স্টাফ রিপোর্টার : আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো: আসাদুজ্জামান বলেছেন, নিপীড়িত মানুষকে বিনামূল্যে আইনি সহায়তা দিতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আইনমন্ত্রী সে সময় মিথ্যা মামলা দেওয়ার সংস্কৃতি থেকে বের হওয়ারও আহ্বান জানান।
সোমবার রাজধানীর বনানীর কড়াইল বস্তি এরশাদ মাঠে ভ্রাম্যমাণ লিগ্যাল এইড ক্যাম্প উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। আইন মন্ত্রণালয়ের বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের উদ্যোগে জার্মান ফেডারেল মিনিস্টি ফর ইকোনোমিক কো-অপরারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে এই ভ্রাম্যমাণ ক্যাম্পের আয়োজন করে।
আইনমন্ত্রী জানান, কেউ অবিচারের শিকার হয়ে আইনজীবী নিয়োগ করতে না পারলে হটলাইন নাম্বারে কল দিয়ে সহায়তা চাইলে তা পাওয়া যাবে।
তিনি আরো বলেন, আমরা এমন একটা বিচার ব্যবস্থা চাই যেখানে কড়াইল বস্তি থেকে শুরু করে দেশের প্রধানমন্ত্রীও যেন সুবিচার পান। এলক্ষ্যে বর্তমান সরকার কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, কাউকে ক্ষমতাধর ব্যক্তি মনে করার দরকার নেই। কেউ আইনের ঊর্ধ্বে না। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নির্যাতিত ব্যক্তিরা ও জুলাই আন্দোলনে ক্ষতিগ্রস্তরাও বিনামূল্যে আইনি সহায়তা দেওয়ার কথা জানান তিনি।
লিগ্যাল এইড সেবা থেকে কেউ বঞ্চিত হলে আইন মন্ত্রণালয়কে অবহিত করার কথা জানিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, আদালতে যাওয়ার আগে কোনো সমস্যার সমাধানে লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে নিজেদের মধ্যে মীমাংসা করার চেষ্টা করুন। যারা পারিবারিক বা যৌন নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন কিন্তু আদালতে যেতে পারছেন না, তারা লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে আইনি সহায়তা পাবেন বলেও আশ্বাস দেন তিনি ।
তিনি আরও বলেন, আমরা মামলা জট কমাতে চাই। তাই, লিগ্যাল এইড কর্মসূচির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আবার কেউ মামলার মাঝামাঝিতে সমঝোতা করতে চাইলে তারও ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে।
রাজধানীর অন্যতম বৃহৎ বস্তি এলাকা কড়াইল বাসিন্দাদের দোরগোড়ায় সরাসরি বিনামূল্যে আইন সেবা পৌঁছে দিতে চালু করা হলো ভ্রাম্যমাণ লিগ্যাল এইড ক্যাম্প। জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস উপলক্ষে ‘সরকারি খরচে বিরোধ শেষ, সবার আগে বাংলাদেশ’-এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, বিশেষ করে নারী ও নিম্ন আয়ের মানুষ যারা খরচ, দূরত্ব ও আইনি সচেতনতার অভাবে ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হন, তাদের কাছে আইনি সেবা পৌঁছে দেওয়া।
আইনমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় আইনি সেবা পৌঁছে দিতে দুটি ভ্রাম্যমাণ যানের কার্যক্রম সূচনা করেন। এই লিগ্যাল এইড ক্যাম্পে পারিবারিক, জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধসহ নানান বিষয়ে পরামর্শ নিতে ভিড় করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। আইনমন্ত্রী নিজেই তাদের বক্তব্যে শুনে আইনি পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা দেন।