রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ১০:০৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
গ্রামীণ অর্থনীতিতে সমবায় আন্দোলন জোরদারের তাগিদ রিজভীর বিদ্যুৎ ঘাটতি থেকে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা- ক্ষুদে বিজ্ঞানীদের ৮০ উদ্ভাবন মাদক কারবারিদের হাতে জিম্মি বোয়ালী ইউনিয়েনের কয়েক গ্রাম, সন্ধার পর বসে মাদক কেনাবেচার হাট আমিরাতে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালন জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস আমাদের জাতীয় ঐক্য, গণতন্ত্র, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার চেতনায় উজ্জীবিত করে : আল-আমিন হালদার সাংবাদিকতায় পেশাগত জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে ইন-হাউজ নলেজ শেয়ারিং সেমিনার অনুষ্ঠিত মাভাবিপ্রবিতে এসডিজি অর্জনে শিক্ষার্থী ক্লাবগুলোর কার্যক্রম নিয়ে কর্মশালা অনুষ্ঠিত ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়তে মোংলায় আরো শিল্পকারখানা গড়ে তোলা হবে: প্রধানমন্ত্রী দুবাইতে‘এনআরবি সিআইপি সম্মাননা ২০২৬’ রিয়াদ বাংলা স্কুলের বিওডি নির্বাচন ঘিরে উত্তেজনা: ভোটের আগেই প্যানেল কোন্দল, হাতাহাতির অভিযোগ!

বিদ্যুৎ ঘাটতি থেকে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা- ক্ষুদে বিজ্ঞানীদের ৮০ উদ্ভাবন

  • আপডেট টাইম : রবিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৬
  • ১৩০ ভিজিটর

মোঃ হাজিনুর রহমান শাহীন:  বয়সে তারা ছোট,কিন্তু তাদের ভাবনায় জায়গা করে নিয়েছে দেশের বড় বড় সমস্যা। বিদ্যুৎ ঘাটতি,বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, জলবায়ু পরিবর্তন,কৃষির আধুনিকায়ন কিংবা নগরজীবনের পরিচ্ছন্নতা-এসব সমস্যার সমাধান খুঁজতে প্রযুক্তিনির্ভর নানা উদ্ভাবনী ধারণা নিয়ে হাজির হয়েছে তারা। কারও ভাবনায় বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ও বিশুদ্ধকরণ,কেউ ভাবছে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কথা। আবার কেউ তৈরি করেছে ভাসমান কৃষি, স্মার্ট এগ্রিকালচার কিংবা স্বয়ংক্রিয় সড়কবাতির মডেল।

এমনই ৮০টি উদ্ভাবনী প্রকল্প নিয়ে গাজীপুরের রাজেন্দ্রপুরে অনুষ্ঠিত হয়েছে বিজ্ঞান মেলা ২০২৬। ইকবাল সিদ্দিকী এডুকেশন সোসাইটির উদ্যোগে গত রোববার কচিকাঁচা একাডেমি প্রাঙ্গণে দিনব্যাপী এ মেলার আয়োজন করা হয়। এতে ক্ষুদে বিজ্ঞানীরা নিজেদের উদ্ভাবনী চিন্তা ও প্রযুক্তির ধারণা তুলে ধরে।

মেলার স্টলগুলোতে স্থান পেয়েছে স্মার্ট এগ্রিকালচার, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, স্মার্ট ক্লিন সোসাইটি, গ্রিনহাউজ প্রযুক্তি, উইন্ডমিলের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, কার্বন শোষণ, ভাসমান কৃষি প্রযুক্তি ও স্বয়ংক্রিয় স্ট্রিট লাইটসহ নানা প্রকল্প। দেশের বিদ্যুৎ সংকট, পরিবেশদূষণ, কৃষি ব্যবস্থাপনা ও নগরজীবনের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের চিন্তা থেকেই এসব প্রকল্প তৈরি করেছে শিক্ষার্থীরা।

সকাল ৯টায় ফিতা কেটে মেলার উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের এডাপটিভ রিসার্চ ডিভিশনের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. হাবিবুর রহমান মুকুল। পরে আমন্ত্রিত অতিথি, অভিভাবক ও সাংবাদিকরা বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন। এ সময় শিক্ষার্থীরা নিজেদের প্রকল্পের কার্যপদ্ধতি ও সম্ভাব্য ব্যবহার সম্পর্কে অতিথিদের ধারণা দেয়।

মেলায় দর্শনার্থীদের আগ্রহ তৈরি করে ‘স্মার্ট ক্লিন সোসাইটি’ প্রকল্পটি। এর মাধ্যমে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ, ফিল্টারিংয়ের মাধ্যমে ব্যবহার উপযোগী করা, সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন এবং জৈব বর্জ্য থেকে কম্পোস্ট সার তৈরির ধারণা তুলে ধরেছে ক্ষুদে বিজ্ঞানী ফাহমিদা সুলতানা শিরিন।

