সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬, ০৫:০১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
কালীগঞ্জের ৮ ইউনিয়নে বিএনপি নেতার উদ্যোগে ইফতার সামগ্রী বিতরণ ইরানের হামলায় ২০০ মার্কিন সেনা হতাহত : আইআরজিসি কালীগঞ্জে সুন্দরবন দিবস উপলক্ষে র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত কলারোয়ার বিভিন্ন সরকারি দফতর পরিদর্শনে নতুন সাংসদ জামায়াতের ইফতার মাহফিলে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী সাতক্ষীরায় ৫.৩ ম্যাগনিটিউডে ভূমিকম্প গণভোটের ফলাফল; প্রায় ১১ লাখ ভোট কমিয়ে সংশোধনী গেজেট প্রকাশ ইসির গুণীজনদের হাতে একুশে পদক তুলে দিলেন প্রধানমন্ত্রী গাকৃবিতে দেশের প্রথম উচ্চ খরা সহনশীল সয়াবিনের জাত ‘জিএইউ সয়াবিন ৬’ উদ্ভাবন : খরা ও চরাঞ্চলের কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা গাজীপুরকে দুষণমুক্ত গ্রীণ সিটি হিসেবে গড়ার অঙ্গীকার : জিসিসি প্রশাসক শওকত হোসেন সরকার

সম্মিলিত সহযোগিতায় আরএমজি সেক্টর ভবিষ্যতে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় শিল্প হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে – শিল্প উদ্যোক্তা সালাউদ্দিন চৌধুরী

  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৩০৬ ভিজিটর

ঢাকা গ্যাজেট রিপোর্ট :  বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের উন্নয়ন এবং বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে  সম্প্রতি ঢাকা গ্যাজেটসহ আন্তর্জাতিক কয়েকটি মিডিয়ার সাথে কথা বলেছেন  তরুন শিল্প উদ্যোক্তা  ও স্টাইলিশ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সালাউদ্দিন চৌধুরী। তিনি এসি ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রুপ ও এসজিএল এর  চেয়ারম্যান এবং  ইবিএফসিআই ও বিপিসিসিআই এর  সিনিয়র ডিরেক্টর।

তার মতে, পোশাক শিল্পের সুরক্ষা ও উন্নয়ন অনেকাংশে নির্ভর করে ন্যায্য আইন এবং সহযোগিতার ভিত্তিতে, যা এখনও বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। তিনি জানিয়েছেন, মালিকরা যদি পণ্যের সঠিক ও ন্যায্য দাম পান, তাহলে শ্রমিকদের উন্নয়নে তারা আরো অনেক কিছু দিতে পারবেন।

নতুন শ্রম আইন নিয়ে প্রতিবাদ : সালাউদ্দিন চৌধুরী জানান, নতুন শ্রম আইন নিয়ে মালিক এবং শ্রমিকদের মধ্যে বিভিন্ন আপত্তি রয়েছে। তিনি বলেন, ‘‘আমরা বিশ্বের সবচেয়ে নিরাপদ ফ্যাক্টরি তালিকাভুক্ত করেছি এবং এই ফ্যাক্টরিগুলো আন্তর্জাতিক সুরক্ষা মান মেনে চলে। কিন্তু দুঃখের বিষয়, যখনই কোনো দুর্ঘটনা ঘটে অন্য কোনো শিল্পে, তখনই আমাদের রপ্তানি পোশাক (আরএমজি) শিল্পকে দায়ী করা হয়।’’ তিনি আরও উল্লেখ করেন, অনেক ক্ষেত্রেই অগ্নিকাণ্ডের মতো দুর্ঘটনাগুলোর সঙ্গে যুক্ত ফ্যাক্টরিগুলো আরএমজি সেক্টরের শীর্ষ সংগঠনগুলোর কোনো তালিকাতেই নেই।

 

শ্রমিকদের সুবিধার বিষয় : তিনি বলেন, পশ্চিমা বিশ্ব সবসময় শ্রমিকদের অধিকার নিয়ে চিন্তা করে, তবে কখনো কি তারা ভেবেছে যে মালিকরা শ্রমিকদের জন্য কীভাবে আরও সুবিধা দেবেন যদি তারা সঠিক দাম না পান? ‘‘আমাদের ২০০টিরও বেশি LEED সার্টিফিকেটপ্রাপ্ত ফ্যাক্টরি রয়েছে এবং এসব ফ্যাক্টরি প্রতিষ্ঠা করতে মালিকদের অনেক কোটি টাকা খরচ করতে হয়েছে। কিন্তু এসব ফ্যাক্টরির মালিকরা কি সঠিক মূল্য পাচ্ছেন?’’—এই প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

শ্রমিক-মালিক সম্পর্ক উন্নত করার পরামর্শ : নতুন শ্রমিক ফেডারেশন আইন শ্রমিক এবং মালিকদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি করবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সালাউদ্দিন চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘‘তৃতীয় পক্ষরা এই পরিস্থিতির সুবিধা নিতে পারে।’’ তাই, তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান যে, মালিক ও শ্রমিকদের মধ্যে একটি সমঝোতা সৃষ্টির জন্য সরকার যেন উদ্যোগ গ্রহণ করে। ‘‘একটি সমন্বিত কমিটি গঠন করা যেতে পারে, যেখানে মালিক এবং শ্রমিক প্রতিনিধিরা একসাথে বসে সমস্যাগুলি সমাধান করবে এবং কোনো ভুল কাজের জন্য দায়িত্বশীল থাকবে।’’

 

 এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন নিয়ে উদ্বেগ : সালাউদ্দিন চৌধুরী এলডিসি (লেস ডেভেলপড কান্ট্রি) থেকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে কিছু উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, ‘‘অনেক পশ্চিমা দেশ আমাদের এই গ্র্যাজুয়েশনকে সমর্থন করছে, তবে ব্যবসায়ী মহল ২০২৬ সালের মধ্যে এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন নিয়ে বিরোধিতা করছে।’’ তিনি আরও বলেন, গত পাঁচ বছর ধরে শিল্প ও ব্যবসায়ীরা একের পর এক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন এবং বর্তমানে তারা পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়ায় রয়েছেন। এজন্য তিনি অন্তত তিন বছরের সময় বৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়েছেন।

রপ্তানি ও বাজার পরিস্থিতি : আরএমজি শিল্পের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সালাউদ্দিন চৌধুরী জানান, বর্তমানে রপ্তানির পরিমাণ কম এবং অনেক ফ্যাক্টরি এখনও অর্ডার পাচ্ছে না। তিনি বলেন, ‘‘ট্যারিফ ইস্যুর পর অনেক ক্রেতা অর্ডার বাতিল করেছে, ফলে শিল্পটি এখনও বিপদে রয়েছে। তবে সরকারের ট্যারিফ ইস্যু নিয়ে নেয়া পদক্ষেপগুলো ভালো, তবে আমাদের আরও কাজ করতে হবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রাখতে হবে যাতে ট্যারিফ কমানো যায়।’’

ভবিষ্যতের প্রতিকূলতা এবং সম্ভাবনা : তিনি আরও জানান, ‘‘নতুন বাজার এবং নতুন পণ্য খুঁজে বের করার মাধ্যমে আমাদের আন্তর্জাতিক বাজারে শেয়ার বৃদ্ধি করতে হবে।’’ পাশাপাশি, তিনি সরকারের কাছ থেকে আরও দ্রুত নীতি সহায়তা প্রার্থনা করেন যাতে শিল্প এবং কর্মসংস্থান সংরক্ষণ করা যায়। এছাড়াও, তিনি বলেন, ‘‘সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করা দরকার, যাতে বাইরের প্রভাব থেকে শ্রমিকদের কোনো ধরনের ক্ষতি না হয়।’’

 

শেষে, তিনি আশাবাদী যে, সরকার, মালিক, শ্রমিক এবং অন্যান্য অংশীদারদের সম্মিলিত সহযোগিতায় আরএমজি সেক্টর ভবিষ্যতে উন্নতি করবে এবং বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় শিল্প হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করবে।

## সাক্ষাৎকার গ্রহন : মোঃ হাজিনুর রহমান শাহীন, সম্পাদক ঢাকা গ্যাজেট

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

Comments are closed.

এই বিভাগের আরও খবর