শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ০২:৩৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
১৮ বছরে বদলে গেছে ঢাকা ইস্ট, উন্নয়নের গল্প রেখে বিদায় ওয়ার্ল্ড ভিশনের কালীগঞ্জের বাহাদুরশাদী বনিকপাড়া ড্রেন নির্মাণে অনিয়মের নিউজ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন : মোঃ শওকত হোসেন ‘গুলি করি, মরে একটা, একটাই যায় স্যার’ বলা সেই ডিসি ইকবালকে বরখাস্ত করা হয়েছে কাপাসিয়ায় আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা, মাদক নিয়ন্ত্রণে সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান দেশের সব বোর্ডের এসএসসির ফল প্রকাশ, পাসের হার ৬২.২৫ বাউবিতে ‘স্কুল অব ল’ এর উদ্যােগে বিজেএস পরীক্ষা প্রস্তুতির ওয়েবিনার অনুষ্ঠিত ফটিকছড়িতে তারেক রহমানকে ঘিরে জনতার ঢল, বাবুনগরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ পর্যটন খাতে জিডিপির অবদান ৭ শতাংশে নিতে চায় সরকার : আফরোজা খানম সড়ক দুর্ঘটনায় আহত সাংবাদিক শেখ রাজিব হাসানের মৃত্যু বিদ্যুৎ খাতকে অস্থির করতে একটি চক্র বেশ সক্রিয় : প্রধানমন্ত্রী

‘গুলি করি, মরে একটা, একটাই যায় স্যার’ বলা সেই ডিসি ইকবালকে বরখাস্ত করা হয়েছে

  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬
  • ১০ ভিজিটর

স্টাফ রিপোর্টার:‘গুলি করি, মরে একটা, আহত হয় একটা। একটাই যায় স্যার, বাকিডি যায় না’—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া এমন বক্তব্যের আলোচিত পুলিশ কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইকবাল হোসাইনকে বরখাস্ত করেছে সরকার।

কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগে খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ওয়ারী বিভাগের সাবেক এ কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

বুধবার (১২ আগস্ট) রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীর সই করা এক আদেশে বরখাস্তের প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গে ইকবাল হোসাইনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। ৪৩ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে তাকে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি চালানোর বিষয়ে বলতে শোনা যায়।

ভিডিওতে ইকবাল হোসাইন বলেন, ‘গুলি করে করে লাশ নামানো লাগছে স্যার। গুলি করি, মরে একটা, আহত হয় একটা। একটাই যায় স্যার, বাকিডি যায় না। এইটা হলো স্যার সবচেয়ে বড় আতঙ্কের এবং দুশ্চিন্তার বিষয়।’

ভিডিওতে দেখা যায়, তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ঘিরে পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন ও সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব জাহাঙ্গীর আলম দাঁড়িয়ে আছেন। তাদের সামনে ইকবাল হোসাইন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে মুঠোফোনে একটি ভিডিও দেখাচ্ছেন। তখনই তিনি ওই মন্তব্য করেন।

বরখাস্তের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ-১ শাখার আদেশে ২০২৪ সালের ১৩ আগস্ট মোহাম্মদ ইকবাল হোসাইনকে খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে পুলিশ সুপার হিসেবে সংযুক্ত করা হয়। তিনি ২০২৪ সালের ২৮ আগস্ট অপরাহ্নে ওই কার্যালয়ে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।

তবে এরপর কর্মস্থলে যোগদানের জন্য বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা এবং ই-মেইল ঠিকানায় একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ২০২৪ সালের ২৮ আগস্ট থেকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন।

দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার ঘটনাকে সরকারি দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনে চরম অবহেলা এবং সরকারি আইনানুগ আদেশ প্রতিপালনে অবজ্ঞা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এ কর্মকাণ্ড সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী ‘পলায়ন’ হিসেবে গণ্য করা হয়।

এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলার পাশাপাশি তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি কোনো লিখিত জবাব দেননি। এমনকি জবাব দাখিলের সময় বাড়ানোর আবেদনও করেননি। পরে অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়।

তদন্ত শেষে দেওয়া প্রতিবেদনে তার বিরুদ্ধে ‘পলায়ন’-এর অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে মতামত দেওয়া হয়। তদন্ত প্রতিবেদন ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনার পর তাকে কেন চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হবে না, সে বিষয়ে দ্বিতীয় কারণ দর্শানোর নোটিশও দেওয়া হয়। কিন্তু তিনি ওই নোটিশেরও কোনো জবাব দেননি।

পরবর্তীতে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। গুরুদণ্ডের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) পরামর্শ চাওয়া হলে কমিশনও চাকরি থেকে বরখাস্তের সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত পোষণ করে।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলাআপিল) বিধিমালা বিধি অনুযায়ী নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ হিসেবে রাষ্ট্রপতি ইকবাল হোসাইনকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন।

এর পরিপ্রেক্ষিতে সরকারি কর্মচারী বিধিমালা অনুযায়ী মোহাম্মদ ইকবাল হোসাইনকে ২০২৪ সালের ২৮ আগস্ট থেকে চাকরি থেকে বরখাস্তের গুরুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

Comments are closed.

এই বিভাগের আরও খবর