নিজেদের প্রকল্প সম্পর্কে শিরিন জানায়, বৃষ্টির পানি সংগ্রহ করে ফিল্টারিংয়ের মাধ্যমে ব্যবহার উপযোগী করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পাশাপাশি সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব জ্বালানি উৎপাদনের ধারণাও যুক্ত করা হয়েছে। প্রকল্পটিতে রয়েছে অর্গানিক গার্ডেন। সেখানে উদ্ভিজ্জ উচ্ছিষ্ট ও অন্যান্য জৈব বর্জ্য থেকে কম্পোস্ট সার তৈরি করে গাছের পরিচর্যায় ব্যবহার করা যাবে। সংরক্ষিত পানিও বাগানে কাজে লাগানো সম্ভব। এভাবে পানি, জ্বালানি ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে একই কাঠামোর মধ্যে আনার চেষ্টা করেছে তারা।

প্রকল্পটির মাধ্যমে পরিবেশের ওপর চাপ কমানোর পাশাপাশি দৈনন্দিন জীবনে সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহারের একটি ধারণা তুলে ধরতে চেয়েছে শিক্ষার্থীরা।

মেলার প্রকল্পগুলো দেখে মুগ্ধতা প্রকাশ করেন প্রধান অতিথি ড. মো. হাবিবুর রহমান মুকুল। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা দেশের বাস্তব সমস্যাগুলো বিবেচনায় নিয়ে তাদের উদ্ভাবনী চিন্তার প্রতিফলন ঘটিয়েছে। বিশেষ করে বিদ্যুৎ ঘাটতি মোকাবেলায় সৌরবিদ্যুৎ ও বায়ুশক্তি ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ধারণাগুলো গুরুত্বপূর্ণ। দেশের হাওরাঞ্চলে বন্যার সঙ্গে খাপ খাইয়ে বসবাসের উপযোগী ঘর নির্মাণ এবং পানির ওপর কৃষিকাজের প্রযুক্তিও শিক্ষার্থীরা তুলে ধরেছে।

তিনি আরো বলেন, দেশে বিদ্যুতের চাহিদার তুলনায় উৎপাদন কম হওয়ায় মানুষকে লোডশেডিংয়ের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এ ধরনের সমস্যা সমাধানে শিক্ষার্থীদের গবেষণামুখী করে গড়ে তোলা প্রয়োজন। ছোট বয়স থেকেই তারা যদি বিজ্ঞানচর্চার সুযোগ পায় এবং তাদের উদ্ভাবনী ধারণাগুলো যথাযথভাবে পরিচর্যা করা হয়, তাহলে ভবিষ্যতে এসব প্রকল্প বাস্তবসম্মত প্রযুক্তিতে রূপ নিতে পারে। বিশেষ করে দেশের বিপুল সৌরশক্তিকে কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।

ইকবাল সিদ্দিকী এডুকেশন সোসাইটির প্রধান নির্বাহী ও সদস্য সচিব হায়দার সিদ্দিকী উদয় বলেন, শিশুদের মনে বৈজ্ঞানিক চিন্তা ও বড় স্বপ্নের বীজ বপন করাই এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। এমন একটি প্রজন্ম গড়ে তুলতে চান তারা, যারা নিজেদের উদ্ভাবনী চিন্তা দিয়ে একদিন দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।

তিনি বলেন, এবারের মেলায় শিক্ষার্থীরা বিদ্যুৎ ঘাটতি ও কৃষি ব্যবস্থাপনাসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাগুলো নিয়ে প্রকল্প তৈরি করেছে। তাদের কাজগুলো আশাব্যঞ্জক। এসব ক্ষুদে বিজ্ঞানীকে যথাযথভাবে পরিচর্যা ও গবেষণার সুযোগ দেওয়া গেলে ভবিষ্যতে তারাই দেশের উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখতে পারবে।

আয়োজকরা জানান, শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবইয়ের জ্ঞানকে বাস্তব জীবনের সমস্যা সমাধানে কাজে লাগানোর আগ্রহ তৈরি করতেই এ বিজ্ঞান মেলার আয়োজন। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহ বাড়ানোর পাশাপাশি নিজেদের চিন্তা অন্যদের সামনে তুলে ধরার সুযোগও তৈরি করেছে এ আয়োজন।

দিনব্যাপী মেলার শেষ পর্যায়ে কচিকাঁচা একাডেমির সাজ্জাদ কাদির মঞ্চে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। পরে কুইজ প্রতিযোগিতা এবং নির্বাচিত সেরা স্টলগুলোর শিক্ষার্থীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

 

 

 

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

Comments are closed.

এই বিভাগের আরও খবর