ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) থেকে নাজিম উদ্দিন : গেজেট প্রকাশ হয়নি, শপথও নেননি—তবুও নিজেকে ‘সংসদ সদস্য’ পরিচয়ে সরকারি কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন চট্টগ্রাম-২ আসনের বিএনপি প্রার্থী সরওয়ার আলমগীর। এমন অভিযোগে ফটিকছড়ি উপজেলায় সৃষ্টি হয়েছে তীব্র বিতর্ক ও প্রশ্নের।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঋণখেলাপ সংক্রান্ত একটি মামলায় আদালত সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী ফলাফলের ওপর স্থগিতাদেশ দিয়েছেন। বিষয়টি আপিল বিভাগের বিচারাধীন থাকা সত্ত্বেও সরওয়ার আলমগীর বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের উদ্বোধন করছেন এবং ‘এমপি’ পরিচয়ে উপজেলা প্রশাসনের প্রটোকলও পাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
আইন অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী নির্বাচিত হলেও গেজেট প্রকাশ ও শপথ গ্রহণ সম্পন্ন না হলে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারেন না। এ বিষয়ে জ্যেষ্ঠ আইনজীবীরা বলছেন, “এ ধরনের কর্মকাণ্ড সরাসরি প্রতারণার শামিল।”
একাধিক আইনজ্ঞের মতে, যখন আপিল বিভাগের স্থগিতাদেশ বহাল রয়েছে, তখন ‘সংসদ সদস্য’ পরিচয়ে সরকারি কাজে অংশগ্রহণ করা আদালত অবমাননার পর্যায়েও পড়তে পারে।
এদিকে, উপজেলা প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন। কেন এবং কী ভিত্তিতে একজন অশপথগ্রহণকারী ব্যক্তিকে সংসদ সদস্য হিসেবে প্রটোকল দেওয়া হচ্ছে—এ নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এ ধরনের ঘটনা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও আইনের শাসনের প্রতি জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে।
প্রশ্ন উঠছে—এ কি গণতন্ত্রের নতুন সংজ্ঞা, নাকি আইনের শাসনের স্পষ্ট ব্যত্যয়?