বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:০১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
আমিরাতের দুটি কেন্দ্রে এসএসসি পরীক্ষা ২০২৬ শুরু উৎসবমুখর পরিবেশে সুশৃঙ্খলভাবে কালিগঞ্জে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার প্রথম দিন সম্পন্ন ১৪৭৩ পরীক্ষার্থীর মধ্যে অনুপস্থিত ১৩ জন কালীগঞ্জ পৌরসভা থেকে ৬০ জনকে বিনামূল্যে কম্পিউটার ও ড্রাইভিং প্রশিক্ষণের উদ্বোধন মাভাবিপ্রবিতে BAC অ্যাক্রেডিটেশন বিষয়ক দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত ফটিকছড়িতে ১১ ভেন্যুর ১২ কেন্দ্রে একযোগে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হেফাজত আমিরের সঙ্গে এনসিপি মুখপাত্র আসিফ মাহমুদের সৌজন্য সাক্ষাৎ গাকৃবিতে আন্তর্জাতিক সিএবিআই কোর্স অন্তর্ভুক্তির লক্ষ্যে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত বিএসইসি চেয়ারম্যানের সাথে উত্তরা গ্রুপের চেয়ারম্যানের ব্যাবসায়িক বৈঠক অনুষ্ঠিত  বিশ্ববাজারে আরও কমলো স্বর্ণের দাম রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় জাপানের সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ

বদরুদ্দীন উমর আর নেই

  • আপডেট টাইম : রবিবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ১৯২ ভিজিটর

স্টাফ রিপোর্টার: লেখক, গবেষক ও বাম ধারার বুদ্ধিজীবী বদরুদ্দীন উমর মারা গেছেন। বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় আক্রান্ত বদরুদ্দীন উমরের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে আজ সকালে তাকে ঢাকার বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ১০টা ৫ মিনিটে তার মৃত্যু হয় বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের সম্পাদক ফয়জুল হাকিম। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯৪ বছর।

বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশনের সভাপতি এবং গণতান্ত্রিক বিপ্লবী জোটের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী ছিলেন বদরুদ্দীন উমর। এক সময় পূর্ববাংলার কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটিতে ছিলেন তিনি। ২০০৩ সালে তিনি জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল নামে একটি সংগঠন গড়ে সভাপতির দায়িত্ব নেন।

বদরুদ্দীন উমরের জন্ম হয়েছিল পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান শহরে ১৯৩১ সালের ২০ ডিসেম্বর। তার পিতা আবুল হাশিম, ভারত উপমহাদেশের অন্যতম খ্যাতনামা রাজনীতিক। দেশভাগের পর এক দাঙ্গায় তার বর্ধমানের বাড়িতে আগুন দিলে ক্ষুব্ধ, ব্যথিত আবুল হাশিম পূর্ব পাকিস্তানে চলে আসেন। এদিকে পিতাকে দর্শনের বই পড়ে শোনাতে শোনাতে তত দিনে উমরের দর্শনের প্রতি বিশেষ আগ্রহ তৈরি হয়েছে। তাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দর্শনে ভর্তি হলেন। ভাষা আন্দোলনের সময়ও পিতার প্রভাবে তমদ্দুন মজলিসের সঙ্গেই তার যোগাযোগ ছিল। তরুণ উমর ভাষা আন্দোলনের ঘটনাবলি দেখেছেন কাছে থেকে। এ সময় থেকেই তার চিন্তাভাবনায় পরিবর্তন দেখা দেয়। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৯৫৭ সালে দর্শনের প্রভাষক হিসেবে যোগদান করার পর ১৯৫৯ সালে অক্সফোর্ডে দর্শন, অর্থনীতি, রাজনীতি (পিপিই) পড়তে যান। সেখানে মার্ক্সবাদে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত হয়ে ফিরে আসেন দেশে।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকার সময় ১৯৬৪ সালে ‘সাম্প্রদায়িকতা’ প্রবন্ধ দিয়ে বদরুদ্দীন উমর প্রথম আলোচনায় আসেন। এ প্রবন্ধ নিয়ে সে সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজির ডাকসাইটে অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান সাজ্জাদ হোসাইনের সঙ্গে তরুণ উমরের বিতর্ক হয়। পরবর্তী কয়েক বছরের মধ্যে তার তিনটি গ্রন্থ ‘সাম্প্রদায়িকতা’, ‘সংস্কৃতির সংকট’ ও ‘সাংস্কৃতিক সাম্প্রদায়িকতা’ প্রকাশিত হয়। এ বই তিনটি—যেগুলোকে একত্রে একটি ‘ট্রিলজি’ বলা যায়—পূর্ব বাংলার সামাজিক ও রাজনৈতিক চিন্তার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার সূত্রপাত করে। বইগুলোয় আলোচিত প্রসঙ্গগুলো তত্কালীন বিদ্বৎ সমাজে দ্বিজাতি তত্ত্ব ও সাম্প্রদায়িকতার স্বরূপ, বাঙালি মুসলমানের আত্মপরিচয় ইত্যাদি বিষয়ে আলোচনার সূত্রপাত করেছিল।

