বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৫৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
আমিরাতের দুটি কেন্দ্রে এসএসসি পরীক্ষা ২০২৬ শুরু উৎসবমুখর পরিবেশে সুশৃঙ্খলভাবে কালিগঞ্জে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার প্রথম দিন সম্পন্ন ১৪৭৩ পরীক্ষার্থীর মধ্যে অনুপস্থিত ১৩ জন কালীগঞ্জ পৌরসভা থেকে ৬০ জনকে বিনামূল্যে কম্পিউটার ও ড্রাইভিং প্রশিক্ষণের উদ্বোধন মাভাবিপ্রবিতে BAC অ্যাক্রেডিটেশন বিষয়ক দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত ফটিকছড়িতে ১১ ভেন্যুর ১২ কেন্দ্রে একযোগে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হেফাজত আমিরের সঙ্গে এনসিপি মুখপাত্র আসিফ মাহমুদের সৌজন্য সাক্ষাৎ গাকৃবিতে আন্তর্জাতিক সিএবিআই কোর্স অন্তর্ভুক্তির লক্ষ্যে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত বিএসইসি চেয়ারম্যানের সাথে উত্তরা গ্রুপের চেয়ারম্যানের ব্যাবসায়িক বৈঠক অনুষ্ঠিত  বিশ্ববাজারে আরও কমলো স্বর্ণের দাম রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় জাপানের সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ

ডাকসু নির্বাচন: শেষ মুহূর্তে নানা প্রতিশ্রুতিতে ভোটারদের কাছে টানছেন প্রার্থীরা

  • আপডেট টাইম : রবিবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ২৫৩ ভিজিটর

স্টাফ রিপোর্টার: দরজায় কড়া নাড়ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন। ৯ সেপ্টেম্বর দিনভর ছয়টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ করা হবে। তবে আজ রাতেই শেষ হবে প্রচারণা। সে হিসেবে হাতে আছে মাত্র কয়েক ঘণ্টা। তাই শেষ মুহূর্তে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন বিভিন্ন প্যানেল মনোনীত ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। ভোটারদের আকৃষ্ট করতে তারা নানা ধরনের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। গতকাল ছুটির সারা দিন ক্যাম্পাসে ঘুরে এমন চিত্রই দেখা যায়। তবে প্রার্থীরা শিক্ষার্থীদের সমস্যা সমাধানের প্রতিশ্রুতি দেয়ার পাশাপাশি গণমাধ্যমের কাছে নানা অভিযোগ-অনুযোগও তুলে ধরেছেন।

‘স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী ঐক্য’ প্যানেলের সহসভাপতি (ভিপি) উমামা ফাতেমা বলেছেন, ‘মেয়েরা সহজে অন্যের দ্বারা প্রভাবিত হন না। তাদের একটা যুক্তিসংগত চিন্তা থাকে। স্বাধীনচেতা হয়ে ছাত্রীরা ভোট দিতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। ফলে এবার ৪৭ শতাংশ ছাত্রী ভোটার আসলে কোথায় ভোট দিচ্ছেন, সেটির ওপরে নির্ভর করবে ডাকসুর গতিমুখ। আমি মনে করি, মেয়েরাই এবার ডাকসুতে ব্যবধান গড়ে দেয়ার বড় ফ্যাক্টর।’ গতকাল দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলে প্রচারকালে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।

প্রসঙ্গত, এ নির্বাচনে মোট ভোটার ৩৯ হাজার ৮৭৪ জন, যার মধ্যে ছাত্রী ভোটার রয়েছে ১৮ হাজার ৯৫৯ জন।

উমামা বলেন, ‘অনেক মেয়েই বাসায় চলে গেছেন। অনেকের আবার পরীক্ষার প্রস্তুতি ছুটি চলছে। আবার অনেকে ডাকসুকে শুধুই রাজনৈতিক প্লাটফর্ম হিসেবে চিন্তা করেন। এজন্য মেয়েদের মধ্যে ভোট দিতে অনাগ্রহ কাজ করে।’

উমামা ফাতেমা বলেন, ‘আবার অনেকের পরিবার থেকে ফোন করে বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সেই জায়গা থেকে আমি মনে করি মেয়েদের ভোটকেন্দ্রে আনা একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আবার মেয়েদের ভোটকেন্দ্র হল থেকে দূরে দূরে রাখা হয়েছে। এতে ভোটারদের মধ্যে আগ্রহ কমবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘ছাত্রীরা সবাই যদি ভোট দিতে আসেন, তাহলে ভোটার অংশগ্রহণ ৩৫ হাজারের বেশি হয়ে যাবে। আমরা আশা করি, মেয়েরা ভোট দিতে আসবেন। আমরা তাদের উৎসাহিত করছি।’

