বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ০৩:০৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
মাভাবিপ্রবির ২০২৫–২০২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত শ্রীপুরে স্ত্রী হত্যার ঘটনায় স্বামী গ্রেপ্তার, আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি গাজীপুর সিটিতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার টেন্ডার নিয়ে বিতর্ক: তদন্ত ও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি ভাওয়াল গড় ইউনিয়নের মানুষের সার্বিক উন্নয়নে কাজ করাই আমার একমাত্র লক্ষ্য : আলহাজ্ব মোঃ জয়নাল আবেদীন রিজভী গাজীপুরে তিতাস গ্যাসের মোবাইল কোর্ট পরিচালনা : ১ বছর কারাদণ্ড ও ২ লাখ টাকা জরিমানা সামান্য বৃষ্টিতেই ডুবে যায় গাজীপুর নগরী, এক যুগেও মিলেনি জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান স্টার্টআপের নতুন নতুন ধারণা নিয়ে কাজ করবে সরকার : প্রধানমন্ত্রী কালীগঞ্জে নগর মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন প্রকল্পের পরামর্শকরণ সভা অনুষ্ঠিত ফটিকছড়িতে গাছ কাটার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে জামাল নামে কাঠুরিয়ার মৃত্যু গাজীপুরে লাইসেন্স ও সনদ ছাড়াই ফিড বিক্রির অভিযোগে দুই প্রতিষ্ঠানকে ৮ লাখ টাকা জরিমানা

সাংবাদিক ও গণমাধ্যম সুরক্ষায় কমিশনের ২০ সুপারিশ

  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ২১০ ভিজিটর

স্টাফ রিপোর্টার: ক্ষমতার পট পরিবর্তনের পর রাষ্ট্র সংস্কার এগিয়ে নিতে যেসব সংস্কার কমিশন গঠন করা হয়েছিল তাদের মধ্যে গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে জমা পড়েছে।

সাংবাদিকদের সুরক্ষায় প্রয়োজনে আইন প্রণয়ন করাসহ গণমাধ্যম সংস্কারে ২০টি সুপারিশমালা তৈরি করেছে কমিশন।

শনিবার (২২ মার্চ) দুপুর ১২টার দিকে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় কমিশনের প্রধান কামাল আহমেদের নেতৃত্বে অন্যান্য সদস্যরা প্রধান উপদেষ্টার কাছে তাদের প্রতিবেদন জমা দেন।

প্রতিবেদন জমা দিয়ে যমুনার সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের প্রধান সাংবাদিক কামাল আহমেদ।

তিনি বলেন, “সাংবাদিকদের নিরাপত্তা হুমকি আসে। এসব থেকে সুরক্ষা দেবার দায়িত্ব রাষ্ট্রের। প্রয়োজনে আইন করে তাদের সুরক্ষা দেবার সুপারিশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে গণমাধ্যম সংস্কারে ২০টি সুপারিশ করা হয়েছে।”

সাংবাদিক কামাল আহমেদের নেতৃত্বাধীন গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনে শিক্ষার্থী প্রতিনিধসহ সদস্য করা হয়েছে নয়জনকে।

সদস্যরা হলেন- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক গীতিআরা নাসরীন, সম্পাদক পরিষদের প্রতিনিধি দ্য ফিন্যানসিয়াল এক্সপ্রেসের সম্পাদক শামসুল হক জাহিদ, নিউজ পেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (নোয়াব) সচিব আখতার হোসেন খান, অ্যাসোসিয়েশন অব টেলিভিশন ওনার্স (অ্যাটকো) এর প্রতিনিধি এবং জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমেদ, যমুনা টেলিভিশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টারের ট্রাস্টি ফাহিম আহমেদ, মিডিয়া সাপোর্ট নেটওয়ার্কের আহ্বায়ক ও সাংবাদিক জিমি আমির, দ্য ডেইলি স্টারের বগুড়া জেলা প্রতিনিধি মোস্তফা সবুজ, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের ডেপুটি এডিটর টিটু দত্ত গুপ্ত, শিক্ষার্থী প্রতিনিধি আব্দুল্লাহ আল মামুন।

কামাল আহমেদ বলেন, “গণমাধ্যমের বাস্তব যে অবস্থা, এই অবস্থা একদিনের সৃষ্টি না, গণমাধ্যম দীর্ঘদিনের প্রক্রিয়ার পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে এসেছে। দীর্ঘদিনের চর্চাগুলোর মধ্যে দিয়ে এসেছে। সেই চর্চাগুলোর ক্রমাবনতির ফলে গণমাধ্যম এক ধরনের সংকটের মধ্যে, সংবাদমাধ্যম ও সাংবাদিকদের স্বাধীনতা সংকটের মধ্যে পড়ে গিয়েছিল।”

