বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:০৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
আমিরাতের দুটি কেন্দ্রে এসএসসি পরীক্ষা ২০২৬ শুরু উৎসবমুখর পরিবেশে সুশৃঙ্খলভাবে কালিগঞ্জে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার প্রথম দিন সম্পন্ন ১৪৭৩ পরীক্ষার্থীর মধ্যে অনুপস্থিত ১৩ জন কালীগঞ্জ পৌরসভা থেকে ৬০ জনকে বিনামূল্যে কম্পিউটার ও ড্রাইভিং প্রশিক্ষণের উদ্বোধন মাভাবিপ্রবিতে BAC অ্যাক্রেডিটেশন বিষয়ক দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত ফটিকছড়িতে ১১ ভেন্যুর ১২ কেন্দ্রে একযোগে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হেফাজত আমিরের সঙ্গে এনসিপি মুখপাত্র আসিফ মাহমুদের সৌজন্য সাক্ষাৎ গাকৃবিতে আন্তর্জাতিক সিএবিআই কোর্স অন্তর্ভুক্তির লক্ষ্যে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত বিএসইসি চেয়ারম্যানের সাথে উত্তরা গ্রুপের চেয়ারম্যানের ব্যাবসায়িক বৈঠক অনুষ্ঠিত  বিশ্ববাজারে আরও কমলো স্বর্ণের দাম রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় জাপানের সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ

গাজীপুরে কয়েল কারখানায় ভয়াবহ আগুন

  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৯ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৮২ ভিজিটর

গাজীপুর প্রতিনিধি: গাজীপুরের স্ট্যান্ডার্ড ফিনিস অয়েল কোম্পানি লিমিটেড (ইউনিট-২) কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ৭টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌছে তিন ঘন্টা চেষ্টা করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। বুধবার গাজীপুর সদর উপজেলার বাঘের বাজার এলাকায় ওই কারখানায় অগ্নিকান্ডের ঘটে। গাজীপুর ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক মো. মামুন এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ফায়ার সার্ভিস ও এলাকাবাসী জানায়, বুধবার দুপুরে কারখানা স্ট্যান্ডার্ড ফিনিস অয়েল (কয়েল ও কাপড় ধোয়ার পাউডার) কোম্পানি লিমিটেডে আগুন লাগে। কারখানার নিরাপত্তাকর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে ব্যর্থ হলে দ্রুত সময়ের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের কালো ধোঁয়া বের হতে থাকলে কারখানার সীমানা প্রাচীর ঘেষা উপবন ফিলিং ষ্টেশন এবং এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আতঙ্কে বাসিন্দারা ঘর থেকে তাদের আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন ধরনের মালামাল বাইরে বের করে আনেন। খবর পেয়ে প্রথমে ফায়ার সার্ভিসের দুইটি এবং পর্যায়ক্রমে আরও পাঁচটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। অব্যবস্থাপনার কারণে কারখানার ফায়ার লাইসেন্স নবায়ন ছিল না বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।

গাজীপুর ফায়ার সার্ভিসের উপ সহকারী পরিচালক মামুন বলেন, স্ট্যান্ডার্ড ফিনিস অয়েল কোম্পানি লিমিটেড (ইউনিট-২) কারখানায় লাগা আগুন প্রথম থেকেই বিশাল আকার ধারণ করে। এখানে কেমিকেলের গুদাম আছে, কেমিকেলের উৎপাদিত পণ্য আছে। কেরোসিনসহ অনেক ধরনের কেমিকেল আছে। আগুনটা এত বড়ই ছিল যে এটা আমাদের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ ছিল। আমরা প্রফেশনালি চেষ্টা করেছি আগুনটি ম্যানেজ করার জন্য। গাজীপুরে যতগুলো স্পেশাল পানিবাহী গাড়ি আছে সবকয়টি এখানে ব্যবহার করা হয়েছে। এখানে তিনটি চ্যালেঞ্জ ছিল সামনে উপবন ফিলিং স্টেশন, দক্ষিণ এবং পশ্চিম পাশে আবাসিক এলাকা ও অন্যান্য পোশাক কারখানার ছিল। চারদিকে আগুন ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা ছিল। ভেতরে ব্যাপক কেমিকেল, কাঁচামাল ও উৎপাদিত পণ্য ছিল। এসব দিকগুলোকে মাথায় রেখে রাজেন্দ্রপুর মডার্ণ ফায়ার স্টেশনের ৩টি, জয়দেবপুর ফায়ার সার্ভিসের ২টি ও গাজীপুরের ভোগড়া মডার্ণ ফায়ার স্টেশনের থেকে ২টিসহ  মোট সাতটি ইউনিটের কর্মীর তিন ঘন্টা চেষ্টা করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আগুনে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত কোন হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। আগুন লাগার কারণ ও ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণ তদন্ত সাপেক্ষে জানা যাবে বলে জানান।

ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক কাজী নাজমুজ্জামান স্ট্যান্ডার্ড ফিনিস অয়েল কোম্পানি লিমিটেড (ইউনিট-২) কারখানা পরিদর্শন শেষে জানান, কারখানার মশার কেমিকেল তৈরী করা হয়। যেখানে কেরোসিন জাতীয় দ্রব্য থেকে ব্লিচিং পাউডারের বিক্রিয়া থেকে মশার এক প্রকার কেমিকেল তৈরী করা হয় সেখানেই আগুন লাগে। আগুন লাগার সাথে সাথে কেরোসিনের মাধ্যমে আগুন মাঠে চলে আসে। মাঠ থেকে ফিলিশিং গুদাম এবং এডমিন সেকশনে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। খবর পাওয়ার সাথে সাথে রাজন্দ্রেপুর মডার্ণ ফায়ার স্টেশনের দুইটি ইউনিট কাজ শুরু করে। আগুনের ভয়াবহতা বাড়তে থাকায় আরো কয়েকটি ইউনিট ঘটনাস্থলে আনা হয়। কারখানায় যে ধরনের অগ্নি প্রতিরোধ ব্যবস্থা থাকা দরকার, সেফটি প্ল্যান থাকা দরকার তা ছিল না। কারখানায় ফায়ার সার্ভিসের লাইসেন্স থাকলেও অব্যবস্থাপনার কারণে নবায়ন করা হয় নাই।

কারখানার সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম অপারেশন) সুজিত বিশ্বাস বলেন, আগুন লাগার পরপরই আমাদের কারখানার লোকজন চেষ্টা করে। কিন্তু আগুনের অনেক তাপমাত্রা থাকায় সবাই পরে বের হয় যায়। এছাড়াও কারখানার সকল শ্রমিক-কর্মকর্তাদের নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। কারখানার তিনটি এরিয়াতে আগুন লেগেছে। সেখানে থাকা সমস্ত মালামাল পুড়ে গেছে।

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

Comments are closed.

এই বিভাগের আরও খবর