ইশতেহার বাস্তবায়ন করা যাবে না, এমন কিছু রাখেননি বলে জানান উমামা ফাতেমা। ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক সংস্কারের রূপরেখা তৈরি করা দরকার। সেই জায়গায় প্রশাসন, সাধারণ শিক্ষার্থী এবং ছাত্রসংগঠনের মধ্যে একটি সামাজিক সংলাপ করার প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

এদিকে, ‘বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থী সংসদ’ প্যানেলের ভিপি প্রার্থী আব্দুল কাদের বলেছেন, আমরা নির্বাচিত হলে প্রথম কাজ হবে শিক্ষার্থীদের জন্য ‘ওয়ান বেড, ওয়ান স্টুডেন্ট’ সিস্টেম চালু করা। গতকাল দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয় একাত্তর হলের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘হলে সিট পেতে এলাকার বড় ভাইদের পিছে পিছে দৌড়াতে হয়। হল প্রশাসন একেবারে নীরব ভূমিকা পালন করে। আমরা এ সিস্টেমের বিলোপ ঘটাতে চাই।’

আব্দুল কাদের বলেন, ‘আমরা নির্বাচিত হলে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা করব—হলে রাজনীতি থাকবে কিনা। যদি হলে রাজনীতি থাকে তাহলে কোন প্রক্রিয়ায় চলবে সে বিষয়ে কাজ করবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা বিগত দিনে শিক্ষার্থীদের পাশে ছিলাম। ভোট চাইতে গেলে শিক্ষার্থীরা স্বপ্রণোদিত হয়ে আমাদের কাছে আসছেন।’ ভোটকেন্দ্র হলের আশপাশে না রেখে দূরে রাখা শিক্ষার্থীদের ভোট দিতে নিরুৎসাহিত করার জন্য করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন আব্দুল কাদের।

ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোটের’ ভিপি প্রার্থী আবু সাদিক কায়েমের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশন অপেশাদার আচরণ করছে। গতকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয় একাত্তর হলের সামনে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আমরা অনেকগুলো অভিযোগ দিয়েছি। তারা কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেনি। আমরা নিরাপদ ক্যাম্পাস গড়ার কথা বলছি, কিন্তু বহিরাগতদের এনে কীভাবে নিরাপদ ক্যাম্পাস হবে।’

তিনি বলেন, ‘দীর্ঘমেয়াদে আবাসন সংকট নিরসনে হল নির্মাণে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বাধ্য করব। স্বাস্থ্য ও খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করব। যে আশা নিয়ে আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিলাম সেই আশা পূরণ করব।’

ডাকসু নির্বাচন ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘৃণার বিষবাষ্প ছড়ানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) প্রার্থী তানভীর আল হাদী মায়েদ। তিনি বলেন, ‘এর মধ্য দিয়ে ক্যাম্পাসের গণতান্ত্রিক নির্বাচনী পরিবেশ বিঘ্ন হবে।’ গতকাল বিকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে এক ব্রিফিংয়ে এ মন্তব্য করেন তানভীর আল হাদী। এর আগে প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে অনলাইনে হেনস্তা, হয়রানি ও অপপ্রচারে লিপ্ত ফেসবুক গ্রুপ নিষিদ্ধকরণ ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানায় ছাত্রদল।

তানভীর আল হাদী মায়েদ বলেন, ‘আমরা দেখছি মাঠের রাজনীতিতে পেরে না উঠে শিক্ষার্থীদের মন জয় করতে ব্যর্থ হওয়ার পর অনেকেই অনলাইন প্লাটফর্মকে ব্যবহার করে অনেক সংগঠন ও ব্যক্তির বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছেন। এ ধরনের কার্যক্রম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের গণতান্ত্রিক নির্বাচনী পরিবেশকে বিঘ্নিত করবে। একাধিকবার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে অভিযোগ জানিয়েছি। আজকেও সেটির অগ্রগতি জানতে এসেছিলাম। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, এ বিষয়ে তারা কাজ করছে। নামে-বেনামে বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম ব্যবহারকারী গ্রুপগুলোর মডারেটর বা অ্যাডমিন যারা আছেন, তারা ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থী হওয়া সত্ত্বেও শিক্ষকদের প্রতি যথেষ্ট সম্মানসূচক আচরণ করছেন না।’

তানভীর আল হাদী মায়েদ বলেন, ‘শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য নয়, আমরা ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের যে ভোটাধিকার সেটাও যেন তারা শতভাগ প্রয়োগ করতে পারেন, সেই ধরনের পরিবেশ তাদের উপহার দিতে চাই।’

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

Comments are closed.

এই বিভাগের আরও খবর