“সেই বাস্তবতায়, আমরা মোটামুটি একটা ইতিহাস পর্যালোচনা করেছি এবং ইতিহাস পর্যালোচনা করে সেই ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেওয়ার চেষ্টা করেছি। কোথায় কোথায় ত্রুটি ছিল, কী কী ত্রুটি ছিল এবং সেই ত্রুটি দূর করার জন্য সেরা উপায় কী হতে পারে, সেগুলো খোঁজার চেষ্টা করেছি।”

কমিশন গণমাধ্যম, সাংবাদিক, ও সাংবাদিকতার সমস্যা চিহ্নিত করে সেই অনুযায়ী সুপারিশ দেওয়ার চেষ্টা করেছে বলে জানান তিনি।

কামাল আহমেদ বলেন, “গণমাধ্যমের মালিকানা একক হাতে কেন্দ্রীভূত থাকলে সেটাকে ব্যক্তিস্বার্থে ব্যবহারের চেষ্টা হয়, পারিবারিক স্বার্থে, নিজস্ব গোষ্ঠীর স্বার্থে ব্যবহারের চেষ্টা হয়। সেটা থেকে বেরিয়ে আসার প্রতিকার হচ্ছে, সেটা যদি পাবলিক লিস্টেড কোম্পানি হয়। সুতরাং, আমরা সুপারিশ করেছি বড় এবং মধ্যম আকারের যত গণমাধ্যম আছে, তাদের উচিত হবে পাবলিক লিস্টেড কোম্পানি করা।”

“যারা টেলিভিশন, বড় বড় সংবাদপত্রের মালিকানায় আছেন; তাদের মালিকানার মধ্যে জনগণের স্বার্থ কতটুকু প্রতিফলিত হচ্ছে, সেটা একটা বড় প্রশ্ন। কারণ, তাদের কোনো জবাবদিহিতা নেই। আমরা গণমাধ্যম থেকে রাজনীতিকদের জবাবদিহিতা চাইছি, আমলাদের জবাবদিহিতা চাইছি, কিন্তু গণমাধ্যমের জবাবদিহিতা কোথায়? একটা পত্রিকা আরেকটা পত্রিকার মালিকের বিরুদ্ধে বলছে, তার জবাবদিহিতা কোথায়? এটা কি জনস্বার্থ সম্পর্কিত, নাকি একেবারেই ব্যক্তিগত স্বার্থ সম্পর্কিত? এসব প্রশ্ন আমরা বিবেচনা করে দেখেছি।”

তিনি বলেন, “আমরা সংবাদমাধ্যম বলতে পত্রিকা, টেলিভিশন, অনলাইন পোর্টাল, রেডিও- সবগুলোই বিবেচনা করে দেখেছি। এদের প্রত্যেকটির সমস্যা একরকম নয়, একেকজনের একেক রকম সমস্যা। কিন্তু সাংবাদিকতার সমস্যা সবক্ষেত্রেই একরকম। টেলিভিশন সাংবাদিকের যে সমস্যা, পত্রিকার সাংবাদিকেরও সেই সমস্যা। সুতরাং, সাংবাদিকতার কী সমস্যা, সেটা আমরা চিহ্নিত করার চেষ্টা করেছি। সেটা মোকাবিলার কী উপায় হতে পারে, সেটি চিহ্নিত করার চেষ্টা করেছি।”

কামাল আহমেদ বলেন, কমিশন সাংবাদিকদের ন্যূনতম বেতন স্কেল বিদ্যমান সরকারি প্রথম শ্রেণির (নবম গ্রেড) করার সুপারিশ করেছে। এক বছর শিক্ষানবিশকাল করার কথা বলেছে।

“ডিএফপিতে দেওয়া ঘোষণা অনুযায়ী, ঢাকা শহরে এক কোটি ৫১ লাখ কপি দিনে বিক্রি হওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবে এই সংখ্যা ১০ লাখের বেশি নয়। এখানে এক কোটি ১৪ লাখ জালিয়াতি। এটা হচ্ছে সরকারি বিজ্ঞাপনের জন্য,” বলেন তিনি।

সাংবাদিকতায় প্রবেশের ন্যূনতম যোগ্যতা স্নাতক করার সুপারিশ করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।

কমিশনের অনেকগুলো সুপারিশ সরকারের নির্বাহী আদেশে বাস্তবায়নযোগ্যও বলে জানান কমিশন প্রধান।

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

Comments are closed.

এই বিভাগের আরও খবর