শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ১১:৩৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
হেফাজতের উদ্যোগে ঐক্যের পথে ৭ ইসলামী দল, নতুন জোটের সম্ভাবনার ইঙ্গিত রায়পুরায় পানিতে ডুবে ৪ মাদরাসাছাত্রীর মৃত্যু বন্যার ক্ষতি কাটাতে জরুরি সহায়তা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে সরকার : কৃষিমন্ত্রী কাপাসিয়ায় বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ জুলাই শহীদদের রক্ত বৃথা যাবে না: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মাভাবিপ্রবির ২০২৫–২০২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত শ্রীপুরে স্ত্রী হত্যার ঘটনায় স্বামী গ্রেপ্তার, আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি গাজীপুর সিটিতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার টেন্ডার নিয়ে বিতর্ক: তদন্ত ও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি ভাওয়াল গড় ইউনিয়নের মানুষের সার্বিক উন্নয়নে কাজ করাই আমার একমাত্র লক্ষ্য : আলহাজ্ব মোঃ জয়নাল আবেদীন রিজভী গাজীপুরে তিতাস গ্যাসের মোবাইল কোর্ট পরিচালনা : ১ বছর কারাদণ্ড ও ২ লাখ টাকা জরিমানা

সংসদের উচ্চকক্ষে ১০ ভাগ সিট ও পলিসি তৈরীতে সম্পৃক্ততার দাবী দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ীদের

  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১৭ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৭২ ভিজিটর

মোঃ হাজিনুর রহমান শাহীন : পোশাক শিল্পের নানা সংকট ও রপ্তানীর নিম্নমূখী ধারা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এ খাতের শীর্ষ ব্যবসায়ীরা। এসব সংকট উত্তরনে তারা সরকারের সহযোগিতা কামনা করেছেন। সেই সাথে আগামী সংসদ নির্বাচনে সংসদের উচ্চকক্ষে ১০ ভাগ সিট ও সরকারের নানা পলিসি মেকিংয়ে তাদের সম্পৃক্ততা চান। সোমবার রাজধানীর উত্তরা ক্লাবে আয়োজিত “ব্যবসায়ী সংকট ও রপ্তানীর নিম্নমুখী ধারা, উত্তরনের করণীয়” শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় তারা এসব দাবী জানান।
ব্যবসায়ীরা তাদের বক্তব্যে জানান, গত তিন মাস ধরে ব্যবসার নেগেটিভ গ্রোথ হচ্ছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে এ ধারা আরো কয়েকমাস অব্যাহত থাকার আশংকা তাদের। তারা জানান, এ কারণে বিজনেসের অবস্থা আরো খারাপ হবে। এসব বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সরকারের দ্রুত এগিয়ে আসা উচিত বলে মনে করছেন তারা। অবকাঠামো উন্নয়ন, ব্যাংকের সুদ হার কমানো, ঢাকা -চট্টগ্রাম এক্সপ্রেস ওয়ে সম্পন্ন করা, এনার্জি সমস্যা সমাধানসহ নানা সংকট সমাধানে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহনের জন্য সরকারের প্রতি আহবান জানান ব্যবসায়ীরা।
বিজিএমইএ এর সাবেক সভাপতি কাজী মোঃ মনিরুজ্জামানের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন, বিজিএমইএ এর বর্তমান সভাপতি মাহমুদ হাসান খান, সাবেক সভাপতি ফারুক হাসান, বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস এসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল, বাংলাদেশ গার্মেন্টস বায়িং হাউজ এসোসিয়েশনের (বিজিবিএ) সভাপতি মোহাম্মদ মোফাজ্জল হোসেন পাবেল, বিজিএমইএ সহ-সভাপতি মিজানুর রহমান, সাবেক সহ-সভাপতি শোভন আহমেদ, সদস্য মোঃ কফিল উদ্দিন, চৈতি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল কালাম, বাংলাদেশ ইলেকট্রনিক্স ম্যানুফেকচারারস এসোসিয়েশনের সভাপতি খোরশেদ আলম ,বিকেএমইএ এর পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন, উত্তরা ক্লাবের সভাপতি মোঃ ফয়সাল তাহের প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে বিজিএমইএ এর বর্তমান সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, আমাদের এনার্জি ইস্যু রয়েছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম এক্সপ্রেস ওয়ে , ব্যাংক ইন্টারেস্ট, কাস্টমস সমস্যা এবং আমাদেরকে এলডিসি গ্রাজুয়েশন চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। এলডিসি গ্রাজুয়েশনের যে প্ল্যান করছে, এর ১৫৭ টা পয়েন্টের মধ্যে সবগুলি হচ্ছে ফিউচার ট্যান্স। সবগুলি করিব, করিতেছে।
তিনি সরকারের উদ্দেম্যে বলেন, আমাদের ৪টা সমস্যার সমাধান করে দেন আজকে, কালকেই গ্রাজুয়েটেড হয়ে যান। এগুলি হচ্ছে, ব্যাংক ইন্টারেস্ট সিঙ্গেল ডিজিটে নামান অথবা লো কস্ট ফাইনান্স দেন, ঢাকা চট্টগ্রাম এক্সপ্রেস ওয়ে ঠিক করে দেন,যেন চার ঘন্টার যাওয়া যায়। তাতে করে দৈনিক ২ বার করে শিপমেন্ট দেওয়ার সুযোগ হবে। এনার্জি ইস্যু সমাধান করে দেন। অবকাঠামো উন্নয়ন করে দেন। কিন্ত বাস্তবতা হচ্ছে, চাইলেই সহসা এসব সমস্যার সমাধান হবে না। বিজনেস কমিউনিটি বা বিজনেস এসোসিয়েশন থেকে যতই কথা বার্তা বলি, সরকারে যারা থাকে বা থাকবেন, তাদের সাথে যদি আমাদের ইন্টারেকশন না হয়, তারা যদি আমাদের সমস্যা না বুঝেন, তাহলে কখনোই এসব সমস্যা সমাধান হবে না।


