গাজীপুর প্রতিনিধি: গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায় স্ত্রীকে ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামী ছায়েদুল ইসলাম ওরফে মো. সাইদুর রহমান (৪৪)কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
পুলিশ জানায়, নিহত নাছিমা আক্তার (২৭) নেত্রকোনা জেলার পূর্বধলা উপজেলার কৈলশাপুর (বনপাড়া) গ্রামের মৃত আব্দুর রাজ্জাকের মেয়ে। প্রায় ১০ থেকে ১২ বছর আগে ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলার ঐরাগাই (গিদ্দাপাড়া বড়বাড়ী) গ্রামের লাল হোসেনের ছেলে ছায়েদুল ইসলাম ওরফে মো. সাইদুর রহমানের সঙ্গে তার পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। তাদের সংসারে আট বছর বয়সী এক মেয়ে ও পাঁচ বছর বয়সী এক ছেলে রয়েছে। পরিবারটি শ্রীপুর পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের গড়গড়িয়া মাস্টারবাড়ী এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করছিল। নাছিমা স্থানীয় একটি পোশাক কারখানায় কর্মরত ছিলেন।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধ চলছিল। এরই জেরে গত ১৩ জুলাই দিবাগত রাত আনুমানিক আড়াইটা থেকে তিনটার মধ্যে যেকোনো সময় স্বামী ধারালো অস্ত্র দিয়ে নাছিমার বুক ও পেটে আঘাত করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় পরিবারের সদস্যরা তাকে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
খবর পেয়ে শ্রীপুর থানা পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই মো. মাসুম মিয়ার অভিযোগের ভিত্তিতে শ্রীপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। মামলার তদন্ত করছেন শ্রীপুর থানার এসআই (নিরস্ত্র) সাদী মোহাম্মদ।
ঘটনার পর পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় শ্রীপুর থানা পুলিশের একাধিক দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় এবং র্যাব-১-এর স্পেশালাইজড কোম্পানি, পোড়াবাড়ী ক্যাম্পের সহযোগিতায় অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে গত ১৩ জুলাই সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টা ৪০ মিনিটে গাজীপুর মহানগরের বাসন থানার ভোগড়া বাইপাস এলাকার হামিম টাওয়ারের নিচে কেনাকাটা গলির সামনে থেকে অভিযুক্ত সাইদুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত স্ত্রীকে হত্যার দায় স্বীকার করেন। পরে ১৪ জুলাই তাকে আদালতে হাজির করা হলে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।