গাজীপুর প্রতিনিধি: গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের দক্ষিণ সালনা ও লক্ষীপুরা এলাকায় অবৈধভাবে গ্যাস ব্যবহারের অভিযোগে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে তিনজনকে মোট ৯০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং একজনকে এক মাসের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
বুধবার গাজীপুর জেলা প্রশাসন ও তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের গাজীপুর আঞ্চলিক অফিসের যৌথ উদ্যোগে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
তিতাস গ্যাস গাজীপুর আঞ্চলিক অফিসের ব্যবস্থাপক (প্রকৌশলী) মোস্তফা মাহবুব জানান, গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ গ্যাস সংযোগ ও গ্যাসের অপব্যবহার রোধে জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় দক্ষিণ সালনা ও লক্ষীপুরা এলাকায় অভিযান চালিয়ে শহিদুল ইসলামের বাড়িতে আটটি অবৈধ গ্যাসের চুলা পাওয়া যায়। এ ঘটনায় তাকে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।
একই এলাকায় অবৈধ গ্যাস ব্যবহারের দায়ে আবু হানিফকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া অভিযান চলাকালে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোর অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয় তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ।
অপরদিকে, গাজীপুর মহানগরের লক্ষ্মীপুরা এলাকায় অবস্থিত ইন্ট্রাম্যাক্স নামক একটি পোশাক কারখানায় অভিযান চালিয়ে দেখা যায়, সেখানে ওয়াশিং প্লান্টে অবৈধভাবে গ্যাস ব্যবহার করা হচ্ছে। তিতাস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, কারখানাটি প্রতিমাসে প্রায় ৪০ লাখ টাকার গ্যাস অবৈধভাবে ব্যবহার করছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। এ অপরাধে কারখানাটির সহকারী অ্যাডমিন অফিসার কাজী হাসানুর রহমানকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।

ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন গাজীপুর জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাবরিনা আক্তার।
অভিযানে উপস্থিত ছিলেন তিতাস গ্যাস গাজীপুরের বিপণন বিভাগের ব্যবস্থাপক (প্রকৌশলী) মোস্তফা মাহবুব, সহকারী প্রকৌশলী রাকিব হাসান ও সোহেল মিয়া, ভিজিল্যান্স বিভাগের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (প্রকৌশলী) মো. শাহিদুর রহমান, ডেপুটি ম্যানেজার প্রকৌশলী আলী নওরোজ রাহাত, উপসহকারী প্রকৌশলী মনি শঙ্কর রায়, মতিয়ার রহমান ও আতাউর রহমান, সহকারী ব্যবস্থাপক (লিগ্যাল) আমিনুল ইসলামসহ তিতাস গ্যাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অবৈধ গ্যাস সংযোগ ও গ্যাসের অপচয় রোধে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।