তিনি বলেন, বর্তমান সরকার হচ্ছে অন্তবর্তি সরকার, এই সরকারের সাথে কথাবার্তা বলে খুব একটা লাভ হবে না। আমি মনে করি, একটি ভাল ইলেকশন করা এই সরকারের এখন প্রধান দায়িত্ব। সাথে সাথে আইন শৃংখলা পরিস্থিতি যেন ভাল থাকে, সরকারের সেদিকে নজর দেওয়া দরকার। কারন আইনশৃংখলা পরিস্থিতি যদি ভাল না থাকে, তাহলে বায়ার আসতে চায় না ।
তিনি বলেন, নতুন বাংলাদেশে যে রাজনীতি সেটা হচ্ছে এই সংসদের নিম্নকক্ষ ও উচ্চ কক্ষ থাকবে। আমাদের দাবী হচ্ছে, উচ্চকক্ষে যে ১০০টা সিট, সেখান থেকে অন্তত ১০ জন দেওয়া উচিত শিল্প উদ্যোক্তা ও বিজনেসম্যানদেরকে। আমরা যদি সেধরনের প্রতিনিধি পাঠাতে পারি, তাহলে আমাদের স্বার্থ সংরক্ষিত হবে। আমাদের স্বার্থ সংরক্ষন মানে , দেশের অর্থনীতির উন্নয়ন নিশ্চিত করা।
তিনি আরো বলেন, সরকারের পলিসি মেকিংয়ে আমাদেরকে রাখা হয় না। এই যে এলডিসি গ্রাজুয়েশনে ১৫৭টি পয়েন্ট তৈরী করা হয়েছে, সেখানে আমাদেরকে ইনভল্ব করা হয়নি। আগামী দিনের ব্যবসা বাড়ানোর জন্য কি করা হবে, সেখানে আমাদেরকে রাখা হয় না। শুধুমাত্র বাজেটের আগে বিভিন্ন এসোসিয়েশনকে ডাকা হয় তাদের মতামত নেওয়ার জন্য। এটা একটা আইওয়াশ। তাদের মতামত নেয়, এমনকি ঐ রুম থেকে বের হওয়ার আগেই ওয়েস্ট বাস্কেটে ফেলে দেয়। এটা হচ্ছে বাস্তবতা। এ কারনে উচ্চ কক্ষে আমাদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার জন্য চেষ্টা করতে হবে।
বিজিএমইএ এর সাবেক সভাপতি ফারুক হাসান বলেন, নেগেটিভ গ্রোথের কারণে প্রাইমারি টেক্সটাইল একটা একটা করে অনেক লস দিচ্ছে। অনেকগুলো স্পিনিং মিল বন্ধ হয়ে গেছে , সাথে সাথে প্যাকেজিং ইন্ডাস্ট্রিরও একই অবস্থা। এভাবে যদি চলতে থাকে ভবিষ্যতে কিন্তু আমরা যে গার্মেন্টস সেক্টরে সাপ্লাই চেইনটা বেশ কয়েক বছর ধরে গ্রো করেছিলাম,এটা মুখ থুবড়ে পড়ে যাবে। আগামীতে যদি একটি ভালো সিচুয়েশন আসে তাহলে আমাদের এই ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ থেকে সে সুবিধা টা পাবো না।
