গাজীপুর প্রতনিধি : ‘ক্যান্সারের আগে সচেতন হও, সুস্থতার স্বপ্ন বুনে যাও’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে গ্রাম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের ক্যান্সার সম্পর্কে বৈজ্ঞানিক ও বাস্তবসম্মত ধারণা দিতে গাজীপুরে অনুষ্ঠিত হলো ক্যান্সার সচেতনতা কর্মশালা।
লাইফ সায়েন্স অ্যান্ড মেডিসিন রিসার্চ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে মঙ্গলবার (৩১শে মার্চ) সকাল ১০টা থেকে দুপুর পর্যন্ত গাজীপুর সদর উপজেলার শিরিরচালা পূর্বপাড়া এলাকার ইভেন্স মডেল স্কুলে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মশালায় ক্যান্সারের ঝুঁকি, প্রতিরোধের উপায়, প্রাথমিক লক্ষণ চিহ্নিত করা, স্বাস্থ্যকর জীবনধারা বজায় রাখা—এসব বিষয়ে মাল্টিমিডিয়া উপস্থাপনা, ভিডিও ডকুমেন্টারি, খোলা আলোচনাসভা ও প্রশ্নোত্তর পর্বের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মাঝে স্পষ্ট ধারণা তুলে ধরা হয়। এসময় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা গভীর মনোযোগ নিয়ে পুরো সেশন উপভোগ করেন।
এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতীশ দীপঙ্কর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও গবেষক এবং লাইফ সায়েন্স অ্যান্ড মেডিসিন রিসার্চ ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা ডা. রাফাতুল হক রিশাদ।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফাউন্ডেশনের আরেক উপদেষ্টা আনোয়ার হোসাইন।
এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখেন অতীশ দীপঙ্কর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও ফাউন্ডেশনের পরিচালক নাঈম হোসাইন, সভাপতি সিফাত হোসেন, যোগাযোগ বিষয়ক সম্পাদক সিয়াম শেখ, কার্যনির্বাহী সদস্য নওশীন ও সুমাইয়া মিমু।
অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সমাজসেবক সিদ্দিকুর রহমান আকন্দ, তরুণ সংগঠক আরমান সরকার ও মেহেদি হাসান প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে লাইফ সায়েন্স অ্যান্ড মেডিসিন রিসার্চ ফাউন্ডেশনের পরিচালক নাঈম হোসাইন বলেন, গ্রামাঞ্চলের শিক্ষার্থীরা ক্যান্সারের ঝুঁকি ও প্রাথমিক লক্ষণ সম্পর্কে না জানায় অনেক সময় বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ে। আমরা চাই তারা অল্প বয়স থেকেই সচেতন হোক, নিজের স্বাস্থ্য সম্পর্কে জানুক। এতে তারা নিজেরা যেমন সচেতন হবে, তেমনি সমাজেও সচেতনতা ছড়িয়ে দিতে পারবে। এছাড়াও আমরা প্রথম ধাপেই মাধ্যমিক পর্যায়ের ৫ হাজার শিক্ষার্থীকে স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন করে তুলবো। তবে ভবিষ্যতে দেশের প্রতিটি স্কুলে ক্যান্সার সচেতনতা কর্মসূচি বিস্তারের লক্ষ্য রয়েছে আমাদের।
কর্মশালায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা জানান, আগে ক্যান্সারকে শুধু ভয়ংকর রোগ হিসেবে চিনতেন। এই কর্মসূচির মাধ্যমে জানতে পেরেছেন—প্রাথমিক লক্ষণ জানা থাকলে এবং নিয়মিত স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তুললে অনেক ঝুঁকি এড়ানো যায়। তারা ভবিষ্যতেও এ ধরনের কর্মশালা আরো চান বলেও জানান।
ইভেন্স মডেল স্কুলের শিক্ষকরা বলেন, এ ধরনের কর্মশালা শিক্ষার্থীদের জন্য অত্যন্ত জরুরি। ছোটবেলা থেকেই স্বাস্থ্যসচেতনতা গড়ে না উঠলে ভবিষ্যতে তারা নিজেদের ঝুঁকি সম্পর্কে অন্ধকারেই থেকে যাবে। লাইফ সায়েন্স অ্যান্ড মেডিসিন রিসার্চ ফাউন্ডেশন আমাদের স্কুলে যে প্রয়াস নিয়েছে তা সত্যিই প্রশংসনীয়। দিনব্যাপী এ কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ ছিল উৎসাহব্যঞ্জক। বিশেষজ্ঞদের ব্যাখ্যা, গ্রুপ আলোচনা এবং উদাহরণভিত্তিক উপস্থাপনা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্যান্সার সম্পর্কে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করেছে।
আয়োজকরা জানান, খুব শিগগিরই গাজীপুরের আরও কয়েকটি স্কুলে দ্বিতীয় ধাপের কর্মশালা আয়োজন করা হবে। তাদের মতে, ক্যান্সার সম্পর্কে ভয় নয়—সঠিক ধারণা ও সচেতনতা তৈরিই এ কর্মশালার মূল উদ্দেশ্য।