কারখানা বন্ধের প্রতিবাদে গাজীপুরে শ্রমিকদের মহাসড়ক অবরোধ

গাজীপুর মহানগরীর বাসন থানাধীন ভোগড়া এলাকায় একটি পোশাক কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণার প্রতিবাদে শ্রমিকরা ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ করে। এতে ব্যস্ত ওই মহাসড়কে প্রায় দুই ঘন্টা যান চলাচল বন্ধ হয়ে থাকে। এতে দীর্ঘ যানজটে আটকে যাত্রীরা চরম ভোগান্তির শিকার হন।
শনিবার (২২ মার্চ) সকাল ৮টার দিকে জায়ান্ট নীট ফ্যাশন লিমিটেড নামের ওই কারখানার শ্রমিকরা এ বিক্ষোভ শুরু করেন। কারখানা কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ শ্রম আইন অনুযায়ী সার্বিক নিরাপত্তা, কারখানার সম্পত্তি এবং জানমালের নিরাপত্তার স্বার্থে ফ্যাক্টরি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে।
পুলিশ ও শ্রমিক সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার শ্রমিকরা  ঈদ বোনাস এবং ঈদের ছুটি বাড়ানোসহ বেশ  কয়েকটি দাবি নিয়ে  আন্দোলন করে। এ সময় তারা কারখানায় হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর চালায় এবং কারখানার কয়েকজন কর্মকর্তাকে  মারধোর করে মারাত্মক আহত করে।  এ ঘটনার প্রেক্ষিতে মালিকপক্ষ শুক্রবার কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেন।
কারখানা বন্ধ ঘোষণার খবর শুনে  শনিবার সকাল ৮টার দিকে শ্রমিকরা প্রথমে চৌরাস্তা-জয়দেবপুর রোড অবরোধ করেন। এ সময় তারা কয়েকটি কারখানায় গিয়ে কর্তৃপক্ষকে ছুটি দিতে বাধ্য করে। পরে তারা মিছিল নিয়ে ভোগড়া বাইপাসের দিকে অগ্রসর হয়ে আশপাশের বেশ কয়েকটি কারখানাও ছুটি ঘোষণা করতে বাধ্য করে। শ্রমিকদের একটি বড় অংশ বর্ষা সিনেমা হলের সামনে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে।
খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। দীর্ঘ দুই ঘণ্টা পর, সকাল ১০টার দিকে সেনাবাহিনীর সদস্য ও শিল্প পুলিশের  হস্তক্ষেপে শ্রমিকরা অবরোধ তুলে নিলে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
উল্লেখ্য ,গত ২০ মার্চ ওই কারখানার শ্রমিকরা ঈদ বোনাস না দেওয়া এবং ১০ দিনের   ঈদের ছুটির দাবিতে কর্মবিরতি পালন করেন। দাবি আদায়ে তারা উত্তেজিত হয়ে কারখানার চারজন কর্মকর্তাকে মারধোর করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে যৌথবাহিনী চারজন শ্রমিককে আটক করলেও পরবর্তীতে ছেড়ে দেওয়া হয়।
গাজীপুর শিল্প পুলিশ-২ এর এএসপি ওয়াহিদুজ্জামান রাজু জানান, কারখানা বন্ধের প্রতিবাদে শ্রমিকরা আজকে অবরোধ কর্মসূচি পালন করে। শ্রমিকদের আন্দোলনের মুখে আট দশটি গার্মেন্টস কারখানা কর্তৃপক্ষ আজকের জন্য ছুটি ঘোষণা করতে বাধ্য হয়।
তিনি আরো জানান, কারখানাটির মালিক বি জি এম ই এ এর সাবেক সভাপতি ফারুক হোসেন। তিনি বর্তমানে দেশের বাইরে থাকায় ওনার সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তবে আমরা কারখানার ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চালাচ্ছি।