স্টাফ রিপোর্টার: দরজায় কড়া নাড়ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন। ৯ সেপ্টেম্বর দিনভর ছয়টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ করা হবে। তবে আজ রাতেই শেষ হবে প্রচারণা। সে হিসেবে হাতে আছে মাত্র কয়েক ঘণ্টা। তাই শেষ মুহূর্তে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন বিভিন্ন প্যানেল মনোনীত ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। ভোটারদের আকৃষ্ট করতে তারা নানা ধরনের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। গতকাল ছুটির সারা দিন ক্যাম্পাসে ঘুরে এমন চিত্রই দেখা যায়। তবে প্রার্থীরা শিক্ষার্থীদের সমস্যা সমাধানের প্রতিশ্রুতি দেয়ার পাশাপাশি গণমাধ্যমের কাছে নানা অভিযোগ-অনুযোগও তুলে ধরেছেন।
প্রসঙ্গত, এ নির্বাচনে মোট ভোটার ৩৯ হাজার ৮৭৪ জন, যার মধ্যে ছাত্রী ভোটার রয়েছে ১৮ হাজার ৯৫৯ জন।
উমামা বলেন, ‘অনেক মেয়েই বাসায় চলে গেছেন। অনেকের আবার পরীক্ষার প্রস্তুতি ছুটি চলছে। আবার অনেকে ডাকসুকে শুধুই রাজনৈতিক প্লাটফর্ম হিসেবে চিন্তা করেন। এজন্য মেয়েদের মধ্যে ভোট দিতে অনাগ্রহ কাজ করে।’
উমামা ফাতেমা বলেন, ‘আবার অনেকের পরিবার থেকে ফোন করে বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সেই জায়গা থেকে আমি মনে করি মেয়েদের ভোটকেন্দ্রে আনা একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আবার মেয়েদের ভোটকেন্দ্র হল থেকে দূরে দূরে রাখা হয়েছে। এতে ভোটারদের মধ্যে আগ্রহ কমবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘ছাত্রীরা সবাই যদি ভোট দিতে আসেন, তাহলে ভোটার অংশগ্রহণ ৩৫ হাজারের বেশি হয়ে যাবে। আমরা আশা করি, মেয়েরা ভোট দিতে আসবেন। আমরা তাদের উৎসাহিত করছি।’
ইশতেহার বাস্তবায়ন করা যাবে না, এমন কিছু রাখেননি বলে জানান উমামা ফাতেমা। ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক সংস্কারের রূপরেখা তৈরি করা দরকার। সেই জায়গায় প্রশাসন, সাধারণ শিক্ষার্থী এবং ছাত্রসংগঠনের মধ্যে একটি সামাজিক সংলাপ করার প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
এদিকে, ‘বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থী সংসদ’ প্যানেলের ভিপি প্রার্থী আব্দুল কাদের বলেছেন, আমরা নির্বাচিত হলে প্রথম কাজ হবে শিক্ষার্থীদের জন্য ‘ওয়ান বেড, ওয়ান স্টুডেন্ট’ সিস্টেম চালু করা। গতকাল দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয় একাত্তর হলের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘হলে সিট পেতে এলাকার বড় ভাইদের পিছে পিছে দৌড়াতে হয়। হল প্রশাসন একেবারে নীরব ভূমিকা পালন করে। আমরা এ সিস্টেমের বিলোপ ঘটাতে চাই।’
আব্দুল কাদের বলেন, ‘আমরা নির্বাচিত হলে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা করব—হলে রাজনীতি থাকবে কিনা। যদি হলে রাজনীতি থাকে তাহলে কোন প্রক্রিয়ায় চলবে সে বিষয়ে কাজ করবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমরা বিগত দিনে শিক্ষার্থীদের পাশে ছিলাম। ভোট চাইতে গেলে শিক্ষার্থীরা স্বপ্রণোদিত হয়ে আমাদের কাছে আসছেন।’ ভোটকেন্দ্র হলের আশপাশে না রেখে দূরে রাখা শিক্ষার্থীদের ভোট দিতে নিরুৎসাহিত করার জন্য করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন আব্দুল কাদের।
ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোটের’ ভিপি প্রার্থী আবু সাদিক কায়েমের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশন অপেশাদার আচরণ করছে। গতকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয় একাত্তর হলের সামনে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আমরা অনেকগুলো অভিযোগ দিয়েছি। তারা কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেনি। আমরা নিরাপদ ক্যাম্পাস গড়ার কথা বলছি, কিন্তু বহিরাগতদের এনে কীভাবে নিরাপদ ক্যাম্পাস হবে।’
তিনি বলেন, ‘দীর্ঘমেয়াদে আবাসন সংকট নিরসনে হল নির্মাণে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বাধ্য করব। স্বাস্থ্য ও খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করব। যে আশা নিয়ে আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিলাম সেই আশা পূরণ করব।’
ডাকসু নির্বাচন ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘৃণার বিষবাষ্প ছড়ানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) প্রার্থী তানভীর আল হাদী মায়েদ। তিনি বলেন, ‘এর মধ্য দিয়ে ক্যাম্পাসের গণতান্ত্রিক নির্বাচনী পরিবেশ বিঘ্ন হবে।’ গতকাল বিকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে এক ব্রিফিংয়ে এ মন্তব্য করেন তানভীর আল হাদী। এর আগে প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে অনলাইনে হেনস্তা, হয়রানি ও অপপ্রচারে লিপ্ত ফেসবুক গ্রুপ নিষিদ্ধকরণ ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানায় ছাত্রদল।
তানভীর আল হাদী মায়েদ বলেন, ‘আমরা দেখছি মাঠের রাজনীতিতে পেরে না উঠে শিক্ষার্থীদের মন জয় করতে ব্যর্থ হওয়ার পর অনেকেই অনলাইন প্লাটফর্মকে ব্যবহার করে অনেক সংগঠন ও ব্যক্তির বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছেন। এ ধরনের কার্যক্রম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের গণতান্ত্রিক নির্বাচনী পরিবেশকে বিঘ্নিত করবে। একাধিকবার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে অভিযোগ জানিয়েছি। আজকেও সেটির অগ্রগতি জানতে এসেছিলাম। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, এ বিষয়ে তারা কাজ করছে। নামে-বেনামে বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম ব্যবহারকারী গ্রুপগুলোর মডারেটর বা অ্যাডমিন যারা আছেন, তারা ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থী হওয়া সত্ত্বেও শিক্ষকদের প্রতি যথেষ্ট সম্মানসূচক আচরণ করছেন না।’
তানভীর আল হাদী মায়েদ বলেন, ‘শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য নয়, আমরা ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের যে ভোটাধিকার সেটাও যেন তারা শতভাগ প্রয়োগ করতে পারেন, সেই ধরনের পরিবেশ তাদের উপহার দিতে চাই।’