গাজীপুর প্রতিনিধি : গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার বোয়ালী ইউনিয়নের কয়েক গ্রামের হাজার হাজার মানুষ মাদক কারবারিদের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছেন। প্রতিদিন সন্ধার পর বসে মাদক কেনাবেচার হাট। প্রতিবাদ বা বাধা দিতে গেলেই হামলার শিকার হতে হয় স্থানীয়দের। মাদকসেবী ও কারবারিদের উৎপাত ও নানা ধরনের হুমকীতে কেউ এখন মুখ খুলতেও পারে না। তাদের হামলায় ইতিমধ্যে বেশ কয়েকজন আহত হবার ঘটনাও ঘটেছে। অন্যদিকে মাদককারবারিদের সাথে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের হাত রয়েছে বলেও অভিযোগ স্থানীয়দের। এলাকাবাসী বেশ কয়েকজন চিহ্নিত কারবারিকে হাতে নাতে ধরে পুলিশে সোপর্দ করলেও পুলিশকে টাকা দিয়ে ম্যানেজ করে বলে অভিযোগ করেছে স্থানীয়রা । মাঝে মাঝে গ্রেফতার করে জেলে দিলেও কয়েকদিন পর জামিনে তারা ছাড়া পেয়ে যায়। জেল থেকে বের হয়ে আবারো দ্বিগুন শক্তি ও সাহস নিয়ে মাদক ব্যবসায় জড়ায় এসব চিহ্নিত কারবারিরা ।
স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, বোয়ালী ইউনিয়নের রঘুনাথপুর , বোয়ালী বাজার এলাকা, বান্ধর মার্কেটসহ আশেপাশের কয়েকটি গ্রাম এখন মাদক কেনাবেচার উন্মুক্ত বাজারে পরিনত হয়েছে। দিনের বেলাসহ প্রতিদিন সন্ধার পর গোপনে ও প্রকাশ্যে বসে মাদকদ্রব্য বেচাকেনার হাট। মদ, গাজা ও ইয়াবাসহ নানা ধরনের মাদকের ছড়াছড়ি। বিশেষ করে তরুন যুবসমাজকে টার্গেট করে কারবারিরা মাদক বিক্রি করে থাকে। এছাড়া স্কুল কলেজের উঠতি বয়সের ছেলেরাও মাদকের নেশায় আকৃষ্ট হচ্ছে। শ্রমিক, অটোড্রাইভার, রিকশাওয়ালারা মাদক কেনার প্রধান ক্রেতা। এ নিয়ে এলাকাবাসী বেশ উদ্বিঘ্ন হয়ে পরেছেন। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা পড়েছেন বেশ বিপাকে। লেখাপড়া বাদ দিয়ে যুবসমাজ মাদকের কড়াল গ্রাসে নিমজ্জিত।
মাদকাসক্তদের হামলায় প্রতিনিয়ত কেউ না কেউ আহত হচ্ছে। স্কুল কলেজগামী ছাত্রীরাও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠাতে যেতে এখন ভয় পায় তাদের উৎপাতে।
গত কিছুদিন আগে চিহ্নিত মাদক কারবারী জসীমউদ্দিনকে রঘুনাথপুর বাজারে তার মটরসাইকেলে মাদকসহ আটক করে স্থানীয়রা। পরে তাকে উত্তম মাধ্যম দিয়ে মোটরসাইকেল আগুনে পুড়িয়ে দেয় লোকজন। এসময় তাকে পুলিশ ডেকে হস্তান্তর করা হয়। কিছুদিন জেল খেটে পরে সে বের হয়ে আবারো মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ে। উক্ত জসীমের সাথে রঘুনাথপুর এলাকার জোরান পাল ও দুলাল পাল নামে দুজন চিহ্নিত মাদক কারবারী বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তারা দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে নিজস্ব সোর্স এর মাধ্যমে মাদক নিয়ে এসে এলাকায় বিক্রি করে বলে সেসময় উক্ত জসীম স্থানীয়দের জানায় । এদের বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ বা টু শব্দ করলেই তাদেরকে নানাভাবে লাঞ্ছিত বা হামলা করা হয়। বর্তমানে এ দুজন টপ মাদক কারবারী হিসেবে এলাকায় পরিচিতি পেয়েছে বলে এলাবাসির অভিযোগ।
