ঢাকা গ্যাজেট রিপোর্ট : সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের রায় অনুযায়ী গাজীপুরের সংসদীয় আসন আগের মতই থাকবে। অর্থাৎ ৬টি নয়, আগের ৫টি আসনই বলবত থাকবে। ফলে আগের কালিয়াকৈর উপজেলা এবং গাজীপুর সিটি করপোরেশনের কাশিমপুর, কোণাবাড়ী ও বাসন থানা আগের মত গাজীপুর ১ আসনে মধ্যেই থাকবে। ফলে এখান থেকে বিএনপি যাকে দলীয়ভাবে মনোনয়ন দিয়েছেন, তিনিই দলের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে থাকবেন, নাকি দল নতুন কোন প্রার্থী পুনরায় মনোনয়ন দিবেন- এ নিয়ে নানা জল্পনা কল্পনা রয়েছে ।
সম্প্রতি এ আসনে (গাজীপুর-১) বিএনপি কালিয়াকৈর পৌরসভার সাবেক মেয়র মজিবুর রহমানকে দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছে। এ মনোনয়ন নিয়ে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ইতিমধ্যে নেতাকর্মীদের মধ্যে বিরোধ চরমে উঠেছে। এ মনোনয়নকে কেন্দ্র করে কয়েকটি সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। নেতাকর্মীরা স্পষ্টতই কয়েকভাগে বিভক্ত হয়ে গিয়েছে। সামনে আরো বড় ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে বলে অনেকেই মনে করছেন। মেয়র মজিবুরকে নিয়ে অনেকেই নানা ধরনের কানাঘুষা শুরু করেছেন। কারন বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় মজিবুর রহমান কালিয়াকৈর পৌরসভার মেয়র ছিলেন। তিনি আওয়ামী লীগের একজন সিনিয়র মন্ত্রী ও স্থানীয় নেতাদের আস্থাভাজন ছিলেন বলে গুঞ্জন রয়েছে। তাছাড়া বিগত সরকার বিরোধী আন্দোলনে তার ভূমিকা ছিল সন্দেহজনক ও বিতর্কিত। অনেকেই বলছেন, মেয়র মজিবুর তৎকালিন আওয়ামী নেতাদের সাথে মিলেমিশে মেয়রের দায়িত্ব পালন করেছেন। তাদের কাছ থেকে নানা ধরনের সুবিধা নিয়েছেন। এসব কারনে বিএনপি নেতাকর্মীরা তাকে ভালভাবে নিচ্ছেন না। ফলে এ আসনে আরো বেশ কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা ও জনপ্রিয় নেতা থাকা সত্বেও মজিবুর কিভাবে মনোনয়ন পেলেন- এ নিয়ে মাঠ পরযায়ে অনেক কথা ডালপালা মেলেছে। যদিও দলের হাইকমান্ড এর এই সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে এখনো কেউ নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে ঘোষনা দেননি। কিন্ত এমন একজনকে এ আসনে প্রার্থী দেওয়ার ফলে বিএনপি কি এ আসনটি হারাতে বসেছে কিনা – এমন প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে।
জানা গেছে, বিগত দিনে এ আসন থেকে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা চৌধুরী তানভীর আহমেদ সিদ্দিকী কয়েকবার নির্বাচন করেছেন। তিনি তার প্রতিদ্বন্ধী প্রার্থীর সাথে তেমন ভাল ফলাফল করতে পারেননি। সেসময় গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ৩টি থানা এ আসনের সাথে সংযুক্ত ছিল না। তারপরও তিনি ভাল ফলাফল করতে পারেননি। আর বর্তমানে সিটি করপোরেশনের ৩ থানা এ আসনের সাথে থাকায় নির্বাচন আরো প্রতিযোগিতামূলক হবে। এ তিনটি থানায় সাবেক মেয়র মজিবুরের তেমন কোন পরিচিতি বা গ্রহনযোগ্যতা নেই। অন্যদিকে আওয়ামী সংশ্লিষ্টা থাকার অভিযোগের কারনে খোদ কালিয়াকৈর এলাকাতেই তার জনপ্রিয়তা প্রশ্নের মুখে। তাছাড়া দলীয় কোন্দল তো রয়েছেই।