বদরুদ্দীন উমরের গবেষণা গ্রন্থ ‘পূর্ব বাংলার ভাষা আন্দোলন ও তত্কালীন রাজনীতি’-এর তিনটি খণ্ড সম্পর্কে অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক বলেছিলেন যে, একমাত্র এই একটি বই-ই বদরুদ্দীন উমরকে বাংলা সাহিত্যে অমর করে রাখার জন্য যথেষ্ট। এটি ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস হিসেবে যেমন অনন্য, তেমনি সমসাময়িক রাজনীতির ইতিহাস হিসেবেও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। এ বইয়ের যেকোনো পাঠকই উপলব্ধি করতে পারবেন যে, গভীর রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও অঙ্গীকার ছাড়া এ রকম একটি অভিসন্দর্ভ রচনা করা সম্ভব নয়। এ বইয়ের জন্য তাকে দেয়া ‘বাংলা একাডেমি পুরস্কার’ তিনি কেন প্রত্যাখ্যান করেছিলেন বা কেন এর পরও তাকে অনেক পুরস্কার দেয়ার প্রস্তাব করা হলে তিনি সবিনয়ে সেসব প্রত্যাখ্যান করেছেন, তার উত্তরও নিহিত আছে তার রাজনৈতিক চিন্তার মধ্যে।

১৯৬৮ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরি ছাড়ার পর বদরুদ্দীন উমর পূর্ব পাকিস্তান কমিউনিস্ট পার্টিতে (এমএল) যোগ দেন। এ দেশে স্বাধিকার আন্দোলন তখন তুঙ্গে। আবার পশ্চিমবঙ্গের নকশালবাড়ী আন্দোলনের তীব্র প্রভাব পড়েছে এপার বাংলার কমিউনিস্টদের ওপরও। এ উত্তাল সময়ে ১৯৭০ সালের ফেব্রুয়ারিতে পার্টির মুখপত্র ‘গণশক্তি’ সম্পাদনার দায়িত্ব পান বদরুদ্দীন উমর। মুক্তিযুদ্ধের সময় আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় এ দেশের কমিউনিস্টদের মধ্যে যুদ্ধের চরিত্র ও তাদের ভূমিকা নিয়ে নানা বিভ্রান্তির সময় উমরের রাজনৈতিক জীবনে এক নতুন পর্যায়ের শুরু হয়। এ সময় তিনি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে চীনের বিরোধিতা, নকশালবাড়ী লাইন ইত্যাদি বিষয়ে কমিউনিস্ট পার্টির মধ্যে নানা প্রশ্ন উত্থাপন করেন।

বদরুদ্দীন উমর সম্পর্কে এ দেশের বিখ্যাত প্রগতিশীল বুদ্ধিজীবী অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম এক লেখায় বলেছেন, ‘তার সব গুণের মধ্যে যেটি সবচেয়ে বড় এবং অন্য সব গুণের ভেতরে যেটি শিরদাঁড়ার মতো কাজ করে, সেটা হলো তার ‘না বলার ক্ষমতা।’ উল্লেখ্য, চলতি বছর লেখক ও বুদ্ধিজীবী বদরুদ্দীন উমরসহ ৮ বিশিষ্টজনকে স্বাধীনতা পুরস্কারের জন্য মনোনীত করে সরকার। তবে বদরুদ্দীন উমর পুরস্কারটি ফিরিয়ে দেন।

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

Comments are closed.

এই বিভাগের আরও খবর