মোঃ হাজিনুর রহমান শাহীন : গাজীপুরের ডেগেরচালা এলাকার একটি ছোট ঘরে কাটে সুলেমা খাতুনের জীবন। বয়সের ভার, শরীরের অসুস্থতা আর চরম দারিদ্র্য—সব মিলিয়ে যেন প্রতিদিনই ছিল তার জন্য এক কঠিন লড়াই।
তার একমাত্র ছেলেও মানসিকভাবে অসুস্থ। সংসারে উপার্জনের কোনো পথ নেই। তাই বছরের পর বছর মানুষের দান-সদকার ওপর নির্ভর করেই চলছিল তাদের জীবন।
কিন্তু হঠাৎই সেই অন্ধকার জীবনে জ্বলে ওঠে আশার আলো…
তার এই অসহায়ত্বের কথা জানতে পেরে জনপ্রিয় অনলাইন পত্রিকা ঢাকা গ্যাজেট এর সহযোগি সংগঠন ঢাকা গ্যাজেট ফাউন্ডেশন এগিয়ে আসে তার পাশে। তাদেরকে সার্বিকভাবে সমর্থন ও সহযোগিতা করেন স্টাইলিশ গ্রুপ কর্তৃপক্ষ। যৌথ সহযোগিতায় সুলেমা খাতুনকে শুধু সাহায্য নয়—তাকে স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যেই দেওয়া হয় কিছু কাপড়, যা বিক্রি করে এখন তিনি নিজেই আয় করতে পারবেন।
এ যেন ভিক্ষার হাত থেকে সম্মানের জীবনে ফেরার একটি সাহসী পদক্ষেপ।
সহযোগিতা পেয়ে চোখে জল নিয়ে সুলেমা খাতুন বলেন—“আমি খুবই নিঃস্ব এবং আমার কোনো আয়-উপার্জন নেই। আপনারা যারা আমাকে এ সহযোগিতা করেছেন, তাদের কাছে আমি কৃতজ্ঞ। আল্লাহ যেন আপনাদের সবাইকে আরও বেশি বরকত দান করেন।”
এই মানবিক উদ্যোগ বাস্তবায়নে আর্থিক সহায়তা করেছেন গাজীপুরের বিশিষ্ট শিল্পপতি দম্পতি মো. সালাহউদ্দিন চৌধুরী ও মাকসুদা চৌধুরী, যারা স্টাইলিশ গার্মেন্টস কারখানার স্বত্বাধিকারী। তারা দীর্ঘদিন ধরে সমাজের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে আসছেন এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রমে যুক্ত থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।
ঢাকা গ্যাজেট পরিবারের পক্ষ থেকে এ মহৎ উদ্যোগে পাশে থাকার জন্য এই দুই তরুণ উদ্যোক্তাকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানানো হয়েছে। ঢাকা গ্যাজেট পরিবারও সবসময় উনাদের পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ডেগেরচালা এলাকায় বৃদ্ধা সুলেমা খাতুনের বাড়ীতে গিয়ে তার হাতে উপহার সামগ্রী ও সহযোগীতা তুলে দেন ঢাকা গ্যাজেটের সম্পাদক মোঃ হাজিনুর রহমান শাহীন ও নির্বাহী সম্পাদক গোলাম মোস্তফা খান। এসময় এলাকার লোকজন উপস্থিত ছিলেন। তারা এ সামাজিক কাজের ভূয়সী প্রসংশা করেছেন।
একটি ছোট উদ্যোগই বদলে দিতে পারে একটি জীবন। আসুন আমরা সমাজের অসহায় মানুষের পাশে দাড়াই এবং তাদেরকে সাধ্যমত সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেই ।