সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬, ০৫:০২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
কালীগঞ্জের ৮ ইউনিয়নে বিএনপি নেতার উদ্যোগে ইফতার সামগ্রী বিতরণ ইরানের হামলায় ২০০ মার্কিন সেনা হতাহত : আইআরজিসি কালীগঞ্জে সুন্দরবন দিবস উপলক্ষে র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত কলারোয়ার বিভিন্ন সরকারি দফতর পরিদর্শনে নতুন সাংসদ জামায়াতের ইফতার মাহফিলে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী সাতক্ষীরায় ৫.৩ ম্যাগনিটিউডে ভূমিকম্প গণভোটের ফলাফল; প্রায় ১১ লাখ ভোট কমিয়ে সংশোধনী গেজেট প্রকাশ ইসির গুণীজনদের হাতে একুশে পদক তুলে দিলেন প্রধানমন্ত্রী গাকৃবিতে দেশের প্রথম উচ্চ খরা সহনশীল সয়াবিনের জাত ‘জিএইউ সয়াবিন ৬’ উদ্ভাবন : খরা ও চরাঞ্চলের কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা গাজীপুরকে দুষণমুক্ত গ্রীণ সিটি হিসেবে গড়ার অঙ্গীকার : জিসিসি প্রশাসক শওকত হোসেন সরকার

ইতিহাসের খন্ড চিত্র ও আজকের প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক পর্যালোচনা

  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৫
  • ৩৮০ ভিজিটর
হাফিজ সিদ্দিকী

হাফিজ সিদ্দিকী : ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের পালানোর পর রিফাইন আওয়ামী লীগ কথাটি উঠে আসে উত্তর পাড়া থেকে। এই রিফাইন আওয়ামী লীগ সংগঠিত করার জন্য যাদের নাম সামনে এসেছে তারা হলেনঃ‌ (১) সাবেক স্পিকার ডঃ শিরিন শারমিন চৌধুরী (২) জনাব সাবের হোসেন চৌধুরী (৩) জনাব সোহেল তাজ উদ্দিন। নোয়াখালীর চন্দ্রগন্জের ১৯৭৩ সালের আওয়ামী লীগের এমপি জনাব রফিকউল্লাহ মাষ্টারের মেয়ে। দাগনভূইয়া চৌধুরী পরিবারের সন্তান এক সময়ের শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ ও মন্ত্রী পরিষদের সদস্য। আরেকজন স্বাধীন বাংলা অস্থায়ী সরকারের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন ও আওয়ামী লীগের পূনঃগঠনের সভাপতি সৈয়দা জোহরা তাজউদ্দিনের ছেলে ও সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

পালিয়ে যাওয়া আওয়ামী লীগের ৩০০ শতাধিক এমপি মন্ত্রীদের ও দলীয় নেতাদের লক্ষ কোটি টাকার খেলা চলছে বিদেশী লবিং এর কাজে। গত দুইদিন আগে সাবের হোসেন চৌধুরীর বাসায় জড়ো হয়েছিলো সুইডেন ডেনমার্ক ও নয়ওয়ের রাষ্ট্রদূতেরা। এই দিকে আমাদের উত্তরপাড়ার মহান একজন তলসীধোয়া গেলেন মালয়শিয়ায়। শুনাযায় সেখানে মিলিত হলেন ভারতীয় সেনা প্রধানের সাক্ষাৎ নিতে। এরপরেই দেশের বড়ো দলের দ্বিতীয় প্রধান নেতার ভারত সফর। এই রাজনৈতিক নেতাদের এই নাটকীয়তায় দেশবাসী বড়োই উদ্বিগ্ন।

গত তিনদিন হলো তারেক জিয়া দেশবাসীকে তাঁর ও তাঁদের পরিবারের করুন চিত্র তুলে ধরেছিলেন এইভাবেঃ আমার পিতার হত্যায় আমরা ছিলাম অসহায়, আমার পিতার স্মৃতিবিজড়িত বাড়ি থেকে আমার মাকে এক কাপড়ে উচ্ছেদ করা হয়েছিলো। আমার প্রতি নিষ্ঠুরতা আমার জীবনকে পংগু করে দেশের বাহিরে পাঠিয়ে দেয়। আমার রেখে যাওয়া ভাইকে জীবিত পেলামনা। আমার মাকে মিথ্যা মামলা দিয়ে অসুস্থ বানিয়ে জেলে রাখা হলো। আমার দেশে ফেরার উদ্গ্রীব থাকলেও আমি আসতে পারছিনা। আমার পিতার স্বাধীনতার সকল কৃতিত্ব মুছে দেয়া হলো।