জানা গেছে, মাদককারবারিরা অনেক শক্তিশালী। তাদের রয়েছে অনেক বিস্তীর্ণ নেটওয়ার্ক। মাদকের টাকায় গড়ে তুলেছে গাড়ী, বাড়ী ও ফ্ল্যাট। রয়েছে পুলিশ প্রশাসনকে ম্যানেজ করার ক্ষমতা। এলাকাবাসী তাদের হাতে জিম্মি। কেউ প্রতিবাদ করার সাহসও পায়না।
মাদকের হাত থেকে যুবসমাজকে রক্ষা করতে এলাকাবাসী গড়ে তুলেছেন স্বেচ্ছাসেবী মাদক বিরোধী সংগঠন “ সচেতন তরুণ ছাত্র জনতা”। তারা বিভিন্ন মাদক বিরোধী প্রচারনা, সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালায়। এ সংগঠনের একজন সদস্য সোহেল রানা জানান, আমাদের এলাকাটিতে মাদকের ছড়াছড়ি। আমরা অনেককে হাতে নাতে ধরেছি। থানা ও পুলিশ ফাড়িকে অবহিত করেছি। কিন্ত কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। তিনি জানান, এখানে ৪০ থেকে ৫০ জন চিহ্নিত মাদক কারবারি রয়েছে । এদের মদ্যে মহিলারাও কারবারে জড়িয়ে পরছে। আমরা যুব সমাজের উদ্যোগে এ সংগঠনটি গড়ে তুলেছি। এর মাধ্যমে নানা ধরনের মাদক বিরোধী কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছি। কিন্ত আমরা কোনভাবেই তাদের সাথে পারছি না। তাদের নেটওয়ার্ক অনেক বড়।

বোয়ালী ইউনিয়নের সংরক্ষিত মহিলা মেম্বার তাহমিনা আক্তার জানান, অনেক চেষ্টা করেছি মাদককারবারিদের দমন করতে। তাদেরকে ধরে পুলিশে দিলেও কয়েকদিন পর ছাড়া পেয়ে যায়। তারা কাউকেই ভয় পায় না। তাদের বিরুদ্ধে কিছু বলতে গেলেই তারা আমাদেরকে টার্গেট করে। তাদের হাতে পুরো ইউনিয়নবাসী জিম্মি হয়ে পরেছে।
রঘুনাথপুর এলাকার লিয়াকত হোসেন জানান, মাদকের ছোয়ায় এলাকার যুবসমাজ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তারা সকাল সন্ধায় মাদক কেনাবেচা করে, সেবন করে। তিনি জানান, জোরান পাল ও দুলাল পাল নামে দুই মাদক কারবারি এখন আমাদের এলাকার ত্রাশ হিসেবে পরিচিত। প্রতিদিনই সন্ধার পর তারা বিভিন্ন জায়গায় আড্ডা বসায়। তাদেরকে কেউ বাধা দিতে গেলে মারধোর করে, হামলা ও আক্রমন করে। এলাকার ছেলেরা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এদের বিরুদ্ধে পুলিশ প্রশাসনকে ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানান তিনি।
মাদকের ছড়াছড়ি ও মাদক কারবারিদের উৎপাতের কথা স্বীকার করেছেন ফুলবাড়িয়া পুলিশ ফাড়ির ইনচার্জ জামাল উদ্দিন। তিনি বলেন, আমরা প্রায়ই অভিযান পরিচালনা করছি। অনেককে ধরে জেলে দিচ্ছি । এলাকাবাসি পুলিশকে বেশ সহযোগিতা করে থাকে। তিনি বলেন, মাদক কারবারিদের ধরতে ও নিয়ন্ত্রন করতে পুলিশের চেষ্টা অব্যাহত আছে।
#####