গাজীপুরে পোশাক শ্রমিকদের মহাসড়ক অবরোধ,৪ ঘন্টা পর যান চলাচল শুরু

গাজীপুর প্রতিনিধি : গাজীপুর সদর উপজেলার বাঘের বাজারে একটি পোশাক কারখানার নারী শ্রমিক বুধবার সকালে সড়ক দূর্ঘটায় নিহতের জেরে ওই কারখানার শ্রমিকরা ঘাতক গাড়ির চালকের শাস্তিসহ নানা দাবিতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে। এসময় ওই মহাসড়কের বাঘের বাজার এলাকায় সব ধরণের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিলে শ্রমিকরা মহাসড়ক ছেড়ে দেয়। এতে প্রায় ৪ ঘন্টা পর দুপুরে ওই মহাসড়কে যানবাহন চলাচল শুরু হয়।
শিল্প পুলিশ ও শ্রমিক এবং স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকাল পৌণে ৬টার দিকে বাঘেরবাজার এলাকার গোল্ডেন রিফিট গার্মেন্টস্ লিমিটেড কারখানার কর্মী মোছা: জান্নাতুল (৩২) সকালে মহাসড়ক পার হওয়ার সময় অটোরিক্সার সাথে ধাক্কা লেগে মহাসড়কে পড়ে যায়। এতে তিনি মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত হন। পরে তাকে গুরুতর আহতাবস্থায় হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। নিহত মোছা. জান্নাতুল কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার বরচর গ্রামের ইসমাইল হোসেনের স্ত্রী। তিনি বাঘেরবাজার এলাকায় ভাড়া থেকে গোল্ডেন রিফিট গার্মেন্টস্ লিমিটেড কারখানায় সুইং অপারেটর হিসেবে চাকরি করতেন। তার মৃতুর খবর সহকর্মীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে তারা সকাল ৮টার দিকে বাঘেরবাজার এলাকায়  অবরোধ করে বিক্ষোভ করতে থাকে। এসময় নিহত শ্রমিকের ঘাতকের শাস্তি নিশ্চিত, দাফন কাফনের ব্যবস্থা পরিবারের ভরণ-পোষণের দাবি জানান। পাশাপাশি তারা ওই কারখানায় সার্বক্ষণিক এম্বুলেন্স রাখার ব্যবস্থা, শ্রমিকদের সিকিউরিটি গার্ড দিয়ে মহাসড়ক পারাপারের সহযোগিতা করা. অফিস টাইম সকাল ৭ টা থেকে বিকেল ৫ টা পর্যন্ত করা, ঈদের সময় ১০ দিন ছুটি দেওয়া এবং বিজিএমইএর নিয়ম অনুযায়ী নিয়মিত বেতন পরিশোধ করার দাবি জানিয়ে বিক্ষোভ ও মহাসড়ক অবরোধ অব্যাহত রাখেন। খবর পেয়ে শিল্প পুলিশ, থানা ও হাইওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে শ্রমিকদের বুঝিয়ে মহাসড়ক থেকে সরালে দুপুর ১২টার দিকে যানবাহন চলাচল শুরু হয়।
শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক বিজন মালাকার বলেন, ওই নারী শ্রমিককে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল।
গাজীপুর শিল্প পুলিশ-২ এর শ্রীপুর সাব জোনের ইনচার্জ মো. আব্দুল লতিফ খান বলেন, দুর্ঘটনায় ওই শ্রমিক নিহতের পর কারখানার শ্রমিকরা ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে। এ সময় তারা নিহত শ্রমিকের দাফন কাফনের ব্যবস্থা, ঘাতকের শাস্তি নিশ্চিত করণ, পরিবারের ভরণ-পোষণের দাবি জানান। পাশাপাশি তারা ওই কারখানায় সার্বক্ষণিক এ্যাম্বুলেন্স রাখার ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি করে। এছাড়া অন্যান্য দাবির মধ্যে রয়েছে সিকিউরিটি গার্ড দিয়ে শ্রমিকদের রাস্তা পারাপারে সহযোগিতা করা, ঈদের সময় ১০ দিন ছুটি দেওয়া. অফিসের সময় ৭টা-৫টা করা এবং বিজিএমইএর নিয়ম অনুযায়ী নিয়মিত বেতন পরিশোধ করা।
তিনি আরো বলেন, মহাসড়ক অবরোধের খবর পেয়ে গাজীপুর শিল্প ও জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে শ্রমিকদের দাবির বিষয়ে কারখানা কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলেন। পরে কর্মকর্তারা শ্রমিকদের দাবি কর্তৃপক্ষ মেনে নিয়েছে এমন আশ্বাস দিলে শ্রমিকরা মহাসড়ক থেকে অবরোধ তুলে নেন। পরে যানবাহন চলাচল শুরু হয়।