বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:২২ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
রাষ্ট্রপতির সাথে বিজিএমইএ পরিচালনা পর্ষদের প্রতিনিধিদলের সাক্ষাৎ কালীগঞ্জে দুই সার ব্যবসায়ীকে ২ লাখ টাকা জরিমানা গাকৃবি ও সিরডাপের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরে ঐকমত্য শুধু বহুদলীয় গণতন্ত্রই ফিরিয়ে আনেনি, সংসদীয় গণতন্ত্রও এই দলের হাত ধরে এসেছে মাদক কোনো সমাধান নয়; বরং এটি জীবন ধ্বংসের অন্যতম কারণ- ওসি জাকির হোসেন সীমান্ত হত্যা বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে বিজিবির প্রতি রাষ্ট্রপতির আহ্বান কালীগঞ্জে ভ্রাম্যমান আদালতে তিন ব্যবসায়ীকে অর্থদন্ড টঙ্গীতে গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো মাদকের হটস্পট হাজির মাজার বস্তি শিক্ষা সংকট কাটিয়ে ওঠার আহ্বান ও ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ: কাপাসিয়ায় এমপি সালাহউদ্দিন আইউবীর ব্যস্ত দিন বাল্যবিবাহ, শিশুশ্রম ও ঝরে পড়া রোধে ওয়ার্ল্ড ভিশনের অর্জন উদ্‌যাপন

রাষ্ট্রপতির সাথে বিজিএমইএ পরিচালনা পর্ষদের প্রতিনিধিদলের সাক্ষাৎ

  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৭ ভিজিটর

স্টাফ রিপোর্টার : রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) বিজিএমইএ পরিচালনা পর্ষদের প্রতিনিধিদল। এর নেতৃত্ব দেন সংগঠনটির সভাপতি মাহমুদ হাসান খান।

বুধবার দুপুরে বঙ্গভবনে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। সাক্ষাৎকালে বিজিএমইএ সভাপতি রাষ্ট্রপতির কাছে পোশাক খাতের সামগ্রিক চিত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন, পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহের অভাবে সিংহভাগ কারখানা সক্ষমতার অর্ধেকেরও কম উৎপাদনে বাধ্য হচ্ছে, যা রপ্তানি ক্রয়াদেশ হাতছাড়া হওয়ার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

সাক্ষাৎকালে বিজিএমইএর পক্ষ থেকে নতুন রাষ্ট্রপতিকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানো হয়। একই সঙ্গে পোশাকশিল্পে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদান এবং পোশাক শিল্পকে হরতালের আওতামুক্ত রাখতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদান কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করেন প্রতিনিধিদল।

বৈঠকে জাতীয় অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি তৈরি পোশাক খাতের সার্বিক পরিস্থিতি, উদীয়মান চ্যালেঞ্জসমূহ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান সুদৃঢ়করণসহ দেশীয় শিল্প সুরক্ষার বিভিন্ন নীতিগত বিষয়ে বিশদ আলোচনা এবং সমস্যা সমাধানে সংগঠনের পক্ষ থেকে সরকারের প্রতি কয়েক দফা সুপারিশ পেশ করা হয়।

বিজিএমইএ সভাপতি দেশীয় শিল্প ও ব্যবসার প্রসারে বর্তমান সরকারের নানামুখী দূরদর্শী ও শিল্পবান্ধব পদক্ষেপের জন্য গভীর কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ প্রকাশ করেন। বিশেষ করে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক বাস্তবতায় এলডিসি উত্তরণ বিলম্বিতকরণ, নিষ্ক্রিয় ও বন্ধ পোশাক কারখানাগুলো পুনরায় চালু করতে ২০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ অর্থায়ন সুবিধা প্রদান, নন-বন্ড কারখানার জন্য বন্ডেড কাঁচামাল সংগ্রহ ও সরাসরি রপ্তানির পথ সুগম করা এবং কাস্টমস প্রক্রিয়া সহজীকরণের মতো সিদ্ধান্তগুলো শিল্প উদ্যোক্তাদের বিশেষভাবে উৎসাহিত করেছে- যা ব্যবসা সহজীকরণ নিশ্চিতে বর্তমান সরকারের দূরদর্শিতা ও আন্তরিকতারই বহিঃপ্রকাশ বলে বিজিএমইএ নেতারা অভিমত প্রকাশ করেন।

সাক্ষাৎকালে বিজিএমইএ সভাপতি মাহমদু হাসান খান তৈরি পোশাক খাতের বর্তমান কঠিন বাস্তবতা ও চ্যালেঞ্জগুলো রাষ্ট্রপতির সম্মুখে তুলে ধরে বলেন, জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি, ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদহার ও মজুরি সমন্বয়ে গত ৩ বছরে উৎপাদন খরচ প্রায় ৪০ শতাংশ বেড়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে পোশাক রপ্তানি ১ দশমিক ৬৪ শতাংশ এবং ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জুলাইয়ে ১ দশমিক ৯২ শতাংশ কমেছে। পাশাপাশি মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানি কমায় নতুন বিনিয়োগ স্থবির হয়ে পড়েছে।

