রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:১৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
সন্তোষ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় হাই স্কুলে ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপের উদ্বোধন বিএনপি’তে কোনো মাদক ব্যবসায়ীর ঠাঁই নেই: গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বিশ্বের নিকৃষ্টতম অপরাধগুলোর মধ্যে গুম সবচেয়ে ভয়ংকর অপরাধ: প্রধানমন্ত্রী কাপাসিয়ায় জাহিদ নিখোঁজের তিনদিন পর লাশ মিলল নদীতে কালীগঞ্জে শ্বশুরকে কুড়ালের কোপে হত্যা, থানায় এসে আত্মসমর্পণ জামাইয়ের রাজধানীর বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে চীন, ২৫ টাকা দরে কিনবে সরকার : শাহে আলম জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় বম্বে সুইটসের মসলা এবং বাঘাবাড়ি ঘিসহ ১০টি পণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ গাজীপুরে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক সাইয়েদুর রহমানের ইন্তেকাল মহানবীর (সা) আদর্শ অনুসরণ করে শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

ভাওয়াল রেঞ্জে নাকের ডগায় সেগুন গাছ উজাড়ের মহোৎসব! অভিযোগের পরও বন বিভাগ রহস্যজনক নীরব

  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬
  • ৩৬ ভিজিটর

স্টাফ রিপোর্টার :গাজীপুরের ঐতিহাসিক ভাওয়াল বনাঞ্চলে আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে গাছ চোর ও বন খেকোদের দৌরাত্ম্য। এবার গাজীপুর সদর উপজেলার ভবানীপুর মৌজাস্থ ভবানীপুর ফরিদ মার্কেট সংলগ্ন এলাকায় প্রকাশ্যেই কেটে নেওয়া হচ্ছে মূল্যবান সেগুন গাছ। স্থানীয়দের অভিযোগ, বন বিভাগের গেজেটভুক্ত জমির বিশাল বিশাল সেগুন গাছ রাতের আঁধারে কেটে সাবাড় করছে একটি প্রভাবশালী চক্র। বিষয়টি একাধিকবার বন বিভাগকে জানানোর পরও তাদের ভূমিকা নিয়ে তৈরি হয়েছে রহস্য ও চরম ক্ষোভ।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ভবানীপুর ফরিদ মার্কেট সংলগ্ন নজরুল মাস্টারের বাড়ির পাশে সিএস দাগ নং ১১৯৪ ও ১১৯৫ এবং এসএ ১০৮০ ও আরএস ৬৩৯৫ দাগভুক্ত বন বিভাগের গেজেটভুক্ত এলাকায় গত কয়েকদিন ধরে ধারাবাহিকভাবে গাছ কাটা হচ্ছে। ওই এলাকায় থাকা প্রায় ১৮ থেকে ২০টি মূল্যবান সেগুন গাছের মধ্যে ইতোমধ্যে ১০ থেকে ১২টি গাছ কেটে নিয়ে গেছে চক্রটি।

স্থানীয় সচেতন মহল একাধিকবার বিষয়টি সিংড়াতলী ফরেস্ট অফিস ও ভাওয়াল রেঞ্জ কর্মকর্তাদের অবগত করলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এলাকাবাসীর দাবি, প্রথমদিকে বন বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে গাছ জব্দ করে অফিসে নেওয়ার আশ্বাস দিলেও বাস্তবে কোনো গাছ জব্দ করা হয়নি। বরং গত এক সপ্তাহ ধরে ধাপে ধাপে গাছ কেটে ট্রাকযোগে নির্দ্বিধায় সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, “আমরা ব্যবসায়ীদের কাছ থেকেই জানতে পেরেছি, পুরো বাগানটি প্রায় দুই লাখ টাকায় বিক্রি করা হয়েছে। বন বিভাগ সব জেনেও অদ্ভুতভাবে নিশ্চুপ ভূমিকা পালন করছে। বারবার ফোন দিলেও ভাওয়াল রেঞ্জ কর্মকর্তা ফোন ধরেননি।”

পরিবেশবিদদের মতে, ভাওয়াল বনাঞ্চল শুধু গাজীপুর নয়, পুরো মধ্যাঞ্চলের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় ফুসফুস হিসেবে কাজ করে। নির্বিচারে এভাবে বন উজাড়ের ফলে জীববৈচিত্র্য ধ্বংস, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নেমে যাওয়া, তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং পরিবেশ বিপর্যয়ের ঝুঁকি আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে।
স্থানীয় পরিবেশকর্মী ও সচেতন নাগরিকদের অভিযোগ, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভাওয়াল বনাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে প্রভাবশালী মহলের দখল, অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ ও গাছ কাটার ঘটনা বাড়লেও অনেক ক্ষেত্রে বন বিভাগের ভূমিকা ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। দায়সারা অভিযান ও রহস্যজনক নিষ্ক্রিয়তার সুযোগে কাঠখেকো সিন্ডিকেট দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।

পরিবেশ সচেতন মহলের অভিমত, একটি পূর্ণবয়স্ক সেগুন গাছ তৈরি হতে কয়েক দশক সময় লাগে। অথচ কিছু অসাধু ব্যক্তি আর প্রশাসনিক উদাসীনতার কারণে অল্প সময়েই ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে মূল্যবান বনসম্পদ। এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সবুজ পরিবেশ বলে কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না।

বাংলাদেশ বন আইন, ১৯২৭ অনুযায়ী সংরক্ষিত বনাঞ্চল বা গেজেটভুক্ত জমির গাছ অবৈধভাবে কর্তন, পরিবহন ও বিক্রি দণ্ডনীয় অপরাধ। এছাড়া পরিবেশ সংরক্ষণ আইনেও এ ধরনের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে জেল-জরিমানা ও ফৌজদারি মামলার বিধান রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে আইনের কার্যকর প্রয়োগ না থাকায় বন ধ্বংসকারীরা দিন দিন আরও সংগঠিত ও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।

গাছ কাটার বিষয়ে জানতে চাইলে সিংড়াতলী বিট কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, “এ গাছগুলো বাহিরের লোকজন বিক্রি করেছে। আমরা (বন বিভাগ) গিয়ে বাঁধা দিয়ে এসেছি। তারা আর কাটবে না বলে জানিয়েছে।”

তবে গাছগুলো কার মাধ্যমে বিক্রি করা হয়েছে কিংবা কারা কিনেছে— এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সদুত্তর দিতে পারেননি। তিনি বলেন, “কারা বিক্রি করছে আর কারা কাটছে তার কিছুই আমরা জানি না। ঘটনাস্থলে কয়েকজন শ্রমিককে পেয়েছিলাম, তাদেরকে কাটতে নিষেধ করা হয়েছে।”

বন বিভাগের নাকের ডগায় কীভাবে গেজেটভুক্ত জমির এত মূল্যবান সেগুন গাছ উজাড় হয়ে যায়— এখন সেই প্রশ্নই তুলছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এর পেছনে কোনো অদৃশ্য প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের শনাক্ত করে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা। একই সাথে অবশিষ্ট গাছগুলো রক্ষায় জরুরি অভিযান পরিচালনা এবং বন বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অবহেলার ভূমিকা খতিয়ে দেখার জোর দাবি জানানো হয়েছে।

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

Comments are closed.

এই বিভাগের আরও খবর