তিনি বলেন, আমাদের কস্ট অফ প্রোডাকশন বেড়ে গেছে এবং আরো বাড়ছে। আমাদের কষ্ট অব ফান্ড অনেক বেড়ে গেছে। ইন্টারেস্ট রেট এক সময় সিঙ্গেল ডিজিটে নেমে এসেছিল। এখন এটা আবার বেড়ে গেছে। আমরা আল্টিমেটলি কম্পিটিশন থেকে দূরে সরে যাচ্ছি।
তিনি আরো বলেন, গত তিন মাস ধরে আমাদের যে নেগেটিভ গ্রোথ হচ্ছে, আমার মনে হয় এটা আরো কয়েক মাস থাকবে। এ কারণে আমাদের বিজনেসের অবস্থা আরো খারাপ হবে। এসব বিষয় নিয়ে আমাদের খুব শীঘ্রই বসা দরকার।
উচ্চকক্ষে ব্যবসায়ীদের প্রতিনিধিত্ব বিষয়ে তিনি বলেন, সংসদে সবাই সবার কথা বলে। সংসদের উচ্চ কক্ষে ব্যবসায়ীদের ১০ ভাগ ফিক্সড প্রতিনিধিত্ব থাকা দরকার।
তিনি আরো বলেন, ১৬ মাস হয়ে গেল এয়ারপোর্ট এর নতুন টার্মিনাল এখনো চালু হয় নাই। বিআরটি প্রজেক্ট এটা এখনো সম্পূর্ণ হয়নি, আমরা গত ১২ বছর ধরে সাফার করেছি,এখনো করে যাচ্ছি। এই উত্তরাতে গার্মেন্টস সেক্টরের অনেক অফিস রয়েছে বিভিন্ন বায়িং হাউজ রয়েছে, বিজেএমইএর অফিস রয়েছে। এখানকার নেতৃত্ব একটা বড় ফ্যাক্টর। আমি বলব আমাদের স্বার্থের জন্য এমন নেতৃত্ব দরকার, যার কাছে আমরা যেতে পারবো, যিনি আমাদের ব্যথা বেদনা বুঝবেন। তিনি এ আসন থেকে কফিল উদ্দিনকে মনোনয়ন দেওয়ার জন্য বিএনপির প্রতি আহবান জানান।তিনি বলেন, কফিল উদ্দিন যেহেতু অনেক দিন ধরে আমাদের সাথে কাজ করছে, তিনি আমাদের সমস্যা গুলি বুঝবেন। আমরা সবাই উনাকে সাপোর্ট দিয়ে সংসদে পাঠাবো।
সভায় ব্যবসায়ীরা অনতিবিলম্বে সকল সংকট থেকে উত্তরণে সরকারের সর্বাত্মক সহযোগিতা চেয়েছে। সকল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতিগণ ঢাকা-১৮ আসনে রশিদ গ্রুপের চেয়ারম্যান ও বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ কফিল উদ্দিনকে সমর্থন জানিয়ে বিএনপির মনোনয়ন দিতে সংশ্লিষ্ট মহলকে অনুরোধ করেছেন।
অনুষ্ঠানে অন্যান্য ব্যবসায়ীদের সাথে স্বনামধন্য শিল্প উদ্যোক্তা ও ডিবিসি চ্যানেলের পরিচালক সালাউদ্দিন চৌধুরীও উপস্থিত ছিলেন।

 

 

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

Comments are closed.

এই বিভাগের আরও খবর