ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) থেকে নাজিম উদ্দিন: চট্টগ্রাম জেলার অন্তর্গত সন্দ্বীপ উপজেলার বর্তমান উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মংচিংনু মারমার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অনিয়ম এবং প্রশাসনিক ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে তার দ্রুত বদলি আদেশ কার্যকর ও নতুন কর্মকর্তা নিয়োগের দাবি জানিয়েছে সন্দ্বীপ উপজেলার সর্বস্তরের সাধারণ জনগণ। এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, মাদক বিস্তার এবং উন্নয়ন কাজে চরম স্থবিরতার প্রতিবাদে সাধারণ জনগণের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।
দ্বীপবাসীর অভিযোগ, বর্তমান ইউএনও যোগদানের পর থেকেই উপজেলায় অবৈধভাবে মাটি কাটা এবং টেন্ডার বাণিজ্যের সিন্ডিকেট বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। সরকারি উন্নয়নমূলক কাজের স্বচ্ছতা হারিয়ে গেছে এবং সাধারণ মানুষ প্রশাসনিক সেবা পেতে পদে পদে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। বিভিন্ন ইউনিয়নে চুরি, ডাকাতি ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাই।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, এলাকায় মাদকের বিস্তার আশঙ্কাজনকভাবে বাড়লেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। এছাড়া যোগাযোগ ব্যবস্থা ও চিকিৎসাসেবার চরম অবনতি ঘটেছে। সাধারণ মানুষের অভিযোগ, ইউএনও মহোদয় জনস্বার্থের চেয়ে নির্দিষ্ট একটি পক্ষের স্বার্থ রক্ষায় বেশি তৎপর, যা প্রশাসনের নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, একজন সরকারি কর্মকর্তার কাজ হলো জনগণের সেবা নিশ্চিত করা এবং এলাকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা। কিন্তু বর্তমানে এলাকায় সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে।জেলা পারাই ধর্ষণের মত গুরুতর অভিযোগ উঠলেও এখনো পর্যন্ত আসামীকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় নাই। এই পরিস্থিতিতে বর্তমান উপজেলা নির্বাহী অফিসারের অধীনে কোনোভাবেই সুষ্ঠু প্রশাসন চালানো সম্ভব নয় বলে দ্বীপের জনগণ মনে করে।
উদ্ভুত পরিস্থিতিতে এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং উন্নয়নের স্বার্থে অবিলম্বে মংচিংনু মারমার বদলি আদেশ দ্রুত কার্যকর করে একজন দক্ষ ও জনবান্ধব কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসক এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নিকট জোর দাবি জানানো হয়। অন্যথায় দ্বীপের সচেতন নাগরিক সমাজ আরও কঠোর কর্মসূচি পালনের হুঁশিয়ারি দিবে বলে জানানো হয়।