উচ্চ ব্যয় ও অর্ডার সংকটে গত তিন বছরে প্রায় ৪০০টি পোশাক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে উল্লেখ করে বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, এটি কর্মসংস্থানের জন্য চরম উদ্বেগজনক।

বিদ্যমান সংকট উত্তরণ ও তৈরি পোশাক খাতকে পুনরুজ্জীবিত করতে বৈঠকে বিজিএমইএর পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট কিছু নীতিগত সুপারিশ পেশ করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে- দ্রুততম সময়ে অতিরিক্ত দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) স্থাপন করা, এর মাধ্যমে আমদানি করা গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করে সক্ষমতা বাড়ানো; দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি মূল্য স্থিতিশীল রাখা ও আমদানি পর্যায়ে সব শুল্ককর প্রত্যাহার করা; ক্ষুদ্র ও মাঝারি (১৫০-৫০০ কেজি বয়লার বিশিষ্ট) কারখানায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দ্রুত গ্যাস সংযোগ এবং পরিবেশবান্ধব সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে দীর্ঘমেয়াদে স্বল্প সুদে বিশেষ ঋণ সুবিধা দেওয়া।

অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম এক্সপ্রেসওয়ে দ্রুত বাস্তবায়ন করার দাবি জানিয়ে বিজিএমইএর সুপারিশে আরও বলা হয়, হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাময়িকভাবে বর্ধিত কার্গো শেড নির্মাণ এবং বে-টার্মিনাল ও মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দরের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করে চালু করতে হবে।

একই সঙ্গে চলতি মূলধন ও বাণিজ্য ঋণের সুদের হার কমানো; পোশাক খাতের জন্য বিশেষায়িত ‘পোস্ট-শিপমেন্ট ফাইন্যান্সিং স্কিম’ প্রণয়ন এবং জিটিএফ ও টিডিএফ তহবিলে অর্থ বরাদ্দ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়। এ ছাড়া ব্যবসা সহজ করতে কাস্টমস বন্ড অডিট প্রক্রিয়া জটিলতামুক্ত ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া এবং পোশাক শিল্পের কাঁচামাল দ্রুত সরবরাহের স্বার্থে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে সুতা আমদানি প্রক্রিয়া পুনরায় চালু করার সুপারিশ করে বিজিএমইএ।

এলডিসি উত্তরণের পরও শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধা অব্যাহত রাখতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে (ইইউ) দ্রুততম সময়ে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পাদনে কূটনৈতিক প্রয়াস জোরদার করা এবং প্রধান বাণিজ্য অংশীদার দেশ ও অঞ্চলগুলোর সঙ্গে এফটিএ, পিটিএ এবং ইপিএ সম্পাদনে দ্রুত ও কৌশলগত কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণ করার পরামর্শ তুলে ধরে বিজিএমইএ প্রতিনিধিদল।

শ্রমিক কল্যাণ ও নীতিগত সহায়তার বিষয়ে সুপারিশে বলা হয়, গাজীপুরে পোশাক শ্রমিকদের মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা ও কল্যাণে আধুনিক হাসপাতাল ও কল্যাণ কেন্দ্র নির্মাণের জন্য দ্রুত জমি বরাদ্দ দেওয়া এবং ঝুট ব্যবসাকে প্রাতিষ্ঠানিক ও আনুষ্ঠানিক রূপ দিতে সময়োপযোগী নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে।

রাষ্ট্রপতি বিজিএমইএ নেতাদের বক্তব্য শোনেন এবং পোশাকশিল্পকে জাতীয় অর্থনীতির অন্যতম প্রধান মেরুদণ্ড হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন, সাময়িক এ প্রতিকূলতা কাটিয়ে উঠে বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের শীর্ষ অবস্থান বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। এ লক্ষ্যে শিল্পের টেকসই বিকাশ ও সুরক্ষায় সংশ্লিষ্ট সরকারি মন্ত্রণালয় ও কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় নীতিগত সহযোগিতা দেওয়ার বিষয়ে তিনি বিজিএমইএ প্রতিনিধিদলটিকে আশ্বস্ত করেন।

বিজিএমইএ প্রতিনিধিদলে আরও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সিনিয়র সহসভাপতি ইনামুল হক খান, সহসভাপতি মো. রেজোয়ান সেলিম, সহসভাপতি (অর্থ) মিজানুর রহমান, সহসভাপতি মিজ ভিদিয়া অমৃতা খান, মো. শিহাব উদ্দোজা চৌধুরী, মোহাম্মদ রফিক চৌধুরী প্রমুখ।

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

Comments are closed.

এই বিভাগের আরও খবর