গাজীপুর প্রতিনিধি : গাজীপুরের কোনাবাড়ীতে ঈদ বোনাস, ছুটির টাকা ও চলতি মাসের অর্ধেক বেতনের দাবিতে কর্মবিরতি পালন করেছেন একটি পোশাক কারখানার প্রায় সাড়ে ৮ শতাধিক শ্রমিক।
বুধবার (১৯ মার্চ) সকাল সাড়ে ৮ টা থেকে কারখানার অভ্যন্তরে এ কর্মবিরতি শুরু করেন মহানগরীর কোনাবাড়ী জরুন এলাকায় অবস্থিত
স্বাধীন গার্মেন্টস লিঃ (আলিফ গ্রুপ) এর শ্রমিকরা।
শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঈদ বোনাস, গত বছরের বাৎসরিক ছুটির টাকা ও চলতি মাসের অর্ধেক বেতনের দাবিতে কারখানার অভ্যন্তরে তারা কর্মবিরতি পালন করছেন। গত কয়েক দিন ধরেই তারা এসব দাবিতে কর্মবিরতি পালন করে আসছেন। কিন্তু কর্তৃপক্ষ কোন সিদ্ধান্ত জানাচ্ছেনা। শ্রমিকরা বলেন,কর্তৃপক্ষ আমাদের দাবী দাওয়া পূরণ করাতো দূরের কথা তারা কারখানায় আসা বন্ধ করে দিয়ছেন। শ্রমিকরা বলছেন প্রতি বছর ঈদ আসলেই মালিক পক্ষ এমন তালবাহানা শুরু করেন।
স্বাধীন গার্মেন্টস লিঃ (আলিফ গ্রুপ) এর প্রিন্টিং সেকশনের ইনপুট ম্যান মোঃ রাকিবুল হাসান জানান, আমরা গত কয়েকদিন ধরেই ঈদ বোনাস, ছুটির টাকা, চলতি মাসের অর্ধেক বেতনের দাবিতে আন্দোলন করছি। কিন্ত কোন সূরাহা হচ্ছে না।
তিনি বলেন, অন্যান্য কারখানার শ্রমিকরা যখন
ঈদের কেনাকাটা নিয়ে ব্যস্ত তখন আমরা আন্দোলন নিয়ে ব্যস্ত। সারা বছর কাজ করে কোম্পানির জন্য। আর ঈদ আসলেই মালিক পক্ষ আমাদের সঙ্গে এমন আচরণ করেন।
স্যাম্পল ম্যান শামসুদ্দিন বলেন, স্টাফরা গত পাঁচ মাসের বকেয়া বেতন পাবে। কিন্তু তারাতো শ্রমিকদের মতো বলতে পারছেনা। সামনে ঈদ তাদেরও পরিবার পরিজন আছে। বউ বাচ্চা আছে। তিনি বলেন, সারা বছর কাজ করে যদি ঈদের সময় এমন হয়নির স্বীকার হতে হয় তাহলে এর চেয়ে দুঃখের আর কি হতে পারে?
স্বাধীন গার্মেন্টস লিঃ (আলিফ গ্রুপ) এর জেনারেল ম্যানেজার মোঃ সেলিম জানান, কারখানার মালিক পক্ষ চেষ্টা করছেন শ্রমিকদের পাওনাদি পরিশোধ করার জন্য। খুব শীঘ্রই তা পরিশোধ করা হবে।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন কোনাবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ নজরুল ইসলাম জানান,
স্বাধীন গার্মেন্টস লিঃ (আলিফ গ্রুপ) এর শ্রমিকরা
ঈদ বোনাস, গত বছরের বাৎসরিক ছুটির টাকা ও চলতি মাসের অর্ধেক বেতনের দাবিতে কর্মবিরতি
পালন করছে। তিনি বলেন,মালিক পক্ষের সঙ্গে কথা হয়েছে তারা বলছেন ২৫ মার্চ ঈদ বোনাস দিবে এবং ২৭ মার্চ চলতি মাসের অর্ধেক বেতন দিবে। কিন্তু শ্রমিকরা তা প্রত্যাক্ষান করে কর্ম বিরতি পালন করছেন। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে গাজীপুর মেট্রো পলিটন পুলিশ ও শিল্প পুলিশ মোতায়েন করা হয়। দুপুরের দিকে শ্রমিকরা কর্মবিরতি শেষ করে বাসায় চলে যায়।