গাজীপুর -১ আসনে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা সায়েদুল আলম বাবুল, হুমায়ুন কবির খান, গাজীপুর মহানগর বিএনপির সভাপতি শওকত হোসেন সরকার, তানভীর আহমেদের ছেলে ইশরাক আহমেদ নির্বাচন করার জন্য অনেক দিন ধরেই প্রচার প্রচারনা চালিয়ে যাচ্ছিলেন মনোনয়ন ঘোষনার আগ পরযন্ত।এদের মধ্যে অনেকেরই সংসদীয় আসনের সব এলাকাতেই জনপ্রিয়তা রয়েছে। তবে সেসময়ও মেয়র মজিবুরের তেমন প্রচারনা দেখা যায়নি। হঠাৎ করেই তিনি দলীয় মনোনয়ন পাওয়ায় ওইসব নেতাদের অনুসারিদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।
বিএনপির নেতাকর্মীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এ আসনে যদি বিএনপিকে জিততে হয়, তাহলে সবচেয়ে জনপ্রিয় কোন নেতাকে এখানে দলীয় মনোনয়ন দিলে বিজয়ী হয়ে আসা সম্ভব ছিল।কিন্ত দল এমন একজনকে মনোনয়ন দিয়েছে, যিনি নিজের দলের নেতাকর্মীদের বিরোধিতার মুখোমুখি হচ্ছেন বা ভবিষ্যতে আরো বেশী বিরোধিতার সম্মুখিন হবেন। তাদের ভাষ্য, দলের উচিত মনোনয়ন বিবেচনা করে জনপ্রিয় কোন নেতাকে পুনরায় মনোনয়ন দেয়া। তা না হলে এ আসনটি নিয়ে শংকা থেকেই যাবে।
অনেক নেতাকর্মীরাই বলছেন, এ আসনের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত প্রার্থী হচ্ছেন, গাজীপুর মাহনগর বিএনপির সভাপতি শওকত হোসেন সরকার। কারন তিনি কাশিমপুর ইউনিয়নের অনেকবার নির্বাচিত চেয়ারম্যান ছিলেন। কালিয়াকৈর সদরসহ পুরো নির্বাচনী এলাকাতে রয়েছে তার ব্যাপক জনপ্রিয়তা। স্বচ্ছ রাজনীতিবিদ হিসেবে সকল মহলে তিনি প্রশংসিত। কোন বিতর্ক নেই তাকে নিয়ে। বিগত দিনে রাজপথে থেকে নানা নিরযাতন ও জেলজুলুম খেটেছেন। যে কোন সময় দলীয় নেতাকর্মীরা তার কাছে গিয়ে নিজেদের অভিযোগ অনুযোগ জানাতে পারেন। কর্মীবান্ধব ও সাধারন জনগনের আস্থাভাজন হিসেবে তিনি পরিচিত ও ব্যাপক সমাদৃত ।
অন্যদিকে গাজীপুর ১ আসনের প্রায় ৭ লাখ ভোটারের মধ্যে প্রায় অর্ধেক ভোটার মহানগরের ৩টি থানা এলাকায় রয়েছে, যেখানে শওকত হোসেন সরকারের একচ্ছত্র জনপ্রিয়তা রয়েছে। আর এসব এলাকাতে মেয়র মজিবুরের তেমন কোন পরিচিতি না থাকায় এসব ভোট তিনি কোনভাবেই নিজের দিকে টানতে পারবেন না। ফলে প্রতিদ্বন্দ্বী অন্য দলের প্রার্থী বিজয়ী হয়ে যাবে, যদি দল মনোনয়ন পুনবিবেচনা না করে।
নির্বাচনের তফশিল ঘোষনা হয়েছে। সামনে সময় খুব কম। এখনও দল যদি প্রার্থী বদল করে সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতাকে এ আসনের জন্য মনোনয়ন চুড়ান্ত করেন, তাহলেই কেবল এ আসনটিতে বিজয় সম্ভব। দলকি এ আসনটিতে মনোনয়ন পুনবিবেচনা করবে- এ প্রশ্ন এখন সবার।