেঁচে থাকা সম্প্রদায়গুলোর জীবনধারা স্বকীয় বৈশিষ্ট্যে ভরা।

পাহাড়ি নদী নিয়ে আগামীতে বিস্তারিত গবেষণার পথ সুগম করতেই আমার এই ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা।’
অনুষ্ঠানে মুকিত মজুমদার বাবু বলেন,‘এ ধরনের একটি বই, রেফারেন্স বুক হিসেবে কাজ করবে। আশা করব মনির আরো বিস্তারিত তথ্য দিয়ে এবং পরিসংখ্যান দিয়ে আরো বড় একটি বই বের করবেন, যেটা সবার কাজে লাগবে।’

পাহাড়ি নদী রক্ষার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, ‘যদি আমাদের সবুজ পাহাড়গুলো না থাকতো তাহলে আমাদের নদীগুলো বেঁচে থাকতো না।

পাহাড় এবং নদী একটির সঙ্গে আরেকটি অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত। পাহাড়, ছড়া এবং গাছ অবশ্যই রক্ষা করতে হবে, তাহলেই পার্বত্য নদীগুলোর প্রবাহ থাকবে, নদীগুলো বেঁচে থাকবে।’

অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নদী গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক ড. মো. আলাউদ্দিন হোসেন, পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক ড. মো. সোলাইমান হায়দার, নৌপরিবহন বিশেষজ্ঞ মো. মনোয়ার হোসেন, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)-এর সাধারণ সম্পাদক আলমগীর কবির এবং বাংলা একাডেমির সহকারী পরিচালক মো. আজিজুল হক। অনুষ্ঠানের প্রারম্ভিক আলোচক ছিলেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক অসীম বিভাকর।

‘পার্বত্য অঞ্চলের নদী’ গ্রন্থে লেখক বাংলাদেশের পার্বত্য অঞ্চলের নদ-নদীগুলোর উৎস, প্রবাহ, ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা, পরিবেশগত গুরুত্ব ও ভবিষ্যৎ সংকট গভীরভাবে বিশ্লেষণ করেছেন।

বইটিতে চেঙ্গি, কর্ণফুলী, সাঙ্গু, মাতামুহুরী, নাফসহ পূর্বাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ নদীগুলোর দীর্ঘকালীন প্রবাহ-ধারা, পাহাড়ি বন ও জীববৈচিত্র্যের সঙ্গে তাদের নিবিড় সম্পর্ক এবং মানবজীবন ও সংস্কৃতিতে নদীর প্রভাব তুলে ধরা হয়েছে।

মুহাম্মদ মনির হোসেন দীর্ঘদিন ধরে নদী গবেষণা, পর্যবেক্ষণ ও লেখালেখির মাধ্যমে নদী সংরক্ষণ আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন। এর আগে তিনি দেশ-বিদেশে শতাধিক নদী পরিদর্শন করেছেন এবং নদীনাম, নদীর সংকট ও সম্ভাবনা নিয়ে নিয়মিত লেখালেখি করছেন। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থসমূহের মধ্যে রয়েছে ‘নদী ও জলে ভ্রমণ’ (২০২১) এবং ‘গাজীপুরের নদী’ (২০২৩)।

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

Comments are closed.

এই বিভাগের আরও খবর