এই দিকে জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপির প্রতি চলেছিলো নিষ্ঠুর দমনপীড়ন। জামায়াতে ইসলামীর ৬ জন নেতাকে অন্যায়ভাবে জুডিশিয়াল হত্যা ও অনেকেই জেলে হাতকড়া অবস্থায় জীবন দিতে হয়েছিলো। জামায়াতের রাজনীতি অঘোষিত নিষিদ্ধ হয়ে সারাদেশে সকল অফিস বন্ধ করা হলো। ক্রমশই গত ১৫ বছরে আওয়ামী লীগের ফ্যাসিস্ট রাজনীতি দেশকে জাহান্নাম বানিয়েছে। একটি দেশের প্রত্যক্ষ মদদে দেশে নির্বাচনী ব্যবস্থা ধংস করে অভ্যন্তরীণ লুটপাট ও বহিঃশক্তির বিচরন ও দখলদারিত্ব চলেছে অপ্রতিরোধ্য ভাবে। ১৯৭৫ সালের সেনা অভ্যুত্থানের নায়কদের ৩৫ বছর পর প্রতিশোধ নিয়ে হত্যা করা হলো। প্রতিশোধের আগুনে শেখ হাসিনা প্রতিপক্ষকে নির্মূল করতে কোনোটিই অবশিষ্ট রাখেনি। দেশ ও জনগনের ট্যাক্সের লক্ষ কোটি টাকার হরিরলুট করেছে এই দলের মাফিয়া বাহিনী।

আওয়ামী লীগের প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রী এমপি নেতা কর্মীদের সঙ্গে দেশের জাতীয় মসজিদের খতিব পর্যন্ত পালিয়েছে। ফলশ্রুতিতে একটি সফল নিরস্ত্র গনবিপ্লবের মধ্য দিয়ে দেশের কালো অধ্যায় সমাপ্তি ঘটে। আজকে ১৫০০ শহীদের নাজরানা ৩০ হাজার পংগুত্বের রক্তের সাথে বেঈমানি করছে অন্তবর্তীকালীন সরকার ও তাদের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যগন। নানা ছলচাতুরী করে বিচারকে প্রলম্বিত করা, ৭২ এর সংবিধান বহাল রেখে কমিশন নামিয়দের ডুয়েল খেলা জাতির সাথে অবশ্যই গাদ্দারির সামিল।
দেশের বিপ্লব পরবর্তী প্রশাসনের সহায়তায় চলছে লুটপাট। যাতে স্বৈরাচারের ইতিহাস ভুলে যায়। পরিস্থিতির আলোকে একটি দলের জনপ্রিয়তায় ধ্বস নেমে জামায়াতে ইসলামীর উত্থান বিশ্বকে জুজুর ভয় দেখানো হচ্ছে। ক্ষমতার লড়াইয়ে জামায়াত বিএনপির ইস্যু ভিত্তিক দূরত্ব সৃষ্টি করে বিভৎস দানবের ফিরে আসার পথ তৈরিতে কাজ করছে দেশ বিরোধী কালো শক্তি।

এইদিকে দিল্লিতে ফ্যাসিবাদের ফিরে আসার শলা পরামর্শ ও আওয়ামী লীগের মিলনমেলা। অপরদিকে পার্বত্য জেলা গুলোতে অশান্তি ও বিদেশী সশস্ত্র বাহিনীর উপস্থিতি আমাদের স্বাধীনতাকে চ্যালেঞ্জ করা হচ্ছে। দেশবাসী মনে করে ক্ষমতায় যাওয়ার চাইতে দেশ রক্ষা ও জাতীয় ঐক্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই বিষয়টি দেশের রাজনৈতিক অংগনেই পারস্পরিক দূরত্ব কমিয়ে সহনশীলতা বজায় রাখা সকল দেশপ্রেমিক একান্ত করনীয়। আমরা জনগনের ও রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান করবো আগে দেশ তারপর রাজনীতি। সিকিমের রাজা সগিয়ালের বিরুদ্ধে লেন্দূপ দর্জির কংগ্রেসকে বল প্রয়োগে জিতিয়ে এক বছরের মাথায় সেই স্বাধীন সিকিম হলো ভারতের ২৭ তম রাজ্য। আজকে যাদের স্বাধীনতা নেই আর লেন্দূপ দর্জি মৃত্যু হয়েছে ভারতের অজ্ঞাত স্থানে বিনা চিকিৎসায়।

আমাদের বিগত সময়ে এক ব্যক্তির পেটিকোট ছিলো লোয়ার কোর্ট হাইকোর্ট সুপ্রীম কোর্ট। বাকিরা প্রশাসনের অনুগতরা বাধ্য ছিলো ফ্যাসিস্ট সরকারের হুকুম পালনে বাধ্য। আমরা দেখেছি সুরেন্দ্র সিনহার পরিনতি, বিচারপতি আবদুল ওহাবের পরিনতি। দেশের অধিকাংশ প্রশাসনিক কর্তারা ছিলো হুকুমের দাস। সুতরাং বর্তমান সরকারের উচিৎ যাঁরা বাধ্য হয়েই অপরাধ করেছিলো তাঁদেরকে লঘুদন্ড অথবা জেনারেল মার্সি দিয়ে দেশ নিয়ে কাজ করা যেতে পারে নজরদারিতে। বিভাজনের রেখা মুছে ফেলে জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদের প্রতিরোধে সবাইকে কাজ করার সুযোগ দেয়া যেতে পারে। মনে রাখতে হবে আওয়ামী লীগ দেশ বিরোধী একটি ভারতীয় সন্ত্রাসী দল।

(হাফিজ ছিদ্দিকী : মুক্তিযোদ্ধা, সাংবাদিক, কলামিস্ট এবং উপ-সম্পাদক, ঢাকা গ্যাজেট )

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

Comments are closed.

এই বিভাগের আরও খবর