শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৬, ১১:১৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
মাভাবিপ্রবিতে গুচ্ছভুক্ত ‘বি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত সিংড়ায় হতদরিদ্রের চাল বিক্রির অভিযোগে ইউপি চেয়ারম্যান ফটিকছড়িতে সেনাবাহিনীর অভিযানে অস্ত্রসহ হত্যা মামলার আসামি গ্রেপ্তার ফটিকছড়িতে অবৈধ মাটি কর্তনের বিরুদ্ধে অভিযান, জরিমানা ৭০ হাজার টাকা নতুন করে সরকারি-বেসরকারি অফিসের সময়সূচি নির্ধারণ ১৭ লাখ টন জ্বালানি তেল আমদানির সিদ্ধান্ত সরকারের ফটিকছড়িতে তারেক রহমানের আগমন: আল্লামা বাবুনগরীর সঙ্গে সাক্ষাৎ ২৫ এপ্রিল গাজীপুরকে ক্লিন সিটি, গ্রিন সিটি হিসেবে গড়ে তোলার আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করা হবে -শওকত সরকার হবিগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক হলেন  আহমেদ আলী মুকিব রাশিয়ার তেল আমদানিতে বাংলাদেশের অনুরোধে ইতিবাচক যুক্তরাষ্ট্র

সিংড়ায় হতদরিদ্রের চাল বিক্রির অভিযোগে ইউপি চেয়ারম্যান

  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ৩ এপ্রিল, ২০২৬
  • ২২ ভিজিটর

নাটোর প্রতিনিধি : নাটোরের সিংড়ায় হতদরিদ্র নারীদের জন্য বরাদ্দ দেওয়া ভিডব্লিউবি (ভিজিডি) কর্মসূচির চাল আত্মসাৎ ও বিক্রির অভিযোগ উঠেছে এক ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে।

অভিযুক্ত সোহরাব হোসেন ১ নম্বর সুকাশ ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এবং উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক।

জানা গেছে, গত ৫ মার্চ উপজেলা খাদ্য গুদাম থেকে সুকাশ ইউনিয়নের ২৪৭ জন দুস্থ নারীর জন্য বরাদ্দকৃত মার্চ মাসের ৭ দশমিক ৪১০ মেট্রিক টন চাল উত্তোলন করেন চেয়ারম্যান সোহরাব। অভিযোগ রয়েছে, উপকারভোগীদের মাঝে চাল বিতরণ না করে তিনি তা কালোবাজারে বিক্রি করে দেন। পরবর্তীতে ইউনিয়ন পরিষদের ট্যাগ অফিসার বুলবুল হাসানের যোগসাজশে ১১ মার্চ চাল বিতরণ দেখিয়ে ভুয়া প্রত্যয়নপত্র ও মাস্টাররোল তৈরি করা হয় এবং তা উপজেলা নারীবিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়ে জমা দেওয়া হয়।

এছাড়া উপকারভোগীদের বিনামূল্যে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার কথা থাকলেও, নয় মাস পেরিয়ে গেলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। বরং অ্যাকাউন্ট খোলার নামে জনপ্রতি এক হাজার টাকা এবং মাসিক সঞ্চয় বাবদ ২২০ টাকা করে আদায় করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সরেজমিনে সুকাশ ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে অন্তত ১৫ জন উপকারভোগীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা মার্চ মাসের চাল পাননি। তাদের অভিযোগ, চেয়ারম্যান টাকা নিলেও কোনো ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা হয়নি এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও দেওয়া হয়নি।

বৃহস্পতিবার বিষয়টি তদন্তে ইউনিয়ন পরিষদে যান উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা সুমি আকতার। এ সময় কিছু কার্ডে ৩ ও ১১ মার্চ চাল বিতরণ দেখিয়ে ভুয়া স্বাক্ষর ও টিপসই নেওয়ার ঘটনা ধরা পড়ে। পরে উপস্থিত উপকারভোগীরা গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে স্বীকার করেন, তারা কোনো চাল পাননি এবং আগের রাতে তাদের দিয়ে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে।

ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আজহারুল ইসলাম ও হিসাব সহকারী পরিতোষ কুমার জানান, মার্চ মাসের বরাদ্দকৃত চাল বিতরণ করা হয়নি এবং কোনো উপকারভোগীর ব্যাংক অ্যাকাউন্টও খোলা হয়নি।
অভিযোগ অস্বীকার করে চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন বলেন, ঈদের আগে ১১ মার্চ চাল বিতরণ করা হয়েছে, তবে কিছু উপকারভোগী তা পাননি। অবশিষ্ট চাল ইউনিয়ন পরিষদে রয়েছে বলে দাবি করলেও তিনি তা দেখাতে পারেননি।
উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মনোয়ারুল হাসান জানান, চেয়ারম্যান নির্ধারিত পরিমাণ চাল উত্তোলন করেছেন। উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা সুমি আকতার বলেন, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল রিফাত জানান, বিষয়টি জেলা প্রশাসককে অবহিত করা হয়েছে এবং বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

Comments are closed.

এই বিভাগের আরও খবর