মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ০৩:৪৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
চট্রগ্ৰাম ফটিকছড়ি হালদা বিপন্ন করে নির্মাণ হচ্ছে তীররক্ষা বাঁধ কালিগঞ্জে ভুয়া চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অভিযান, কারাদণ্ড দিল ভ্রাম্যমাণ আদালত বোরকা নিয়ে সংসদে সরকারি দলের এমপির আপত্তিকর বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ বিরোধী দলের বহিরাগত প্রো-ভিসি নিয়োগ প্রত্যাখ্যান: গাকৃবিতে শিক্ষক সমিতির মানববন্ধন, প্রশাসনিক ভবন অবরুদ্ধ বিদ্যুৎস্পৃষ্টে কালিগঞ্জের মহসিন আলীর মৃত্যু, এলাকায় শোক মাভাবিপ্রবিতে ‘টেক্সটাইল ও ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা’ বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত কালিগঞ্জে পেশাজীবী শিক্ষা বৈঠক অনুষ্ঠিত বাজেটে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ নেই: এনবিআর চেয়ারম্যান টঙ্গীতে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের নিয়ে ‘গ্লোবাল কিডস স্কুলে’ ফল উৎসব ও শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস পালন সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়লে দুর্নীতি কমবে: অর্থমন্ত্রী

গাজীপুরের ৫টি আসনে যাচাই-বাছাই শেষে ১৯ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল, ৩৪ প্রার্থীর বৈধতা

  • আপডেট টাইম : শনিবার, ৩ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৬৬ ভিজিটর

গাজীপুর প্রতিনিধি: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গাজীপুরের পাঁচটি আসনের ৫৩ জন প্রার্থীর  মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে ৩৪ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্রকে বৈধ ঘোষণা করে ১৯ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।

শনিবার (৩ জানুয়ারি), গাজীপুরের জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের ভাওয়াল সম্মেলন কক্ষে মনোনয়ন প্রত্যাশী প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার মোঃ আলম হোসেন এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।

গাজীপুর-১ (কালিয়াকৈর) আসনের দাখিল করা আটটি মনোনয়নপত্রের মধ্যে দুইটি বাতিল করা হয়েছে। যথাযথ কাগজপত্র দাখিল না করায় জাতীয় পার্টির এস এম শফিকুল ইসলাম ও গণফ্রন্টের মোঃ আতিকুল ইসলামের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।

এ আসনে বৈধ প্রার্থীরা হলেন- বিএনপি মনোনীত মোঃ মজিবুর রহমান, জামায়াতের মনোনীত মোঃ শাহ আলম বকশী, ইসলামী আন্দোলন মনোনীত রুহুল আমিন, বাংলাদেশ লেবার পার্টি মনোনীত চৌধুরী ইরাদ আহমেদ সিদ্দিকী, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী) মনোনীত তাসলিমা আক্তার এবং স্বতন্ত্র  মোঃ ইমারাত হোসেন খান।

গাজীপুর-২ আসনে দাখিল করা আঠারোটি মনোনয়নপত্রের মধ্যে আটটি বাতিল করা হয়েছে। এক শতাংশ ভোটারের বৈধ সমর্থন না থাকায় খন্দকার রুহুল আমিন, জিত বড়ুয়া ও তাপসী তন্ময় চৌধুরী বাদ পড়েন। ফলকনামায় তথ্যের অসঙ্গতির কারণে গণঅধিকার পরিষদের মাহফুজুর রহমান খান, মোঃ আতিকুল ইসলাম, যথাযথ হলফনামা না থাকায় জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ ইসরাফিল মিয়া, ফলকনামা ও অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর না থাকায় জনতার দলের মোহাম্মদ শরিফুল ইসলাম এবং ফলকনামা ত্রুটির কারণে স্বতন্ত্র প্রার্থী সালাউদ্দিন সরকারের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়।

এ আসনের বৈধ প্রার্থীরা হলেন- বিএনপি মনোনীত এম মঞ্জুরুল করিম রনি, জামায়াত মনোনীত মুহাম্মদ হোসেন আলী, ইসলামী আন্দোলন মনোনীত হানিফ সরকার, জাতীয় নাগরিক পার্টি মনোনীত আলী নাছের খান, এবি পার্টি মনোনীত আব্বাস ইসলাম খান,  বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি মনোনীত মোঃ জিয়াউল কবির, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী) মনোনীত মাসুদ রেজা, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশ মনোনীত সরকার তাসলিমা আফরোজ, জাতীয় পার্টি মনোনীত মোঃ মাহবুব আলম এবং বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) মনোনীত মোঃ আব্দুল কাইয়ুম।

