বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬, ০২:৩৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
সতেরো বছরের নিপীড়ন সয়ে রাজনীতি করার নজির বিশ্বে বিরল: টঙ্গীতে প্রতিমন্ত্রী নূরুল হক নুর গাজীপুরের নতুন জেলা প্রশাসক নুরুল করিম ভূঁইয়ার দায়িত্ব গ্রহণ গাজীপুরে ঘোড়া জবাই কালে আটক ৫, জব্দ করা হয়েছে ৯টি ঘোড়া সিংড়ায় শর্টপিস ক্রিকেট টুর্নামেন্ট ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত ঈদযাত্রায় কোনো অন্যায়ের সঙ্গে আপস নয় : আইজিপি পাটগ্রাম সড়ক দুর্ঘটনা: বাড়ি ফেরার পথে একই পরিবারের ৩ জন নিহত মুসলিম বিশ্বকে ইরানি নিরাপত্তা প্রধানের খোলা চিঠি কালীগঞ্জে যুব উন্নয়ন ও সমাজ কল্যাণ সংস্থার ঈদ উপহার বিতরণ ১৯ বছর পর চাকরি ফিরে পাচ্ছেন ৩৩০ পুলিশ সদস্য গাজীপুরে ভেটেরিনারি স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত

মুসলিম বিশ্বকে ইরানি নিরাপত্তা প্রধানের খোলা চিঠি

  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ, ২০২৬
  • ১৮ ভিজিটর
Larijani ইরানি নিরাপত্তা প্রধান
Larijani ইরানি নিরাপত্তা প্রধান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত ঘিরে উত্তেজনা বাড়ছে মধ্যপ্রাচ্যে। এই প্রেক্ষাপটে মুসলিম বিশ্বকে পাশে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলী লারিজানি।

ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান আলী লারিজানি এক খোলা চিঠিতে এই আহ্বান জানান। আরবি ভাষায় লেখা চিঠিটি ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত নিয়ে লারিজানির বার্তা

খোলা চিঠিতে আলী লারিজানি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান সংঘাত একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় নিয়েছে। এই সংঘাতে একদিকে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। অন্যদিকে রয়েছে প্রতিরোধী শক্তি।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র কোনো দেশের প্রতি বিশ্বস্ত নয়। একই সঙ্গে ইসরাইলকে মুসলিম বিশ্বের শত্রু হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

লারিজানি মুসলিম দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, এক মুহূর্ত থেমে অঞ্চলের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা করা উচিত। তিনি দাবি করেন, ইরান সব সময় মুসলিম দেশগুলোর প্রতি আন্তরিক।

তিনি আরও বলেন, ইরান কখনও অন্য দেশের ওপর আধিপত্য বিস্তার করতে চায় না। বরং পারস্পরিক সহযোগিতা এবং ঐক্যই তাদের লক্ষ্য।

মার্কিন-ইসরাইল আগ্রাসনের অভিযোগ

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত প্রসঙ্গে লারিজানি অভিযোগ করেন, ইরান বর্তমানে ‘মার্কিন-জায়নবাদী আগ্রাসনের’ শিকার।

তার মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানকে দুর্বল করার উদ্দেশ্যে এই যুদ্ধ শুরু করেছে। তিনি এটিকে একটি পরিকল্পিত সামরিক আগ্রাসন হিসেবে উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, এই কঠিন সময়ে মুসলিম দেশগুলোর সমর্থন খুবই সীমিত। যা ইরানের জন্য হতাশাজনক।

তবে লারিজানি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এই যুদ্ধ আগ্রাসী শক্তির জন্যই ক্ষতির কারণ হবে। তিনি জানান, ইরানের জনগণ অত্যন্ত সাহসী এবং দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।

ইরানের পাল্টা প্রতিরোধ

লারিজানি বলেন, ইরানের জনগণ সহজে আত্মসমর্পণ করবে না। তারা শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাবে।

ইরান ইতোমধ্যে পাল্টা প্রতিরোধ শুরু করেছে। বিভিন্ন স্থানে ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হচ্ছে।

পরমাণু সংলাপ ব্যর্থতার পর উত্তেজনা বৃদ্ধি

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের আগে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সংলাপ চলছিল। গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২১ দিন ধরে আলোচনা চলে।

এই সংলাপে অংশ নেয় তেহরান এবং ওয়াশিংটন। তবে কোনো সমঝোতা ছাড়াই ২৭ ফেব্রুয়ারি আলোচনা শেষ হয়।

সংলাপ ব্যর্থ হওয়ার পর পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি ঘটে। উত্তেজনা আরও বেড়ে যায় দুই দেশের মধ্যে।

সামরিক অভিযান শুরু যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের

সংলাপ শেষ হওয়ার পরদিন ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র সামরিক অভিযান শুরু করে। ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে এই অভিযান পরিচালিত হয়।

একই সময়ে ইসরাইল ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ নামে আরেকটি সামরিক অভিযান শুরু করে।

এই দুই অভিযানের মাধ্যমে ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালানো হয়।

মধ্যপ্রাচ্যে বিস্তৃত হচ্ছে সংঘাত

ইরান পাল্টা জবাব হিসেবে আঞ্চলিক বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা শুরু করে। বিশেষ করে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করা হয়।

সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং ওমানে অবস্থিত ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালানো হয়।

ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে দফায় দফায় এই হামলা চালানো হচ্ছে। বর্তমানে এই হামলা অব্যাহত রয়েছে।

আন্তর্জাতিক উদ্বেগ বাড়ছে

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, এই সংঘাত আরও বিস্তৃত হতে পারে।

মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা এখন বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে কূটনৈতিক সমাধানের ওপর জোর দিচ্ছে বিভিন্ন দেশ।

সূত্র: সিএনএন

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

Comments are closed.

এই বিভাগের আরও খবর