গাজীপুর-৩ (শ্রীপুর ও গাজীপুর সদর উপজেলা আংশিক) আসনে দাখিল করা দশটি মনোনয়নপত্রের মধ্যে তিনটি বাতিল করা হয়েছে। কাগজপত্রে ত্রুটি ও শর্ত পূরণে ব্যর্থতার কারণে ইসলামী ঐক্য জোটের হাফেজ মাওলানা মুফতি শামীম আহমেদ, স্বতন্ত্র প্রার্থী গোলাম সাব্বির আলী ও ইজাদুর রহমান মিলনের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়।

এ আসনের বৈধ প্রার্থীরা হলেন- বিএনপি মনোনীত এস এম রফিকুল ইসলাম, জামায়াত মনোনীত মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, জাতীয় পার্টর মনোনীত মোঃ নাজিম উদ্দিন এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আলমগীর হোসাইন।

গাজীপুর-৪ (কাপাসিয়া) আসনে দাখিল করা নয়টি মনোনয়নপত্রের মধ্যে চারটি বাতিল করা হয়। ইনকাম ট্যাক্স বকেয়া ও এক শতাংশ ভোটারের তালিকার ঘাটতির কারণে স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ আবুল হাসেম, একই কারণে স্বতন্ত্র প্রার্থী মোঃ শফিউল্লাহ, হলফনামা যথাযথ না থাকায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মোঃ কাজিম উদ্দিন এবং হলফনামা ও অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর না থাকায় আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)-এর মোঃ জাকির হোসেনের মনোনয়নপত্র বাতিল কর হয়।

এ আসনে বৈধ প্রার্থীরা হলেন- বিএনপি মনোনীত শাহ রিয়াজুল হান্নান, জামায়াত মনোনীত সালাহ উদ্দিন আইউবী, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি মনোনীত মনির হোসেন, জাতীয় পার্টি মনোনীত এনামুল কবির এবং বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির মানবেন্দ্র দেব।

গাজীপুর-৫ আসনে দাখিল করা আটটি মনোনয়নপত্রের মধ্যে দুইটি বাতিল করা হয়। নির্বাচনী ব্যয়ের তথ্য না থাকায় জাতীয় পার্টির ডাঃ মোঃ শফিউদ্দিন সরকারের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয় এবং প্রস্তাবক না থাকায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মোঃ রুহুল আমিনের মনোনয়নপত্র বাতিল বলে গণ্য করা হয়।

এ আসনে বৈধ প্রার্থীরা হলেন- বিএনপি মনোনীত এ কে এম ফজলুল হক মিলন, জামায়াত মনোনীত মোঃ খায়রুল হাসান, ইসলামী ফ্রন্ট বাংলাদেশ মনোনীত মোঃ আল আমিন দেওয়ান, জনতার দল মনোনীত মোঃ আজম খান, গণফোরাম মনোনীত মোঃ কাজল ভূঁইয়া এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের গাজী আতাউর রহমান।

গাজীপুরের ৫টি আসনের মনোনয়ন যাচাই-বাছাইয়ে ১৯ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হওয়ায় জেলার নির্বচানী সমীকরণে বড় ধরণের পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বর্তমানে বৈধভাবে ৩৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাঠে রয়েছেন। সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন, কঠোর যাচাই-বাছাইয়ের ফলে নির্বাচনে কেবল নিয়মতান্ত্রিক ও যোগ্য প্রার্থীরাই মাঠে টিকে থাকবেন।

রিটার্নিং কর্মকর্তার যাচাই-বাছাইয়ে মনোনয়ন বাতিল হওয়া প্রার্থীরা এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ৫ জানুয়ারি থেকে ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত আপিল করতে পারবেন। ১০ জানুয়ারি থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত আপিল নিষ্পত্তি করা হবে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২০ জানুয়ারি। রিটার্নিং কর্মকর্তা চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে প্রতীক বরাদ্দ করবেন আগামী ২১ জানুয়ারি।

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

Comments are closed.

এই বিভাগের আরও খবর